বিএনপি চেয়ারপার্সন তারেক রহমান রবিবার ফেনী সরকারি কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী জনসভায় উপস্থিত হয়ে ভোটারদের সতর্কতা ও উন্নয়নমূলক প্রতিশ্রুতি জানিয়ে বক্তৃতা দেন। তিনি ভোটের দিন সকালের তহাজ্জুদের মতো সময়ে উঠতে, ভোটকেন্দ্রের সামনে নামাজ আদায় করতে এবং নিজের ভোটের গুরুত্ব বুঝে সিদ্ধান্ত নিতে আহ্বান জানান। তার লক্ষ্য ছিল ভোটারদের কোনো ষড়যন্ত্রের শিকার না হতে সতর্ক করা।
তারেক রহমান ফেনীকে নিজের নানাবাড়ি এলাকা হিসেবে উল্লেখ করে, দীর্ঘদিনের স্থানীয় দাবিগুলো পূরণে দলকে অঙ্গীকারবদ্ধ হওয়ার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, যদি বিএনপি সরকার গঠন করে, তবে ফেনী অঞ্চলে একটি শিল্প পার্ক (ইপিজেড) স্থাপন করা হবে, যা স্থানীয় কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াবে। এছাড়া ফেনীতে একটি পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল কলেজের পরিকল্পনাও রয়েছে, যা স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে সহায়ক হবে।
নোয়াখালী, ফেনী ও লক্ষ্মীপুরের জনগণের দীর্ঘদিনের চাহিদা এবং বিএনপির দাবিগুলোকে তিনি সমান্তরালভাবে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ধানের শীষকে জয়ী করা তাদের অন্যতম লক্ষ্য, এবং এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য দল সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে। গত পনেরো বছর ধরে ভোটারদের অধিকার নিয়ে সংগ্রাম চালিয়ে আসা দল, এখন স্বৈরাচারী শাসনের বিরোধে জনমত গঠন করে দেশের ভবিষ্যৎ পরিবর্তনের সুযোগ পেয়েছে।
বিএনপি নেতার মতে, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সঙ্গে অতিরিক্ত সময় ব্যয় না করে উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে মনোযোগ দেওয়া জরুরি। তিনি উল্লেখ করেন, নারীদের জন্য “ফ্যামিলি কার্ড” এবং কৃষকদের জন্য “কৃষক কার্ড” চালু করা হবে, যা মাসিক আর্থিক সহায়তা না দিলেও এক সপ্তাহের মৌলিক চাহিদা পূরণে সহায়তা করবে। এই উদ্যোগগুলোকে তিনি জনগণের স্বল্পমেয়াদী উপকারের অংশ হিসেবে উপস্থাপন করেন।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে সারা দেশে স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা প্রসারিত করার কথা তিনি উল্লেখ করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, দুর্নীতি রোধ ও পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার জন্য ১২ ফেব্রুয়ারি ধানের শীষকে জয়ী করা অপরিহার্য। দেশের গর্বিত নারী নেতা খালেদা জিয়ার এলাকা হিসেবে ফেনীর মানুষের দায়িত্বকে তিনি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরেন।
তারেক রহমানের বক্তব্যে তিনি জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার অসমাপ্ত উন্নয়ন প্রকল্পগুলোকে পুনরায় শুরু করার প্রতিশ্রুতি দেন, যদি দল সরকার গঠন করে। তিনি উল্লেখ করেন, ধানের শীষের প্রতিটি সুযোগে জনগণের ভাগ্য পরিবর্তিত হয়েছে, এবং এবারও উন্নয়নের নতুন অধ্যায় শুরু হবে।
বিএনপি নেতার এই বক্তৃতা নির্বাচনী উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছে, বিশেষত ফেনী ও পার্শ্ববর্তী জেলা গুলিতে তার সমর্থকদের মধ্যে আশাবাদ জাগিয়ে তুলেছে। অন্যদিকে, আওয়ামী লীগ ও অন্যান্য বিরোধী দলগুলো এই প্রতিশ্রুতিগুলোকে বাস্তবায়নযোগ্যতা ও আর্থিক সক্ষমতার প্রশ্ন তুলেছে। তবে, ভোটের দিন নাগাদ উভয় দিকের প্রচারণা তীব্র হবে বলে আশা করা যায়।
ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক প্রভাবের দিক থেকে, তারেক রহমানের এই জনসভা বিএনপির ভোটার ভিত্তি দৃঢ় করার পাশাপাশি নতুন ভোটারদের আকৃষ্ট করার লক্ষ্য বহন করে। যদি দল সরকার গঠন করে, তবে ফেনী ও আশেপাশের এলাকায় ঘোষিত প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করা হবে কিনা, তা দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ সূচক হয়ে উঠবে।



