বিএনপি চেয়ারপার্সন তারেক রহমান আজ সন্ধ্যা প্রায় ৮:৩০ টায় কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে সমাবেশে ভোটের দিন পর্যন্ত ভোটকেন্দ্র ও ব্যালট বক্স রক্ষার আহ্বান জানিয়ে বলেন, কোনো ষড়যন্ত্রের সুযোগ না থাকে।
তিনি উপস্থিত নেতা ও কর্মীদের জোর দিয়ে বলেন, ভোট শেষ না হওয়া পর্যন্ত কেন্দ্র ও বাক্সের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সকলের তৎপরতা প্রয়োজন।
তারেকের মন্তব্যে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “কোনো ব্যক্তি যদি ভোটের সঙ্গে কোনো চক্রান্ত করতে চায়, তা রোধের জন্য আপনাদেরকে কেন্দ্র রক্ষা করতে হবে।”
এছাড়া তিনি সক্রিয় কর্মীদের তহাজ্জুদ নামাজের পরে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ফজর নামাজ আদায়ের নির্দেশ দেন, যাতে ধর্মীয় অনুশীলন ও ভোটের দায়িত্ব একসাথে পালন করা যায়।
তাঁরেক বলেন, “ভোটের দিন তহাজ্জুদ নামাজ করুন, তারপর ভোটকেন্দ্রে যান এবং সেখানে ফজর নামাজ করুন।” এই নির্দেশনা কর্মীদের মধ্যে ধর্মীয় শৃঙ্খলা বজায় রেখে ভোটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।
বিএনপি চেয়ারপার্সন অতিরিক্তভাবে উল্লেখ করেন, দলটি বহুবার দেশের শাসন পরিচালনা করেছে এবং সেই অভিজ্ঞতা থেকে ভোটের সময় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব।
গত দুই-তিন দিনে কিছু গোষ্ঠী বিএনপি-কে জনগণকে ধোঁকা দেওয়া এবং কেবল কৃষক কার্ড, পরিবার কার্ড, খাল-খুঁড়ি প্রকল্পের কথা বলার অভিযোগ তুলেছে।
তারেক এসব অভিযোগকে অযৌক্তিক বলে খণ্ডন করে বলেন, “এগুলো কেবল ঈর্ষা, কারণ তারা জনগণের জন্য কিছু বাস্তব কিছু উপস্থাপন করতে পারেনি। তাদের দেশের শাসনের অভিজ্ঞতা নেই, তাই তারা অযথা কথা বলে।” তিনি এভাবে বিরোধী দলের মন্তব্যকে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা হিসেবে তুলে ধরেন।
পরিবার কার্ডের বিষয়ে তিনি স্পষ্ট করে জানান, সহায়তা পুরো মাসের জন্য নয়, বরং সাত থেকে দশ দিন পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকবে।
তারেক ব্যাখ্যা করেন, “আমরা কখনো বলিনি পুরো মাসে পরিবারকে সবকিছু দিতে পারব। একটি মাসে চার সপ্তাহ থাকে; যদি আমরা কর্মীদের সাত থেকে দশ দিন সহায়তা করতে পারি, তা তাদের জন্য যথেষ্ট উপকারি হবে।” এই বক্তব্যে তিনি বাস্তবসম্মত সহায়তার সময়সীমা তুলে ধরেছেন।
এই নির্দেশনা ভোটের দিন আগের শেষ মুহূর্তে দেওয়া হয়েছে, যা দলের সংগঠনকে ভোটকেন্দ্র রক্ষায় ত্বরান্বিত করবে এবং সম্ভাব্য কোনো অনিয়মের প্রতিরোধে সহায়তা করবে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, বিএনপি এই ধরনের ধর্মীয় ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত আহ্বান দিয়ে ভোটের দিন সক্রিয় উপস্থিতি নিশ্চিত করতে চায়, যা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



