28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড সম্পর্কিত যুক্তরাষ্ট্রের দাবির সাম্প্রতিক উন্নয়ন

ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড সম্পর্কিত যুক্তরাষ্ট্রের দাবির সাম্প্রতিক উন্নয়ন

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর গড়ে ওঠা আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলা অনুসারে, জাতিসংঘের সংবিধানের ধারা ২(৪) অনুযায়ী কোনো রাষ্ট্রকে জোরপূর্বক ভূখণ্ড দখল করতে নিষেধ করা হয়েছে। এই নীতি পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক আইনের নীতি ঘোষণায় পুনর্ব্যক্ত হয়েছে, যেখানে সীমান্ত পরিবর্তনকে জোরপূর্বক করা অবৈধ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই কাঠামোর মধ্যে যখন কোনো বৃহৎ শক্তি তার সার্বভৌমত্বের আলোচনাযোগ্যতা প্রকাশ করে, তখন ছোট দেশগুলোকে তা সতর্কতা হিসেবে গ্রহণ করা উচিত, রঙিন ভাষা নয়।

জানুয়ারির শুরুর দিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ডের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের দাবি পুনরায় তীব্র করে তোলেন। ১০ জানুয়ারি তিনি উল্লেখ করেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ডকে “তারা চাইবে কিনা না চাইবে” এবং “সহজ পথে” অথবা “কঠিন পথে” অর্জন করতে পারে। এই বক্তব্যকে দরকষাকষি নয়, বরং সীমান্ত পরিবর্তনের হুমকি হিসেবে বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

ডেভোসে অনুষ্ঠিত বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সময়, ২১ জানুয়ারি ট্রাম্প জানান যে তিনি গ্রিনল্যান্ড অর্জনের জন্য বলপ্রয়োগ করবেন না এবং ন্যাটো সেক্রেটারি জেনারেল মার্ক রুটের সঙ্গে আর্কটিক ও গ্রিনল্যান্ড সংক্রান্ত “ফ্রেমওয়ার্ক” নিয়ে আলোচনা চলছে।

এরপরের দিন ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন যে আর্কটিক নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা করা যেতে পারে, তবে তা অবশ্যই দেশের ভূখণ্ডীয় অখণ্ডতার প্রতি সম্মান রেখে হতে হবে। গ্রিনল্যান্ডের পার্লামেন্টারিয়ান আইয়া চেম্নিটজও উল্লেখ করেন, গ্রিনল্যান্ডের অংশগ্রহণ ছাড়া কোনো চুক্তি করা সম্ভব নয়।

প্রতিবেদন অনুসারে, বর্তমান প্রস্তাবটি সম্পূর্ণ সার্বভৌমত্ব হস্তান্তরের পরিবর্তে বিদ্যমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, আর্কটিক নিরাপত্তা এবং কাঁচামাল সহযোগিতার আপডেট হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ডেভোসের পর থেকে ট্রাম্প এই সমঝোতাকে “মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে গ্রিনল্যান্ডে সম্পূর্ণ প্রবেশাধিকার” প্রদানকারী হিসেবে তুলে ধরছেন। তবে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের সরকার এখনও জোর দিয়ে বলছে যে তাদের সার্বভৌমত্ব আলোচনার বিষয় নয় এবং চূড়ান্ত শর্তগুলো এখনও অনির্ধারিত।

ডেনমার্ক এবং ন্যাটো বর্তমানে কীভাবে পুরো জোটের আর্কটিক নিরাপত্তা বাড়ানো যায়, বিশেষ করে ১৯৫১ সালের চুক্তি সংশোধনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

এই আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে গ্রিনল্যান্ডের কাঁচামাল সম্পদ, যা উভয় পক্ষই কৌশলগত গুরুত্বের দৃষ্টিতে দেখছে। একই সঙ্গে আর্কটিক অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর বিষয়টিও উভয় দেশের কূটনৈতিক নথিতে উঠে এসেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের এই উদ্যোগের পেছনে আর্কটিকের উষ্ণায়ন ও নতুন শিপিং রুটের সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করেন, যদিও এই দৃষ্টিকোণটি প্রকাশ্যভাবে কোনো পক্ষের মন্তব্যে অন্তর্ভুক্ত হয়নি।

ডেনমার্কের সরকার জোর দিয়ে বলেছে যে কোনো নিরাপত্তা চুক্তি গ্রিনল্যান্ডের স্বায়ত্তশাসন ও অধিকারকে ক্ষুণ্ন করবে না, এবং ভবিষ্যতে কোনো চুক্তি স্বাক্ষরের আগে গ্রিনল্যান্ডের স্থানীয় সংসদের অনুমোদন প্রয়োজন হবে।

অন্যদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা দাবি করেন যে তারা গ্রিনল্যান্ডের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়িয়ে উভয় দেশের অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা স্বার্থ রক্ষা করতে চায়, তবে তারা স্পষ্টভাবে কোনো ভূখণ্ডিক দাবি প্রত্যাহার করেনি।

এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক আইনের নীতি ও জিও-রাজনৈতিক স্বার্থের মধ্যে টানাপোড়েন দেখা যাচ্ছে। ভবিষ্যতে কীভাবে এই আলোচনাগুলো সমাধান হবে, তা নির্ভর করবে ডেনমার্ক, গ্রিনল্যান্ড এবং ন্যাটোর পারস্পরিক সমঝোতার উপর।

সামগ্রিকভাবে, গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ অবস্থান ও আর্কটিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত আলোচনার ফলাফল আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলার মৌলিক নীতিগুলোর প্রয়োগে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments