গুলশান, ঢাকা – গুলশানের ১৪০ নম্বর সড়কের নির্মাণাধীন ২৫ তলা ভবনের কাজের সময় একটি রড পড়ে বেসরকারি সংস্থার কর্মকর্তা আশফাকুজ্জামান চৌধুরীর মাথায় আঘাত হানার ফলে তিনি ইউনাইটেড হাসপাতালের আগেই মৃত্যুবরণ করেন। ঘটনা ঘটেছে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে, যখন তিনি সহকর্মীর সঙ্গে গুলশান ক্রিস্টাল প্লেস ভবনের সামনের ফুটপাথে কথা বলছিলেন। রডটি উপরের কাজের জায়গা থেকে পড়ে তার মাথায় আঘাত হানার সঙ্গে সঙ্গে তিনি শ্বাসরুদ্ধ হয়ে যান।
মৃত্যুর পরপরই শ্বশুর সিরাজুল ইসলাম তালুকদার গুলশান থানা-তে অবহেলাজনিত মৃত্যুর অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। অভিযোগে কনকর্ড গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহরিয়ার কামাল, চেয়ারম্যান এস এম কামাল উদ্দিন এবং প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা আল আমিনসহ অজানা ১০-১২ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তালুকদার দাবি করেন, নির্মাণাধীন ভবনের কাজের সময় যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা না নেওয়ায় রডটি পড়ে তার জামাতার প্রাণহানি ঘটেছে।
মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে যে রডটি ১ নম্বর প্লটে, ১৪০ নম্বর সড়কের অপর পাশে, নির্মাণাধীন ভবনের কাজের সময় নিরাপত্তা সতর্কতা না থাকায় পড়ে। শ্বশুরের মতে, এই ঘটনা ‘চূড়ান্ত অবহেলা’ এবং ‘অপরাধমূলক গাফলতি’ হিসেবে বিবেচিত হওয়া উচিত, যা শাস্তিযোগ্য অপরাধের আওতায় পড়ে। তিনি আরও বলেন, পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী মৃত্যুবরণ করার ফলে পুরো পরিবার শোকাহত এবং ১১ বছর বয়সী নাতনির ভবিষ্যৎ কীভাবে নিশ্চিত হবে তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
কনকর্ড গ্রুপের পক্ষ থেকে ঘটনাটির সঙ্গে তাদের কোনো সরাসরি সংযোগ নেই বলে দাবি করা হয়েছে। গ্রুপের প্রতিনিধিরা উল্লেখ করেন, কোনো পক্ষ তাদের প্রতিষ্ঠানের ওপর ‘মিথ্যা দায়’ চাপানোর চেষ্টা করছে এবং তারা আইনি পথে নিজেদের রক্ষা করবে। গ্রুপের এই বিবৃতি মামলায় নামকরা তিনজনের বিরুদ্ধে কোনো তদন্তমূলক পদক্ষেপ নেওয়া না হওয়ার অভিযোগের সঙ্গে বিরোধপূর্ণ।
শ্বশুর সিরাজুল তালুকদার গুলশান থানা-তে দায়ের করা অভিযোগে উল্লেখ করেছেন, রডটি পড়ার সময় নির্মাণস্থলে কোনো সুরক্ষা জাল বা সতর্কতা চিহ্ন স্থাপন করা হয়নি। তিনি বলেন, রডটি ‘অবৈধভাবে’ ঝুলে ছিল এবং কাজের সময় কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তার মতে, এই ধরনের অবহেলা শুধুমাত্র মানবিক দায়িত্বের লঙ্ঘন নয়, বরং আইনি দায়িত্বেরও লঙ্ঘন।
মামলার পরিপ্রেক্ষিতে গুলশান থানা-র এসআই আজিজ মাহমুদ জানান, ঘটনাটির তদন্ত এখনও চলমান। তিনি উল্লেখ করেন, পুলিশ দল রডের উৎস, কাজের সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট কর্মীদের বিবরণ সংগ্রহের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে। তবে তিন দিনের বেশি সময়ে কোনো গ্রেপ্তার বা আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি, যা শ্বশুরের অভিযোগে উল্লেখিত।
গুলশান থানা-র তদন্তকর্তা আরও জানিয়েছেন, রডের উৎপত্তি স্থল এবং নির্মাণস্থলের নিরাপত্তা নথি যাচাই করা হচ্ছে। তারা সংশ্লিষ্ট নির্মাণ সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ণয় করার চেষ্টা করছে। তদন্তের ফলাফল আদালতে উপস্থাপন করা হবে এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শ্বশুর সিরাজুল তালুকদার মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে উদ্বিগ্ন হয়ে গুলশান থানা-র কর্মকর্তাদের সঙ্গে বহুবার যোগাযোগের চেষ্টা করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, তার একমাত্র সন্তান বিধবা হয়ে গেছেন এবং পরিবারের আর্থিক দায়িত্ব এখন তার কন্যার ওপর নিক্ষিপ্ত হয়েছে। তিনি আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি, নির্মাণ সংস্থার নিরাপত্তা নীতি কঠোরভাবে অনুসরণ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
কনকর্ড গ্রুপের প্রতিনিধিরা আবারও জোর দিয়ে বলেন, রডের পতনের সঙ্গে তাদের কোনো সরাসরি দায়িত্ব যুক্ত নয় এবং তারা মামলায় উল্লেখিত অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে প্রস্তুত। তারা দাবি করেন, নির্মাণ কাজের সময় নিরাপত্তা মানদণ্ড অনুসরণ করা হয় এবং কোনো অবহেলা ঘটেনি। তবে শ্বশুরের অভিযোগে উল্লেখিত ‘মিথ্যা দায়’ চাপানোর অভিযোগের প্রতিক্রিয়ায় তারা আইনি পথে সাড়া দেবেন।
গুলশান থানা-র এসআই আজিজ মাহমুদ তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে জানিয়েছেন, রডের উৎপত্তি স্থল এবং নির্মাণস্থলের নিরাপত্তা নথি যাচাই করা হচ্ছে। তারা সংশ্লিষ্ট নির্মাণ সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ণয় করার চেষ্টা করছে। তদন্তের ফলাফল আদালতে উপস্থাপন করা হবে এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই ঘটনার পর গুলশানের স্থানীয় বাসিন্দা এবং কর্মীরা নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রতি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা দাবি করছেন, ভবন নির্মাণের সময় সড়ক ও ফুটপাথের ব্যবহারকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা উচিত এবং কোনো রকম অবহেলা না করা উচিত। স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে এবং ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা রোধে কঠোর নিয়মাবলী প্রয়োগ করতে আহ্বান জানানো হয়েছে।
মামলাটি বর্তমানে গুলশান থানা-র অধীনে চলমান এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের আইনি প্রতিনিধিরা আদালতে তাদের যুক্তি উপস্থাপন করবেন। শ্বশুর সিরাজুল তালুকদার দাবি করেন, তদন্ত দ্রুত শেষ হয়ে দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তি নিশ্চিত করা হোক, যাতে অন্যায়ের পুনরাবৃত্তি রোধ করা যায়।
গল্পের মূল বিষয় হল, নির্মাণস্থলে নিরাপত্তা ব্যবস্থার অভাবের ফলে এক বেসরকারি কর্মকর্তার প্রাণহানি ঘটেছে এবং তার শ্বশুরের দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধে অবহেলাজনিত মৃত্যুর অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছে। মামলার অগ্রগতি এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রতিক্রিয়া ভবিষ্যতে নির্মাণ নিরাপত্তা নীতির ওপর প্রভাব ফেলবে।



