কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলায় রবিবার রাতের নির্বাচনী জনসভার প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে বিএনপি চেয়ারপার্সন তারেক রহমান দেশের মানুষকে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সক্ষমতা সম্পর্কে স্পষ্ট বার্তা দেন। তিনি উল্লেখ করেন, বিএনপি সরকারে ফিরে গেলে পরিবারিক সুবিধা, কর্মসংস্থান ও সামাজিক সেবা প্রদান করতে প্রস্তুত, এবং এইসব পদক্ষেপ ধাপে ধাপে কার্যকর করা হবে।
রহমানের বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল, সরকারী দায়িত্ব গ্রহণের পর পরিবারিক কার্ড বিতরণ, ভাষা শিক্ষা মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং নারীদের জন্য ক্ষুদ্রঋণ ব্যবস্থা চালু করা। তিনি বলেন, এই উদ্যোগগুলো নারী কর্মশক্তিকে সক্রিয় করে তুলবে এবং গৃহস্থালির আয় বাড়াবে।
কম্পিউটার প্রশিক্ষণকে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে তুলে ধরে, তিনি জানান, প্রশিক্ষণ শেষে অতিরিক্ত আয়ের সুযোগ তৈরি হবে, যা গৃহিণী ও যুবকদের জন্য নতুন উপার্জনের পথ খুলে দেবে। এছাড়া, ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের জন্য বেতন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার পরিকল্পনাও তিনি উল্লেখ করেন, যা ধর্মীয় কর্মীদের আর্থিক নিরাপত্তা বাড়াবে।
বিএনপি নেতারা যারা সরকারের সমালোচনা করছেন, তাদের অভিজ্ঞতার অভাবের দিকে ইঙ্গিত করে, তিনি বলেন, সমালোচকরা দেশের পরিচালনায় প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা উপস্থাপন করেননি। তাই, প্রথম সরকার গঠন হলে কী কী নীতি গ্রহণ করা হবে, তা স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করা জরুরি, তিনি যুক্তি দেন।
প্রস্তাবিত পরিকল্পনাগুলোকে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে বলে তিনি জোর দেন, এবং ৫ আগস্টের পর জনগণ যে পরিবর্তন চেয়েছিল, তা বাস্তবায়নের জন্য কাজ শুরু হবে। এই সময়সূচি অনুযায়ী, পরিবারিক সুবিধা, নারী ঋণ, কম্পিউটার প্রশিক্ষণ ও ধর্মীয় কর্মীদের বেতনসহ বিভিন্ন সেবা একে একে চালু হবে।
রহমানের আরেকটি উল্লেখযোগ্য মন্তব্য ছিল, ভোটের সময় ধর্মীয় দায়িত্ব পালনকে গুরুত্ব দিয়ে, তিনি বলেন, তহাজ্জুদের নামাজ শেষ করে তিনি ভোটকেন্দ্রের সামনে দাঁড়াবেন এবং ভোট শুরুর পর শেষ পর্যন্ত উপস্থিত থাকবেন, যাতে ভোটের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় এবং কোনো ধরণের ভোট ডাকাতি না হয়।
বিএনপি নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চৌদ্দগ্রাম উপজেলার সভাপতি ও কুমিল্লা‑১১ আসনের প্রার্থী কামরুল হুদা, যিনি সমাবেশের আয়োজনের দায়িত্বে ছিলেন। এছাড়া, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলার ছয়টি আসনের প্রধান নির্বাচন সমন্বয়ক আমিন উর রশিদ ইয়াছিন এবং জেলা BNP সভাপতি জাকারিয়া তাহের সুমনও উপস্থিত ছিলেন।
সমাবেশে উপস্থিত অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে, এই নেতারা ভবিষ্যৎ নির্বাচনের জন্য কৌশল নির্ধারণ এবং ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপনের গুরুত্বের ওপর জোর দেন। তারা উল্লেখ করেন, ভোটের পর বিজয়ী হলে চৌদ্দগ্রাম এলাকায় খাল খননের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা হবে, যা স্থানীয় কৃষি ও পরিবহন ব্যবস্থার উন্নতিতে সহায়ক হবে।
বিএনপি চেয়ারপার্সন তারেক রহমানের এই বক্তৃতা, পার্টির নির্বাচনী কৌশল ও নীতি নির্ধারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তিনি পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য সরকারের সম্পদ ও প্রশাসনিক দক্ষতা ব্যবহার করা হবে, এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে।
বিএনপি নেতাদের মতে, এই ধরনের সরাসরি জনসভার মাধ্যমে ভোটারদের সঙ্গে সংলাপ স্থাপন করা, পার্টির নীতি ও পরিকল্পনা স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করার একটি কার্যকর পদ্ধতি। তারা আশা প্রকাশ করেন, ভোটাররা এই প্রতিশ্রুতিগুলোকে বাস্তবায়নের জন্য পার্টির প্রতি আস্থা রাখবেন।
অবশেষে, তারেক রহমানের বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়েছে, সরকারে ফিরে গেলে পরিকল্পনা ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে, এবং ৫ আগস্টের পর জনগণ যে পরিবর্তন চেয়েছিল, তা দ্রুত বাস্তবায়িত হবে। এই ঘোষণার পর, সমাবেশে উপস্থিত অংশগ্রহণকারীরা পার্টির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও নির্বাচনী প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা চালিয়ে গেছেন।



