মিনিয়াপলিসে ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তারা ৩৭ বছর বয়সী তীব্র সেবা নার্স অ্যালেক্স প্রেট্টিকে গুলি করে নিহত করেছেন, যা শীতল শীতের দিনে শত শত প্রতিবাদকারীর তীব্র প্রতিক্রিয়া উস্কে দিয়েছে। ঘটনা ঘটেছে ২৬শে ফেব্রুয়ারি, স্থান নিকোলেট অ্যাভিনিউ ও ২৬তম স্ট্রিটের সংযোগস্থলে, সকাল ৯:০৫ টায় (১৫:০৫ GMT)।
প্রেট্টি ও কর্মকর্তাদের মধ্যে সংঘর্ষের দৃশ্য বিভিন্ন কোণ থেকে ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, যেখানে তিনি প্রথমে পেপার স্প্রে দিয়ে আঘাতপ্রাপ্ত হন, মাটিতে টানা হয় এবং পরে গুলি করা হয়। ভিডিওতে কোনো অস্ত্র ব্যবহার বা হ্যান্ডগান দেখানো হয়নি।
ট্রাম্প প্রশাসন ঘটনাটিকে প্রেট্টির আক্রমণ হিসেবে ব্যাখ্যা করে, দাবি করে তিনি হ্যান্ডগান নিয়ে কর্মকর্তাদের কাছে এগিয়ে গিয়ে আত্মরক্ষার জন্য গুলি করা হয়েছে। তবে প্রকাশিত চিত্রে তার কোনো সশস্ত্র হুমকি দেখা যায় না, বরং তিনি গুলি হওয়ার আগে গুলি তোলার চেষ্টা করা এক কর্মকর্তা থেকে অস্ত্রটি তোলা হয়েছে বলে ধারণা করা হয়।
ট্রাম্প প্রশাসন প্রেট্টিকে “গৃহস্থ টেররিস্ট” বলে লেবেল করেছে, কিন্তু মিনেসোটা গভার্নর টিম ওয়ালজ এই বিবরণকে “অবৈধ ও মিথ্যা” বলে খণ্ডন করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে এই ঘটনার ব্যাখ্যা ভিত্তিহীন এবং সত্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
প্রেট্টির মৃত্যু তিন সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে ঘটেছে, যখন একই শহরে অভিবাসন কর্মকর্তা রেনি গুডকে গাড়িতে গুলি করে হত্যা করেছিল। উভয় ঘটনার পর মার্কিন সরকারের অভিবাসন নীতি ও আইসের কার্যক্রমের প্রতি জনমত তীব্রভাবে উত্তেজিত হয়েছে।
শুক্রবার রাতের দিকে প্রেট্টির শিকারের স্থানেই সশস্ত্র ও মুখোশধারী কর্মকর্তারা গ্যাস ও ফ্ল্যাশব্যাং গ্রেনেড ব্যবহার করে প্রতিবাদ দমন করার চেষ্টা করেন। এই সময়ে শীতল তাপমাত্রা -২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি ছিল, তবু শত শত মানুষ মোমবাতি জ্বালিয়ে তার নাম উচ্চারণ করে স্মরণ করিয়ে দিল।
দিনের বেলায় শহরের বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদকারীরা আইসের বাড়তি রেইড ও গুলিবর্ষণের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা জানায়। তারা গুলির শিকার প্রেট্টির নাম উচ্চস্বরে চিৎকার করে, “জাস্টিস ফর অ্যালেক্স” ও “অ্যাবলিশ আইস” স্লোগান নিয়ে প্রতিবাদ চালিয়ে যায়।
মিনিয়াপলিসের বাইরে প্রতিবাদ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। নিউ ইয়র্কে এক হাজারেরও বেশি মানুষ একত্রিত হয়ে একই স্লোগান নিয়ে র্যালি করে, যেখানে আইসের কার্যক্রম বন্ধের দাবি করা হয়। চিকাগোতে শূন্য শূন্য ডিগ্রি তাপমাত্রায়ও প্রতিবাদকারীরা রাস্তায় নেমে আসে।
ফেডারেল ও রাজ্য কর্তৃপক্ষের বিবরণে পার্থক্য দেখা যায়। ফেডারেল দিক থেকে গুলির স্বয়ংরক্ষার যুক্তি দেওয়া হয়েছে, আর রাজ্য দিক থেকে ঘটনাটিকে অতিরঞ্জিত ও অযৌক্তিক বলে সমালোচনা করা হয়েছে। উভয় পক্ষের মধ্যে এই বিরোধ ভবিষ্যতে তদন্তের দিক নির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারে।
মিনিয়াপলিসের পুলিশ ও আইসের মধ্যে সমন্বয় নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। কিছু নাগরিক গোষ্ঠী দাবি করে যে আইসের উপস্থিতি ও গুলিবর্ষণ অতিরিক্ত শক্তি ব্যবহার করে ঘটেছে, যা নাগরিক অধিকার লঙ্ঘনের সম্ভাবনা তৈরি করে।
স্থানীয় আদালত ও ফেডারেল তদন্ত সংস্থা ইতিমধ্যে ঘটনাটির পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। গুলির সময়, অস্ত্রের ধরন, এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আচরণ নিয়ে বিশদ রিপোর্ট প্রস্তুত করা হবে। তদন্তের ফলাফল অনুযায়ী দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
এই ঘটনার পর মার্কিন সরকার ও ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতি নিয়ে পুনর্বিবেচনার আহ্বান বাড়ছে। মানবাধিকার সংস্থা ও নাগরিক গোষ্ঠী আইসের কার্যক্রমের উপর কঠোর সীমাবদ্ধতা ও স্বচ্ছতা দাবি করে, আর কিছু রাজনৈতিক নেতা এই ঘটনার ভিত্তিতে নীতি পরিবর্তনের পক্ষে সওয়াল তুলছেন।



