ক্যাথি ইয়ানের পরিচালিত নতুন চলচ্চিত্র ‘দ্য গ্যালারিস্ট’ সান্ডান্স ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে প্রিমিয়ার হয়েছে। নাতালি পোর্টম্যান, জেনা অর্টেগা, ডা’ভাইন জয় র্যান্ডলফ এবং ক্যাথরিন জেটা-জোন্স প্রধান ভূমিকায় অভিনয় করেছেন। চলচ্চিত্রটি আধুনিক শিল্প জগতের ধন-সম্পদ, অহংকার এবং পৃষ্ঠপোষকতার ওপর তীক্ষ্ণ ব্যঙ্গাত্মক দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করার লক্ষ্য রাখে, তবে সমালোচকরা এটিকে অগোছালো ও নিষ্প্রাণ বলে উল্লেখ করেছেন।
পোর্টম্যানের চরিত্র পলিনা পোলিনস্কি, সম্প্রতি তালাকপ্রাপ্ত এক মিয়ামি গ্যালারির মালিক। তিনি আর্ট বাসেল নামে আন্তর্জাতিক শিল্প মেলায় নিজের নাম গড়ে তুলতে চায়, যেখানে ধনী সংগ্রাহকরা উচ্চমূল্যের শিল্পকর্মের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। পলিনার লক্ষ্য হল তার গ্যালারিকে শিল্পের শীর্ষে নিয়ে যাওয়া, যদিও তার পদ্ধতি প্রায়শই তীক্ষ্ণ এবং আত্মবিশ্বাসী।
একটি অপ্রিয় ইনফ্লুয়েন্সারের সঙ্গে অপ্রত্যাশিত সংঘর্ষের পর, সেই ব্যক্তি দুর্ঘটনাক্রমে একটি ভাস্কর্যের ধারালো শীর্ষে আঘাত পায় এবং মরণোত্তরভাবে মাটিতে পতিত হয়। ভাস্কর্যটি পলিনার সমর্থিত শিল্পীর কাজ, যার সাফল্য গ্যালারির ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে। এই অপ্রত্যাশিত ঘটনার ফলে গ্যালারির জন্য একটি অস্বাভাবিক সুযোগ সৃষ্টি হয়।
পলিনা দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয় যে মৃত দেহটি পুনর্বিন্যাস করে, শিরোনাম পরিবর্তন করে এবং এটিকে পুরুষত্বের ওপর সমালোচনামূলক মন্তব্য হিসেবে উপস্থাপন করবে। তিনি দেহকে শিল্পকর্মের অংশ হিসেবে সাজিয়ে, দর্শকদের সামনে একটি নতুন ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেন, যা তার গ্যালারির সুনাম বাড়াবে বলে তিনি আশাবাদী।
পলিনার পাশে কাজ করে তার নার্ভাস সহকারী কিকি, যাকে জেনা অর্টেগা অভিনয় করেছেন। কিকি তার বুদ্ধি ও তীক্ষ্ণ পর্যবেক্ষণ দিয়ে পলিনার পরিকল্পনায় সহায়তা করে, যদিও তার নিজস্ব উদ্বেগ এবং অনিশ্চয়তা প্রায়ই পরিস্থিতি জটিল করে তোলে। ডা’ভাইন জয় র্যান্ডলফ এবং ক্যাথরিন জেটা-জোন্সও ছবিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন, যা গল্পের গতি ও টোনকে সমৃদ্ধ করে।
চলচ্চিত্রের দৈর্ঘ্য এক ঘণ্টা আটত্রিশ মিনিট, যা আধুনিক শিল্পের জটিলতা ও ব্যঙ্গকে সংক্ষিপ্তভাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করে। সান্ডান্সে প্রিমিয়ার হওয়ার পর, চলচ্চিত্রটি শিল্প জগতের অভ্যন্তরীণ গতি-প্রকৃতি, ধন-সম্পদের লোভ এবং পৃষ্ঠপোষকতার অস্বস্তিকর বাস্তবতা তুলে ধরতে চেয়েছে। তবে, সমালোচকদের মতে, এই প্রচেষ্টা বাস্তবায়নে চলচ্চিত্রটি কাঠামোগতভাবে দুর্বল এবং হাস্যরসের তীক্ষ্ণতা কমে গেছে।
বহু সমালোচনামূলক রিভিউতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, চলচ্চিত্রের ব্যঙ্গাত্মক দিকটি কাগজে চমৎকার দেখালেও পর্দায় তা অপ্রতুল এবং নিষ্প্রাণ রয়ে গেছে। পোর্টম্যানের অভিনয়কে যদিও প্রশংসা করা হয়েছে, তবে গল্পের প্রবাহ ও সংলাপের স্বাভাবিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। বিশেষ করে, শিল্প জগতের অতিরিক্ত অহংকার ও লোভকে তুলে ধরার জন্য ব্যবহৃত দৃশ্যগুলোকে অতিরিক্ত নাটকীয় এবং বাস্তবতার থেকে বিচ্ছিন্ন বলে সমালোচকরা মন্তব্য করেছেন।
সারসংক্ষেপে, ‘দ্য গ্যালারিস্ট’ একটি শিল্প-সংক্রান্ত ব্যঙ্গাত্মক চলচ্চিত্র, যা আধুনিক গ্যালারি ব্যবসার পৃষ্ঠপোষকতা ও নৈতিক দ্বন্দ্বকে চিত্রিত করার চেষ্টা করেছে। তবে, চলচ্চিত্রের গতি, সংলাপের তীক্ষ্ণতা এবং ব্যঙ্গের গভীরতা প্রত্যাশিত মাত্রা পূরণ করতে পারেনি, ফলে এটি একটি ‘লিম্প’ কাজ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
ফিল্মটি শিল্প জগতের অতিরিক্ততা ও পৃষ্ঠপোষকতার সমস্যাকে তুলে ধরার পাশাপাশি, গ্যালারির মালিকদের মুখোমুখি হওয়া নৈতিক দ্বিধা ও বাণিজ্যিক চাপে কীভাবে সাড়া দেয় তা অনুসন্ধান করে। যদিও ধারণা ও থিমগুলো আকর্ষণীয়, বাস্তবায়নের দিক থেকে চলচ্চিত্রটি পর্যাপ্ত প্রভাব ফেলতে ব্যর্থ হয়েছে, যা ভবিষ্যতে একই ধরণের বিষয়বস্তু নিয়ে কাজ করা নির্মাতাদের জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করতে পারে।



