বাংলাদেশের প্রধান সাহিত্যিক মেলা একুশে বইমেলা নিয়ে প্রকাশকদের পক্ষ থেকে পুনঃনির্ধারণের প্রস্তাব উপস্থাপিত হয়েছে। প্রকাশক সমিতি শনিবার বাংলা একাডেমীর মহাপরিচালকের মাধ্যমে সংস্কৃতি উপদেষ্টার কাছে আবেদন পাঠায়, যেখানে নির্বাচনের পর মেলা শুরু করার সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়েছে।
বাংলা একাডেমি জানায়, ১৭ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত সভায় প্রকাশক প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করে ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে মেলা চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। সেই সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে মেলার প্রস্তুতি বর্তমানে চলমান।
এ পর্যন্ত পাঁচশতাধিক প্রকাশনা ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান মেলায় অংশগ্রহণের জন্য আবেদন করেছে। আয়োজনের দায়িত্বে থাকা কমিটি অন্তত ২৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হওয়ার কথা জানিয়েছে।
মেলা পরিচালনা কমিটির সদস্য-সচিব ও বাংলা একাডেমির সচিব সেলিম রেজা উল্লেখ করেন, নির্ধারিত তারিখে মেলা শুরু করার জন্য সকল প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি চলছে এবং কোনো পরিবর্তনের পরিকল্পনা নেই।
প্রকাশক সমিতি however, নির্বাচন শেষে মেলা অনুষ্ঠিত হলে আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকি বাড়বে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করে। তারা যুক্তি দেন, বর্তমান বাস্তবতা বিবেচনা করে মেলার তারিখ পুনরায় নির্ধারণ করা প্রয়োজন।
বহু ছাপাখানা নির্বাচনের কাজের ব্যস্ততায় বই মুদ্রণের সময়সূচি পেতে পারছে না; ফলে প্রকাশকরা পরিকল্পনা অনুযায়ী বই প্রকাশে বাধা অনুভব করছেন। এই পরিস্থিতি মেলায় অংশগ্রহণের প্রস্তুতিকে কঠিন করে তুলছে।
এছাড়া, রমজান ও ঈদের আগে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পাঠকদের বই ক্রয়ের আগ্রহ কতটা থাকবে তা অনিশ্চিত। দুই দশকের পর প্রথম জাতীয় নির্বাচন হওয়ায় এই বছর বিশেষ চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে পারে, তাই সরকারকে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে বলে প্রকাশকরা আশা প্রকাশ করেন।
দি ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহরুখ মহিউদ্দীন উল্লেখ করেন, মেলাটি একুশের চেতনা ধারণ করে সফল হতে হবে, তবে অধিকাংশ ছাপাখানা নির্বাচনের কাজের ব্যস্ততায় বই মুদ্রণের শিডিউল না পেয়ে আছেন। ফলে প্রকাশকদের জন্য বই প্রকাশের সময়সীমা সংকুচিত হয়েছে।
প্রকাশনা সংস্থা আদর্শের প্রধান নির্বাহী ও স্বত্বাধিকারী মাহাবুব রাহমান বলেন, নির্বাচনের পর ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে মেলা শুরু করা বাস্তবসম্মত নয়; তাই বাংলা একাডেমীকে এই বিষয়টি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তিনি পরামর্শ দেন, ঈদের পরে মেলা চালু করা অধিক উপযোগী হবে, যদিও ফেব্রুয়ারিতে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা থাকে, তবে তা মেলার প্রস্তুতিতে বাধা হবে না।
পাঠকরা যদি মেলায় অংশ নিতে চান, তবে পূর্বে প্রকাশকদের প্রকাশিত তালিকা ও সময়সূচি যাচাই করে পরিকল্পনা করা সুবিধাজনক। এছাড়া, রমজান ও ঈদের সময়সূচি মাথায় রেখে বই কেনার পরিকল্পনা করা হলে শেষ মুহূর্তের অপ্রত্যাশিত পরিবর্তন থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে।



