ফেনি পাইলট স্কুল মাঠে আজ বিকেলে বিএনপি চেয়ারপার্সন তারেক রহমান ভোটারদের সমবেত করে ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত জাতীয় নির্বাচনে ‘শস্যের গুচ্ছ’ প্রার্থীদের জয় নিশ্চিত করার আহ্বান জানালেন। তিনি বৃহত্তর নোয়াখালির বিভিন্ন উপজেলায় ভোটারদের সক্রিয় অংশগ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
র্যালি শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তারেক রহমান উপস্থিতি ও ভাষণকে কেন্দ্র করে ভিড়ের উচ্ছ্বাস দেখা যায়। উপস্থিত সমর্থকরা উল্লাসে মাতিয়ে তোলেন, আর তিনি মাঠের কেন্দ্রে দাঁড়িয়ে সরাসরি জনগণের সঙ্গে কথা বলেন।
তিনি উল্লেখ করেন, গত পনেরো বছর ধরে বাংলাদেশের কোনো অঞ্চলে সত্যিকারের জননেতা উদ্ভূত হয়নি, যার ফলে দেশের বর্তমান অবস্থা গড়ে উঠেছে। তিনি বলেন, কিছু মানুষের ভাগ্য পরিবর্তিত হলেও দেশের ৯৮ শতাংশ মানুষের জীবনযাত্রা অপরিবর্তিত রয়ে গেছে।
এরপর তিনি গণতন্ত্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে বলেন, যদি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার হয় তবে দায়িত্বশীলতা ফিরে আসবে এবং নির্বাচিত প্রতিনিধিরা স্থানীয় সমস্যার সমাধানে সক্ষম হবে।
তারেক রহমান ফেনিতে বিএনপি শাসনে আসলে একটি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি বলেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন এবং স্থানীয় যুবকদের জন্য নতুন শিক্ষার সুযোগ তৈরি হবে।
এছাড়াও তিনি বিদেশে কাজ করতে ইচ্ছুক তরুণদের জন্য প্রশিক্ষণ ও ভাষা শিক্ষা প্রদান করার পরিকল্পনা প্রকাশ করেন। এই ব্যবস্থা তাদেরকে উচ্চ বেতন পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়াবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
বক্তব্যের মধ্যে তিনি নিজের পারিবারিক সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে বলেন, নোয়াখালি অঞ্চলের সঙ্গে তার পারিবারিক বন্ধন বহু বছর ধরে রয়েছে, যা তার রাজনৈতিক কার্যক্রমে প্রেরণা জোগায়।
র্যালির আগে তারেক রহমান চট্টগ্রামের পোলো গ্রাউন্ডে একটি সমাবেশে অংশ নেন। সেখানে তিনি দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন এবং সমর্থকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
চট্টগ্রাম সমাবেশের পর তিনি ফেনিতে পৌঁছান বিকেল পাঁচটা পঞ্চান্ন মিনিটে। সময়মতো পৌঁছানোর পর তিনি সরাসরি সমর্থকদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে র্যালি শুরু করেন।
তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, ফেব্রুয়ারি ১২ তারিখের নির্বাচনের ফলাফল দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এই নির্বাচনকে তিনি দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার পুনর্নবীকরণ হিসেবে উপস্থাপন করেন।
সরকারি পক্ষ থেকে এই র্যালি ও তারেক রহমানের দাবির প্রতি কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি, তবে নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতবিরোধের সম্ভাবনা রয়েছে বলে বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত দেন।
বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, যদি বিএনপি এই র্যালিতে উল্লিখিত প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করে এবং ভোটারদের সমর্থন পায়, তবে নোয়াখালি ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে রাজনৈতিক গতিপথে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসতে পারে। তবে শেষ পর্যন্ত ফলাফল নির্ভর করবে ভোটারদের সিদ্ধান্তের ওপর।



