রবিবার দুপুরে রাজবাড়ি জেলা আদালতের চত্বরে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান শোনার পর বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে পাঁচজনকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। গ্রেপ্তারকৃত পাঁচজনের নাম জানানো হয়েছে – জনি, পরশ, মঞ্জিল, তাইস এবং সাজ্জাদ। এ সকলকে বর্তমানে মামলার আসামি হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারগুলো ঘটার মুহূর্তে আদালতে একটি মামলার হজিরা চলছিল। রাজবাড়ি জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. শাহিন শেখ, যিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা মামলাসহ অন্যান্য মামলার আসামি, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিদেশে যাওয়ার পথে গ্রেপ্তার হন। হজিরা চলাকালীন তিনি আদালতে উপস্থিত হন, তখনই কিছু যুবক ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে শৃঙ্খলা ভাঙার চেষ্টা করে।
অধিকাংশ সময় আদালতে শৃঙ্খলা বজায় রাখা জরুরি, তবে ওই মুহূর্তে স্লোগান শোনার পর উপস্থিত কয়েকজনের আচরণকে অশান্তিকর বলে পুলিশ গ্রেফতার কার্যক্রম চালায়। গ্রেপ্তারকৃত পাঁচজনকে সঙ্গে সঙ্গে আদালতের বাইরে নিয়ে গিয়ে জেলবন্দি করা হয়। গ্রেপ্তারগুলোকে নিয়ে পুলিশ ওসির (অফিসার ইন চার্জ) জিয়াউর রহমানের মতে, ‘জয় বাংলা’ স্লোগানটি শোনার পরই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির ইচ্ছা প্রকাশ পায়, তাই তা রোধে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
ওসি জিয়াউর রহমান উল্লেখ করেন, গ্রেপ্তারকৃত পাঁচজনের পাশাপাশি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা মামলাও এখনও চলমান। তিনি বলেন, এই মামলাগুলোতে সংশ্লিষ্ট সকলকে আইনের আওতায় ন্যায়সঙ্গত বিচার নিশ্চিত করা হবে। বর্তমানে গ্রেপ্তারকৃত পাঁচজনের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আদালতে শোনার জন্য নির্ধারিত তারিখ জানানো হয়েছে।
মো. শাহিন শেখের গ্রেপ্তারও একই দিনে ঘটেছে। তিনি বিদেশে যাওয়ার পথে বিমানবন্দরে আটক হন এবং হজিরা চলাকালীন আদালতে উপস্থিত হন। তার গ্রেপ্তারকে নিয়ে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে, এবং সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোতে আদালত তার উপস্থিতি নিশ্চিত করবে।
রাজবাড়ি থানার ওসি জিয়াউর রহমানের মতে, গ্রেপ্তারকৃত পাঁচজনের বিরুদ্ধে ‘বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা’ এবং ‘অবৈধ স্লোগান শোনার মাধ্যমে আদালতের শৃঙ্খলা লঙ্ঘন’ এর অভিযোগে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা মামলায়ও তদন্ত চলমান, যা ভবিষ্যতে আদালতে শোনার জন্য নির্ধারিত।
এই ঘটনার পর, রাজবাড়ি জেলা আদালতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানো হয়েছে। পুলিশ আদালতের চারপাশে অতিরিক্ত গার্ড স্থাপন করেছে এবং ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনা রোধে কঠোর নজরদারি বজায় রাখবে। আদালতের কর্মকর্তারা জানান, আদালতে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং বিচারিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা তাদের প্রধান দায়িত্ব।
অধিক তথ্যের জন্য সংশ্লিষ্ট আইনগত প্রক্রিয়া এবং আদালতের শোনার তারিখের আপডেটের অপেক্ষা করা হবে। সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে আইনের অধীনে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



