বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিন রমজান মাসের আগে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যে হ্রাসের ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, এই বছরের রমজানে কিছু পণ্যের দাম মানুষের নাগালের মধ্যে থাকবে।
শুক্রবার অনুষ্ঠিত টাস্কফোর্সের বৈঠকে রমজান উপলক্ষে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের মূল্য ও বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়। বৈঠকের শেষে উপদেষ্টা এই মন্তব্য করেন।
উল্লেখযোগ্য যে, গতবছরের তুলনায় এই বছর নিত্যপণ্যের আমদানি পরিমাণে ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই পরিমাণের বৃদ্ধি সরবরাহ শৃঙ্খলে স্বাভাবিকতা বজায় রাখতে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সরকারি দিক থেকে দাম নিয়ন্ত্রণের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ব্যবসায়িক গোষ্ঠীও নিশ্চিত করেছে যে, পণ্যের সরবরাহে কোনো ঘাটতি দেখা যাবে না। ফলে রমজানে মূল্যের অস্থিরতা কমে যাবে।
বাণিজ্য উপদেষ্টা আরও জানিয়েছেন, রমজানে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং কিছু পণ্যের দাম কমে যাবে। তিনি উল্লেখ করেন, অতিরিক্ত আমদানি সরবরাহের ঘাটতি পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
কর্ণফুলী টানেল, পায়রা বন্দর, পদ্মা সেতু ইত্যাদি বড় প্রকল্পের জন্য বাংলাদেশ সরকারকে উল্লেখযোগ্য আর্থিক দায় বহন করতে হচ্ছে। এই প্রকল্পগুলোতে ব্যয় বাড়ার ফলে বাজেটের উপর চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে।
মুদ্রার অবমূল্যায়নও বাজারে প্রভাব ফেলছে। টাকার মান হ্রাসের ফলে আমদানি পণ্যের খরচ বাড়তে পারে, তবে বৃহৎ আমদানি পরিমাণ এই প্রভাবকে কিছুটা শমিত করবে।
ইন্টারন্যাশনাল মোনিটরি ফান্ড (আইএমএফ) থেকে অতিরিক্ত ঋণ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। ঋণ গ্রহণের শর্তাবলী এবং পরিশোধের পরিকল্পনা সরকার বিবেচনা করছে।
এই আর্থিক দায় এবং মুদ্রা অবমূল্যায়নের সমন্বয় নিত্যপণ্যের বাজারে মূল্য স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। তবে আমদানি বৃদ্ধির ফলে সরবরাহের ঘাটতি কমে যাওয়ায় দাম বাড়ার ঝুঁকি সীমিত থাকবে।
বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, রমজানে মূলধারার পণ্য যেমন চাল, ডাল, তেল, চিনি ইত্যাদির দাম স্থিতিশীল থাকবে। কিছু পণ্যের দাম হ্রাস পাবে, যা ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতা বাড়াবে।
অন্যদিকে, উচ্চ ঋণভারের কারণে সরকারকে আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কঠোর বাজেটary নীতি অনুসরণ করতে হবে। এই নীতি ভবিষ্যতে মূল্য নিয়ন্ত্রণে প্রভাব ফেলতে পারে।
সারসংক্ষেপে, রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমবে, আমদানি ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, এবং সরকার দাম নিয়ন্ত্রণের জন্য পদক্ষেপ নেবে। তবে আর্থিক দায় এবং মুদ্রা অবমূল্যায়নের প্রভাব নজরে রাখতে হবে।



