27 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধবাগেরহাটের ছাত্রলীগ নেতা জুয়েল হাসান সাদ্দামের পারোল অস্বীকৃতি মানবাধিকার লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত

বাগেরহাটের ছাত্রলীগ নেতা জুয়েল হাসান সাদ্দামের পারোল অস্বীকৃতি মানবাধিকার লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত

বাগেরহাটের ছাত্রলীগ শাখা সভাপতি জুয়েল হাসান সাদ্দাম, যিনি ৫ আগস্ট ২০২৪ তারিখে গ্রেফতার হন এবং যশোর জেলা কারাগারে আটক আছেন, তার স্ত্রীর এবং নবজাতক শিশুর মৃতদেহ উদ্ধার হওয়ার পরেও তাকে পারোলের সুযোগ না দেওয়া নিয়ে মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) কঠোর সমালোচনা জানিয়েছে।

সাদ্দামের স্ত্রী সুবর্ণা স্বর্ণালী, ২২ বছর বয়সী, এবং তাদের নয় মাসের ছেলে নাজিফের দেহ শুক্রবার বিকালে যশোরের কাড়াপাড়া ইউনিয়নের সাবেকডাঙা গ্রাম থেকে উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, স্বর্ণা ঘরের ফ্যানের সঙ্গে রশি দিয়ে ঝুলে ছিলেন এবং নাজিফ মেঝে থেকে উদ্ধার করা হয়।

দু’জনের দেহ উদ্ধার হওয়ার পর সাদ্দামের পরিবার অবিলম্বে পারোলের আবেদন করে, যাতে তিনি মৃত স্ত্রী ও শিশুর শেষকৃত্য অনুষ্ঠান ও দাফনে অংশ নিতে পারেন। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পারোল অনুমোদন না করে, সাদ্দামকে কারাগারে ফিরে পাঠায়। এই সিদ্ধান্তের ফলে পরিবারকে দুঃখজনকভাবে শেষকৃত্য দেখার সুযোগই না পায়।

আসক রোববার একটি সংবাদ বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে, পারোলের অনুরোধের ভিত্তি সত্ত্বেও সাদ্দামকে মুক্তি না দেওয়া সংবিধান ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার নীতির স্পষ্ট লঙ্ঘন। সংস্থার মতে, বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২৭ সকল নাগরিককে সমান আইনি সুরক্ষা প্রদান করে, অনুচ্ছেদ ৩১ আইনের আশ্রয় পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করে এবং অনুচ্ছেদ ৩৫(৫) নিষ্ঠুর, অমানবিক বা অবমাননাকর শাস্তি নিষিদ্ধ করে।

এই ধারাগুলোর আলোকে, আসক যুক্তি দেয় যে সাদ্দাম একজন বিচারাধীন বন্দি হিসেবে এই মৌলিক সুরক্ষার আওতায় পড়েন। তার স্ত্রী ও শিশুর মৃত্যুর পরপরই পারোল না দেওয়া তাকে অমানবিক ও অবমাননাকর আচরণের শিকার করেছে, যা সংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘনের সমান।

সাদ্দামকে গ্রেফতার করা মামলাটি এখনও চলমান, এবং তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের ভিত্তিতে আদালত পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করবে। পারোলের অনুরোধের প্রত্যাখ্যানের ফলে, এই মামলায় মানবাধিকার সংস্থার পর্যবেক্ষণ বাড়বে এবং আদালতকে সংবিধানিক সুরক্ষার প্রয়োগে সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হতে পারে।

পুলিশের মতে, স্বর্ণা ও নাজিফের দেহ উদ্ধার করার পরপরই সাদ্দামের পারোলের আবেদন করা হয়। তবে পারোলের অনুমোদন না পাওয়ায়, সাদ্দামকে আবার কারাগারে পাঠানো হয় এবং তিনি শেষবারের মত দেহ দেখার সুযোগ পান না। এই ঘটনা পরিবার ও মানবাধিকার কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

আসকের বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, পারোল না দেওয়া কেবল সাদ্দামের ব্যক্তিগত অধিকার লঙ্ঘন নয়, বরং মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে অপরিহার্য সহানুভূতির অভাবও প্রকাশ করে। সংস্থা দাবি করেছে যে, পারোলের অনুমোদন না হলে তা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডের বিরোধী হবে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সংশোধনমূলক পদক্ষেপ নিতে হবে।

বিষয়টি এখন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নজরে এসেছে, এবং সংশ্লিষ্ট আইনগত প্রক্রিয়া কীভাবে অগ্রসর হবে তা ভবিষ্যতে স্পষ্ট হবে। তবে বর্তমান পর্যন্ত, সাদ্দামকে পারোল না দেওয়া এবং তার পরিবারকে দুঃখজনক পরিস্থিতিতে ফেলে দেওয়া মানবাধিকার লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হচ্ছে।

৮৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডিনিউজ২৪
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments