27 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধগুলশানে রড পড়ার ফলে মো. আশফাকুজ্জামান চৌধুরীর মৃত্যু, কনকর্ড গ্রুপের বিরুদ্ধে মামলা...

গুলশানে রড পড়ার ফলে মো. আশফাকুজ্জামান চৌধুরীর মৃত্যু, কনকর্ড গ্রুপের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের

গুলশান‑১ নম্বর এলাকায় ২২ জানুয়ারি দুপুরে একটি নির্মাণাধীন ভবনের উপরে ঝুলে থাকা রড হঠাৎ নেমে এক পথচারীর মাথায় আঘাত করে। রডের আঘাতে গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত মো. আশফাকুজ্জামান চৌধুরী (৩৫), যিনি গুলশানের একটি বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন, দ্রুত ইউনাইটেড হাসপাতালের জরুরি বিভাগে পৌঁছে সেখানে মৃত ঘোষণা করা হয়।

মৃত্যুর পরপরই শ্বশুর মো. সিরাজুল ইসলাম তালুকদার গুলশান থানা‑১৪০ নম্বর রোডের সামনে অবস্থিত তার বাড়ির সামনে ঘটনার স্থানকে নির্দেশ করে মামলাটি দায়ের করেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, রডের পতনটি নির্মাণস্থলের দায়িত্বশীলদের অবহেলা ও অপরাধমূলক গাফিলতির ফল, যা কোনোভাবে এড়ানো সম্ভব ছিল না।

মামলায় কনকর্ড গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান এস এম কামাল উদ্দিন (৭২) এবং তার ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহরিয়ার কামাল (৪৫)কে প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়াও অজানা ১০ থেকে ১২ জনকে অজ্ঞাতনামা অভিযুক্ত হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

কনকর্ড গ্রুপের পক্ষ থেকে প্রকাশিত বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, রডটি তাদের ২৫তম কনকর্ড এমবিআই স্কাইলাইন ভবন থেকে না পড়ে, বরং পার্শ্ববর্তী কোনো ভবনের সামনের অংশ থেকে নেমে এসেছে। গ্রুপের মতে, রডটি ক্রিস্টাল প্লেস ভবনের সামনে ফুটপাতের পাশে গ্লাস পরিষ্কারের কাজের সময় ঝুলন্ত প্ল্যাটফর্ম থেকে পড়ে।

বিবৃতিতে আরও জানানো হয়েছে, গ্লাস ক্লিনিং কাজটি যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়া পরিচালিত হচ্ছিল, ফলে ছোট রডের টুকরোটি উলম্বভাবে নেমে পথচারীর মাথায় আঘাত করে। এই ঘটনায় নিরাপত্তা মানদণ্ডের লঙ্ঘন স্পষ্টভাবে চিহ্নিত হয়েছে।

পুলিশ তদন্তে রডের উৎপত্তি স্থল নির্ধারণের জন্য নির্মাণস্থলের নকশা ও নিরাপত্তা রেকর্ড, গ্লাস পরিষ্কারের কাজের অনুমোদনপত্র এবং সংশ্লিষ্ট কর্মীদের বিবৃতি সংগ্রহ করছে। তদন্তের অংশ হিসেবে স্থানীয় সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং অধিদপ্তরের সহায়তা নেওয়া হয়েছে।

মামলায় উল্লেখিত অপরাধমূলক গাফিলতি ধারা অনুযায়ী, দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা, নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘন এবং মৃত্যুর ফলস্বরূপ অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। আইন অনুযায়ী, প্রমাণিত হলে অভিযুক্তদের জরিমানা ও কারাদণ্ডের শাস্তি হতে পারে।

গুলশান থানা বর্তমানে মামলার এজাহার সংরক্ষণ করে, সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের কাছ থেকে অতিরিক্ত তথ্য সংগ্রহের জন্য তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। ভবিষ্যতে রডের সঠিক উৎস ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার ত্রুটি নির্ণয় করা হবে।

কনকর্ড গ্রুপের আইনজীবী দল মামলায় তাদের ক্লায়েন্টদের দোষ অস্বীকার করে, রডের পতন অন্য কোনো নির্মাণস্থল থেকে হয়েছে বলে দাবি করে। তারা দাবি করে যে, গ্রুপের নির্মাণাধীন ভবনের কোনো অংশে রডের পতনের সম্ভাবনা নেই এবং নিরাপত্তা মানদণ্ড অনুসরণ করা হয়েছে।

অভিযুক্তদের আইনগত প্রতিনিধিরা আদালতে রডের উৎপত্তি প্রমাণের জন্য প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ ও সাইটের ভিডিও রেকর্ডের ওপর নির্ভর করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে তারা অজ্ঞাতনামা অভিযুক্তদের পরিচয় প্রকাশের জন্য প্রয়োজনীয় প্রমাণ সংগ্রহের দাবি জানিয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গ্লাস পরিষ্কারের কাজের সময় ব্যবহৃত ঝুলন্ত প্ল্যাটফর্মের নিরাপত্তা ব্যবস্থা যথাযথভাবে পরীক্ষা করা হয়নি, যা রডের অনিয়ন্ত্রিত পতনের মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এই ধরনের কাজের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষিত কর্মী ও সুরক্ষা সরঞ্জাম ব্যবহার বাধ্যতামূলক, যা এখানে অনুসরণ করা হয়নি বলে অভিযোগ।

মামলার পরবর্তী ধাপ হিসেবে গুলশান থানা ও ডিপার্টমেন্ট অফ রেজিস্ট্রেশন অফ ডিফেক্টস (ডিআরডি) যৌথভাবে তদন্ত চালিয়ে যাবে। প্রমাণ সংগ্রহের পর, মামলাটি সংশ্লিষ্ট জেলা আদালতে উপস্থাপন করা হবে, যেখানে বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হবে।

৯২/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: প্রথম আলো
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments