টি‑টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এ পাকিস্তানের অংশগ্রহণ এখনো চূড়ান্ত নয়। দেশের ক্রিকেট বোর্ড ১৫ খেলোয়াড়ের দল ঘোষণা করলেও সরকারী অনুমোদন না পাওয়া পর্যন্ত দলটি টুর্নামেন্টে খেলবে কিনা অনিশ্চিত রয়ে গেছে।
পিসিবি নির্বাচক কমিটির সদস্য ও হাই পারফরম্যান্স ডিরেক্টর আকিব জাভেদ স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, সরকারী অনুমোদন না আসা পর্যন্ত পাকিস্তানের অংশগ্রহণের বিষয়টি অনিশ্চিত থাকবে। তিনি জোর দিয়ে বললেন, শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হতে পারে।
পিসিবি চেয়ারম্যান মোহসিন নাকভি পূর্বে বাংলাদেশকে ভারত সফর থেকে বাদ দেওয়ার পর স্কটল্যান্ডকে টুর্নামেন্টে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্তের পর পাকিস্তানের অংশগ্রহণ নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন। তিনি উল্লেখ করেন, সরকারী অনুমোদনই শেষ সিদ্ধান্তের মূল চাবিকাঠি।
সাম্প্রতিক সময়ে ১৫ সদস্যের দল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে অনেকেই ধারণা করেন, পাকিস্তান বিশ্বকাপে অংশ নিতে প্রস্তুত। তবে দল ঘোষণার পরও সরকারী অনুমোদনের অপেক্ষা চলমান, যা টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের চূড়ান্ত অনুমতি নির্ধারণ করবে।
গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে রবিবার অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এই বিষয়গুলো পুনরায় আলোচনা করা হয়। উপস্থিত ছিলেন নির্বাচক কমিটির সদস্য আকিব জাভেদ, জাতীয় দলের নির্বাচক কমিটির সদস্য সালমান আলি আগা এবং সাদা বলের প্রধান কোচ মাইকেল জেমস হেসন।
আকিব জাভেদ বলেন, “আমরা নির্বাচক এবং আমাদের দায়িত্ব হল দল নির্বাচন করা। নির্ধারিত সময়ের খুব কাছাকাছি এসে আমরা দলটি ঘোষণা করেছি।” তার কথায় দল গঠন প্রক্রিয়ার সময়সীমা ও গুরুত্ব স্পষ্ট হয়।
সালমান আলি আগা, যিনি দলের অধিনায়কও, এবং কোচ মাইকেল জেমস হেসন উভয়েই দলের প্রস্তুতি ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার জন্য পরিকল্পনা নিয়ে মন্তব্য করেন। তবে তারা দুজনই সরকারী অনুমোদনের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে থাকেন।
আইসিসির নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, পাকিস্তানের সব গ্রুপ ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত হবে। এই তথ্য দলকে শ্রীলঙ্কার পরিবেশে খেলা নিয়ে অতিরিক্ত প্রস্তুতি নিতে বাধ্য করবে।
দলটির নাম তালিকায় রয়েছে অধিনায়ক সালমান আলি আগা, আবরার আহমেদ, বাবর আজম, ফাহিম আশরাফ, ফাখার জামান, খাজা নাফি (উইকেটরক্ষক), মোহাম্মদ নাওয়াজ, মোহাম্মদ সালমান মির্জা, নাসিম শাহ, সাহিবজাদা ফারহান (উইকেটরক্ষক), সাইম আইয়ুব, শাহিন শাহ আফ্রিদি, শাদাব খান, উসমান খান (উইকেটরক্ষক) এবং উসমান তারিক।
তালিকায় তিনজন উইকেটরক্ষক অন্তর্ভুক্ত, যা টুর্নামেন্টের দীর্ঘ সময়সূচি ও সম্ভাব্য আঘাতের ঝুঁকি মোকাবেলায় কৌশলগত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা যায়। অন্যান্য খেলোয়াড়দের মধ্যে ব্যাটিং ও বোলিং উভয় দিকের অভিজ্ঞতা সমৃদ্ধ।
দল নির্বাচন প্রক্রিয়া শেষ সময়ের খুব কাছাকাছি সম্পন্ন হয়েছে, যা আইসিসির নির্ধারিত সময়সীমার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। নির্বাচকরা জানান, এই সময়ে দল গঠন করা কঠিন হলেও তারা সর্বোত্তম সমন্বয় নিশ্চিত করেছে।
তবে শেষ অনুমোদন সরকার থেকে আসা পর্যন্ত পাকিস্তানের অংশগ্রহণের বিষয়টি অনিশ্চিতই রয়ে যাবে। সরকারী অনুমোদন না পাওয়া পর্যন্ত পিসিবি কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে পারবে না।
বাংলাদেশের ভারত সফর প্রত্যাখ্যানের পর আইসিসি স্কটল্যান্ডকে টুর্নামেন্টে যুক্ত করেছিল, যা পাকিস্তানের অংশগ্রহণের প্রশ্ন তোলার মূল কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এই পরিবর্তন টুর্নামেন্টের কাঠামোতে নতুন গতিবিধি এনেছে।
অবশেষে, পাকিস্তানের ক্রিকেট ভক্ত ও বিশ্লেষকরা সরকারী সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন, যাতে দলটি বিশ্বকাপে অংশ নিতে পারে বা না পারে তা চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হয়।



