বাংলাদেশ সরকার রোববার নিরাপত্তা কর্মসূচি উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরের সামাজিক নিরাপত্তা পরিকল্পনার আওতা ও ভাতা হার অনুমোদন করেছে। সভার সভাপতিত্ব করেছেন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ। এতে বয়স্ক ভাতা, বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা, প্রতিবন্ধী ভাতা এবং বিভিন্ন শিক্ষাবৃত্তির নতুন হার নির্ধারিত হয়।
বয়স্ক ভাতা কার্যক্রমে উপকারভোগীর সংখ্যা এক লাখ বৃদ্ধি পেয়ে মোট ৬২ লাখে পৌঁছেছে। এর মধ্যে ৫৯ লাখ ৯৫ হাজার বয়স্ক ব্যক্তি মাসিক ৬৫০ টাকার বদলে ৭০০ টাকা পাবেন, আর ৯০ বছর ঊর্ধ্বে ২,৫০০ জনকে ১,০০০ টাকা ভাতা প্রদান করা হবে।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা ২,৯০,০০০ বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা মধ্যেও একই রকম বৃদ্ধি করা হয়েছে। ২,৮৭৫,০০০ জনকে ৬৫০ টাকার বদলে ৭০০ টাকা মাসিক ভাতা দেওয়া হবে, আর ৯০ বছর ঊর্ধ্বে ২৫,০০০ জনকে ১,০০০ টাকা ভাতা দেওয়া হবে।
প্রতিবন্ধী ভাতা ক্ষেত্রে মোট ৩৬ লাখ ব্যক্তির মধ্যে ৩৫ লাখ ৮১ হাজার ৯০০ জনকে মাসিক ৯০০ টাকা এবং ৯০ বছর ঊর্ধ্বে ১৮,১১০০ জনকে ১,০০০ টাকা ভাতা প্রদান করা হবে। যদিও ভাতা হার বৃদ্ধি করা হয়নি, তবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৩৪ লাখ ৫০ হাজার প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ভাতা পাচ্ছিলেন, এখন আওতা বিস্তৃত হয়ে আরও বেশি মানুষকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি/মেধাবৃত্তির মাসিক হার ৫০ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে। প্রাথমিক স্তরে ৯৫০ টাকা, মাধ্যমিক স্তরে ১,০০০ টাকা, উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে ১,১০০ টাকা এবং উচ্চতর স্তরে ১,৩৫০ টাকা প্রদান করা হবে।
অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন কার্যক্রমে উপকারভোগীর সংখ্যা ৭,০০০ জন বৃদ্ধি পেয়ে মোট ২,২৮,৩৮৯ জনে পৌঁছেছে। এদের মাসিক ভাতা ৬৫০ টাকার বদলে ৭০০ টাকায় উন্নীত করা হয়েছে।
অনগ্রসর শিক্ষার্থীদের বৃত্তি/মেধাবৃত্তি প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩,১৯৮ জন বৃদ্ধি পেয়ে মোট ৪৫,৩৩৮ জনে পৌঁছেছে। তাদের মাসিক বৃত্তি প্রাথমিক স্তরে ৭০০ টাকা, মাধ্যমিক স্তরে ৮০০ টাকা, উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে ১,০০০ টাকা এবং উচ্চতর স্তরে ১,২০০ টাকা নির্ধারিত হয়েছে।
এই পদক্ষেপগুলোকে সামাজিক নিরাপত্তা জালকে শক্তিশালী করার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বয়স্ক, বিধবা, স্বামী নিগৃহীতা এবং প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর আর্থিক সহায়তা বৃদ্ধি করে দারিদ্র্য হ্রাস এবং জীবনমান উন্নয়নে অবদান রাখবে বলে সরকার আশাবাদী।
গত মাসে প্রকাশিত নতুন বাড়ি ভাড়া নীতি (২০২৬-০১-২০) অনুসারে, সরকার সামাজিক সুরক্ষা ও বাসস্থানের খরচ দুটোই সমন্বয় করার চেষ্টা করছে। এই নীতি ও ভাতা বৃদ্ধি একসঙ্গে বাস্তবায়ন হলে নিম্ন আয়ের গোষ্ঠীর আর্থিক চাপ কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, বর্ধিত ভাতা ও বৃত্তি পরিমাণের ফলে আগামী কয়েক বছরে দরিদ্রতার হার কমে যাবে এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে সহায়ক হবে। তবে বাস্তবায়নের পর্যায়ে তহবিলের যথাযথ বরাদ্দ ও সময়মতো বিতরণ নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।
সালেহউদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে গৃহীত এই সিদ্ধান্তগুলোকে সরকার ভবিষ্যৎ অর্থবছরে আরও সম্প্রসারণের ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করতে পারে। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতা ও ভাতা হার পুনঃপর্যালোচনা করে প্রয়োজন অনুযায়ী সমন্বয় করা হলে, দেশের সামাজিক কল্যাণ ব্যবস্থার টেকসইতা নিশ্চিত হবে।



