ময়মনসিংহের কৃষ্ণচূড়া স্কোয়ারে আজ অনুষ্ঠিত নির্বাচনী র্যালিতে ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ (ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ) এর আমের সাইয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম বলেছেন, ইসলামী রাজনীতির ঐক্য গড়ার প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় ইসলামিক স্বার্থ রক্ষার জন্য দলকে স্বতন্ত্র পথ অনুসরণ করতে বাধ্য হয়েছে। রেজাউল করিম র্যালিতে ময়মনসিংহ‑৬ ও ময়মনসিংহ‑৪ আসনগুলোর জন্য ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী সমর্থন করেন।
র্যালির শুরুতে তিনি উল্লেখ করেন, আল্লাহর কৃপায় দল একা নয়; সমাজের বিভিন্ন স্তর ও আলেম-উলেমা সমর্থন করছেন। তিনি বলেন, “আল্লাহর অনুগ্রহে আমরা একা নই, বিভিন্ন পেশা ও ধর্মীয় পণ্ডিত আমাদের সঙ্গে আছেন,” যা উপস্থিত ভক্তদের উচ্ছ্বাস বাড়িয়ে দেয়।
ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ রেজাউল করিমের মতে, অতীতে বিএনপি ও জামায়াত-এ-ইসলামি সরকার গঠন করলেও জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, “দেশটি দুর্নীতির ময়দানে পরিণত হয়েছে,” এবং এই দায়িত্বে থাকা দলকে দুর্নীতি নির্মূলের প্রতিশ্রুতি দেন।
দলটি যদি সরকার পরিচালনার দায়িত্ব পায়, তবে রেজাউল করিমের মতে, দুর্নীতি শূন্যে নামবে এবং “ইন শা আল্লাহ” দেশের উন্নয়ন জনগণের স্বপ্নের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “দুর্নীতি নির্মূলের মাধ্যমে আমরা এমন বাংলাদেশ গড়ব, যেখানে প্রত্যেকের স্বপ্ন পূরণ হবে।”
রেজাউল করিম আরও উল্লেখ করেন, অনেক প্রার্থী উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন, কিন্তু কেউই নীতিগত উন্নয়নের কথা বলেন না। তিনি বলেন, “নীতির উন্নয়ন ছাড়া বাস্তব উন্নয়ন সম্ভব নয়,” এবং পার্লামেন্টের সদস্যদের সঠিক নীতি প্রণয়ন ও এক্সিকিউটিভকে দায়বদ্ধ রাখার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
বছরের পর বছর ধরে দেশের উন্নয়নের দাবি শোনা গেলেও, রেজাউল করিমের মতে, সেই দাবির পেছনে “দুর্নীতির উৎসব” লুকিয়ে আছে। তিনি অতীতের ৫৪ বছরকে উদাহরণ দিয়ে বলেন, উন্নয়নের নামেই দুর্নীতি, আত্মহত্যা, জবরদস্তি নিখোঁজ এবং টাকা ধোয়া দেশের অগ্রগতিকে ব্যাহত করেছে।
এ ধরনের অবস্থা পরিবর্তনের জন্য তিনি কাঠামোগত উন্নয়ন ও নীতি সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেন। রেজাউল করিম বলেন, “হত্যা, জবরদস্তি নিখোঁজ এবং টাকা ধোয়া দেশের অগ্রগতিকে প্রতিদিন পিছিয়ে দিচ্ছে; তাই রাষ্ট্রের কাঠামোগত উন্নয়ন ও নীতি সংস্কারে জোর দিতে হবে।”
ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের লক্ষ্য কেবল নেতৃত্বের পরিবর্তন নয়, বরং নীতি পরিবর্তন। রেজাউল করিম জোর দিয়ে বলেন, “আমরা কেবল নতুন নেতা নয়, নতুন নীতি চাই।” এই দৃষ্টিকোণ থেকে দলটি দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে একটি স্বতন্ত্র বিকল্প হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করছে।
র্যালিতে উপস্থিত ছিলেন দলের কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ সচিব নুরুল করিম আকরাম এবং কেন্দ্রীয় যৌথ উপ-সভাপতি হোসেন আহমেদ। উভয়েই রেজাউল করিমের বক্তব্যে সমর্থন জানিয়ে দলের ঐক্যবদ্ধ চিত্র তুলে ধরেছেন।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের এই স্বতন্ত্র পথ গ্রহণ ভবিষ্যতে নির্বাচনী জোটের গঠনকে প্রভাবিত করতে পারে। দলটি যদি স্বাধীনভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে, তবে তা অন্যান্য ইসলামী ও জাতীয় পার্টির সঙ্গে জোটের সম্ভাবনা কমিয়ে দিতে পারে। তবে রেজাউল করিমের মতে, ইসলামিক নীতি ও নৈতিকতা ভিত্তিক সরকার গড়ে তোলাই মূল লক্ষ্য, যা দেশের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা পুনর্গঠন করতে পারে।
র্যালির সমাপ্তিতে রেজাউল করিম ভোটারদের আহ্বান জানান, “আল্লাহর কৃপা ও আপনারা যদি আমাদের উপর বিশ্বাস রাখেন, তবে আমরা দুর্নীতি নির্মূল করে, নীতি ভিত্তিক উন্নয়ন নিশ্চিত করব।” রেজাউল করিমের এই বক্তব্য ও দলীয় পরিকল্পনা ময়মনসিংহের নির্বাচনী পরিবেশে নতুন আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।



