রবিবার বিকেল প্রায় চারটায় গাজীপুর মহানগরীর চান্দনা চৌরাস্তা, কাজিমউদ্দিন চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়ের কাছাকাছি একটি রোডে দুইজন এজেন্ট ব্যাংকিং কর্মীকে গুলিয়ে ২৪ লাখ টাকা চুরি করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে গৃহীত তথ্য অনুযায়ী, ডাচ বাংলা ব্যাংকের এজেন্ট শাখার ম্যানেজার হাবিবুর রহমান ও তার সহকারী নগদ টাকা নিয়ে শাখা থেকে বেরিয়ে গিয়ে একই পথে নগদ জমা করতে গিয়েছিলেন।
হাবিবুর রহমান ও সহকারী যখন চান্দনা চৌরাস্তার কাঁচা বাজারের পশ্চিম দিকের কাজিমউদ্দিন চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন দুই থেকে তিনটি মোটরসাইকেল হঠাৎ তাদের পথে থেমে গেল। মোটরসাইকেল চালকরা গাড়ির গতি বাধা দিয়ে, কয়েকজন অপরিচিতকে সামনে নিয়ে এসে হঠাৎ ককটেল ফাটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করল।
ককটেল বিস্ফোরণের শব্দ ও ধোঁয়া চারপাশে বিশৃঙ্খলা তৈরি করে, ফলে হাবিবুর ও তার সহকারীকে শারীরিকভাবে আক্রমণ করা হয়। দুজনকে মারধর করে, তাদের হাতে থাকা নগদ ব্যাগটি ছিনিয়ে নেওয়া হয়। অপরাধীরা দ্রুত গাড়ি চালিয়ে পালিয়ে যায়, আর ঘটনাস্থলে রক্তের চিহ্ন ও ছড়িয়ে থাকা ককটেল বাকি থাকে।
ঘটনা সম্পর্কে জানার পর গাজীপুর বাসন থানার ওসি হারুন অর রশিদ现场ে উপস্থিত হয়ে তদন্ত শুরু করেন। ওসি জানান, ডাচ বাংলা ব্যাংকের এজেন্ট শাখার ম্যানেজার হাবিবুর রহমান ও সহকারী ২৪ লাখ টাকা নিয়ে শাখা থেকে বেরিয়ে গিয়ে, একই পথে নগদ জমা করতে গিয়েছিলেন। তবে পথে আক্রমণকারী দল ককটেল ফাটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে, দুজনকে শারীরিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং নগদ ব্যাগটি নিয়ে পালিয়ে যায়।
ওসি আরও জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর পুলিশ তৎক্ষণাৎ স্থানীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরীক্ষা করে, প্রমাণ সংগ্রহ করে এবং সন্দেহভাজনদের সনাক্ত করার জন্য অনুসন্ধান চালু করেছে। বর্তমানে গাজীপুর পুলিশ দল ককটেল ফাটিয়ে আক্রমণকারী অপরাধীদের গ্রেফতারের জন্য বিশেষ অভিযান চালাচ্ছে।
পুলিশের মতে, এই ধরনের আক্রমণ ‘ডাকাতি’ এবং ‘হিংসাত্মক চুরি’ হিসেবে আইনের আওতায় পড়ে। সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের বিরুদ্ধে রবার্ডি আইনের ধারা ৩৯৯ (ডাকাতি) এবং ধারা ৩৯১ (হিংসাত্মক চুরি) প্রয়োগ করা হবে। তদন্ত চলাকালে গৃহীত সব প্রমাণ—ফোন রেকর্ড, সিসিটিভি ফুটেজ এবং সাক্ষীর বিবরণ—আইনগত প্রক্রিয়ায় ব্যবহার করা হবে।
ডাচ বাংলা ব্যাংকও ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে, ব্যাংক নিরাপত্তা বিভাগকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে যাতে এজেন্ট ব্যাংকিং শাখাগুলোর নগদ পরিবহন প্রক্রিয়া পুনর্বিবেচনা করা যায়। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ স্থানীয় পুলিশ ও থানা কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে, চুরি হওয়া অর্থের পুনরুদ্ধার ও ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে ব্যবস্থা গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
গাজীপুরে এজেন্ট ব্যাংকিং সেবার ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নগদ পরিবহনের ঝুঁকি বাড়ছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি ও অপরাধী গোষ্ঠীর পরিকল্পিত আক্রমণ এই সেবার ওপর আস্থা কমিয়ে দিতে পারে। তাই স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও ব্যাংকগুলোকে নগদ হস্তান্তরের সময় নিরাপত্তা রক্ষার জন্য অতিরিক্ত গাড়ি, সশস্ত্র রক্ষী এবং রুট পরিকল্পনা প্রয়োগের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
অপরাধীদের গ্রেফতার না হওয়া পর্যন্ত, গাজীপুরের বাসিন্দা ও এজেন্ট ব্যাংকিং গ্রাহকরা সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে। নগদ লেনদেনের সময় দুইজনের বেশি কর্মীকে একসাথে পাঠানো, রুটের পরিবর্তন করা এবং স্থানীয় পুলিশকে রিয়েল-টাইমে জানানো নিরাপত্তা বাড়াতে পারে।
গাজীপুর বাসন থানার ওসি রশিদ উল্লেখ করেন, তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে সময়ে সময়ে জনগণকে জানানো হবে এবং চুরি হওয়া অর্থের পুনরুদ্ধারের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে। বর্তমানে পুলিশ দল সন্দেহভাজনদের সনাক্ত করতে সিসিটিভি রেকর্ড, মোবাইল ট্রেসিং এবং স্থানীয় তথ্য সংগ্রহে ব্যস্ত।
এই ঘটনার পর গাজীপুরে এজেন্ট ব্যাংকিং সেবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনর্বিবেচনা করা হবে এবং ভবিষ্যতে একই রকম আক্রমণ রোধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।



