শফিকুর রহমান, জামায়াত-এ-ইসলামি আমির, রোববার দুপুরে ঢাকার যাত্রাবাড়ীর কাজলা পাড়ার নির্বাচনী সভায় শিক্ষাব্যবস্থায় বাংলা ছাড়াও ইংরেজি ও আরবি অন্তর্ভুক্তির পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, এই পরিবর্তন কোনো আলাদা শিক্ষাপ্রণালী গঠন না করে সব স্তরের বিদ্যালয়ে, মাদ্রাসা সহ, সমানভাবে প্রয়োগ হবে।
শফিকুর রহমানের মতে, বিদেশে কর্মসংস্থান পেতে এবং দেশের প্রতিনিধিত্বে গর্ব বজায় রাখতে শিক্ষার্থীদের বহুভাষিক দক্ষতা অপরিহার্য। ইংরেজি ও আরবি যোগ করার মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি পাবে এবং দেশের কর্মশক্তি আন্তর্জাতিক মানে উপযোগী হবে।
নারীর নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি সহ তিনি রাজধানী ও বড় শহরে সন্ধ্যাবাস চালু করার ঘোষণা দেন। সরকারি ডাবল ডেকার বাসের নিচতলা বিশেষভাবে নারীদের জন্য সংরক্ষণ করা হবে, যাতে রাত্রিকালীন যাতায়াত নিরাপদ থাকে।
চাঁদাবাজি—অবৈধ মদ উৎপাদন—সম্পর্কে শফিকুর রহমান উল্লেখ করেন, এই পেশা বর্তমানে দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং এর ফলে সামাজিক সমস্যা বাড়ছে। তিনি বলছেন, যারা এই কাজে যুক্ত, তাদেরকে বৈধ ও হালাল উপার্জনের পথে ফিরিয়ে আনা হবে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হবে।
চাঁদাবাজি মোকাবিলার জন্য জামায়াত-এ-ইসলামি দুটি মোবাইল অ্যাপ চালু করেছে। প্রথম অ্যাপের মাধ্যমে চাঁদাবাজদের সনাক্ত করা হবে, তথ্য প্রদানকারীর পরিচয় গোপন রাখা হবে এবং গোপনীয়তা নিশ্চিত করা হবে।
দ্বিতীয় অ্যাপটি সাধারণ নাগরিকদের বিভিন্ন সমস্যার কথা জানাতে ব্যবহৃত হবে; প্রাপ্ত তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়ে দ্রুত সমাধান নিশ্চিত করা হবে। শফিকুর রহমান জোর দিয়ে বলেন, এই সেবা ব্যবহারকারী ও সমস্যার সমাধানকারী উভয়েরই দায়িত্ব স্পষ্ট থাকবে।
প্রতিনিধিদের দায়িত্ববোধ বাড়াতে তিনি উল্লেখ করেন, জামায়াত-এ-ইসলামির নির্বাচিত প্রতিনিধি ছয় মাসে একবার জনগণের সামনে উপস্থিত হবে, একবার নয়। এভাবে নির্বাচনের সময় ভোটারদের আবেগকে পুঁজি হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না, তিনি জোর দেন।
৫ আগস্টের পরে জামায়াত-এ-ইসলামি যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল—প্রতিশোধ না নেওয়া, মামলা‑ব্যবস্থা না করা এবং চাঁদাবাজি না করা—সেই শর্তগুলো এখনও বজায় থাকবে বলে শফিকুর রহমান নিশ্চিত করেন। তিনি অতিরিক্তভাবে উল্লেখ করেন, এই নীতিগুলো পার্টির নৈতিক ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।
বিপক্ষের কিছু নেতা পরিকল্পনার আর্থিক ও কাঠামোগত সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, বিশেষ করে সব স্তরে ইংরেজি‑আরবি সমন্বয় এবং নতুন অ্যাপের কার্যকরীতা সম্পর্কে। তবে শফিকুর রহমানের দল এই উদ্বেগকে সমাধান করতে প্রয়োজনীয় সম্পদ ও প্রযুক্তি নিশ্চিত করার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে।
শফিকুর রহমানের ঘোষণাগুলো আগামী নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন, নারীর নিরাপত্তা এবং অবৈধ মদ উৎপাদন দমনকে কেন্দ্র করে এই নীতি সমর্থন ও বিরোধ উভয়েরই মনোযোগ আকর্ষণ করবে, যা পার্টির ভোটাভুটি কৌশলে নতুন দিক নির্ধারণ করতে পারে।



