শ্রম দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটি (NEC) গোরটন ও ডেন্টন পার্লামেন্টারি বাই‑ইলেকশনে অ্যান্ডি বার্নহ্যামকে প্রার্থী হিসেবে অনুমোদন না দিয়ে বাধা দিয়েছে।
মহানগর ম্যানচেস্টারের সরাসরি নির্বাচিত মেয়র অ্যান্ডি বার্নহ্যাম, যিনি পূর্বে ক্যাবিনেট মন্ত্রী হিসেবেও কাজ করেছেন, শনিবার পার্লামেন্টারি প্রার্থী হিসেবে আবেদন করেন। মেয়র পদে থাকায় তিনি শ্রম দলের NEC থেকে অনুমোদন পেতে বাধ্য।
NEC-র অনুমোদন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বার্নহ্যামের আবেদনটি বিশদে পর্যালোচনা করা হয়। কমিটির সদস্যরা প্রধানত দুইটি উদ্বেগ তুলে ধরেন: প্রথমত, বার্নহ্যামকে মেয়র পদ থেকে অপসারণের ফলে নতুন মেয়র নির্বাচন পরিচালনার ব্যয়; দ্বিতীয়ত, এই প্রক্রিয়ার ফলে পার্লামেন্টারি বাই‑ইলেকশনে বিভাজনমূলক প্রচারণা চালানোর সম্ভাবনা।
প্রধানমন্ত্রীর সহযোগীরা উল্লেখ করেন, বার্নহ্যাম যদি হাউস অফ কমন্সে ফিরে আসেন, তবে তিনি নেতৃত্বের চ্যালেঞ্জ উত্থাপন করতে পারেন, যা বর্তমান সরকারকে অস্থিতিশীল করতে পারে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে NEC-র সিদ্ধান্তকে কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হয়।
কিছু শ্রম দল সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী এই সিদ্ধান্তের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তারা যুক্তি দেন, গোরটন ও ডেন্টন এলাকার স্থানীয় শ্রম দল সদস্যদেরই মেয়রকে প্রার্থী হিসেবে বেছে নেওয়ার সুযোগ থাকা উচিত ছিল, কেন্দ্রীয় কমিটির হস্তক্ষেপ নয়।
এই পদক্ষেপকে শ্রম দলের অভ্যন্তরে একটি বড় রাজনৈতিক ঝুঁকি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে, কারণ দলটি বর্তমানে রিফর্ম ইউকে-কে জাতীয় জরিপে পিছিয়ে রয়েছে। অভ্যন্তরীণ উত্তেজনা বাড়লে পার্টির সমগ্র পারফরম্যান্সে প্রভাব পড়তে পারে।
একজন উচ্চপদস্থ শ্রম দল সদস্যের মতে, “প্রধানমন্ত্রীর পুরো মেয়াদকে কঠিন বাই‑ইলেকশন জিততে সবচেয়ে শক্তিশালী প্রার্থী ছাড়া ঝুঁকিতে ফেলছে”। এই মন্তব্যটি NEC-র সিদ্ধান্তের সম্ভাব্য পরিণতি তুলে ধরে।
সিদ্ধান্তটি রবিবার সকালেই দশজন NEC সদস্যের মধ্যে গৃহীত হয়। এতে হোম সেক্রেটারি শাবানা মাহমুদ, পার্টি চেয়ার এলি রিভস এবং প্রধানমন্ত্রীরাও অংশ নেন।
ভোটের ফলাফল ৮-১ অনুপাতে বার্নহ্যামের প্রার্থীতা বাধা দেওয়া হয়। শাবানা মাহমুদ চেয়ার হিসেবে ভোট না দিয়ে বিরত থাকেন, আর শ্রম দলের ডেপুটি লিডার লুসি পাওয়েল তাকে অনুমোদন করার পক্ষে ভোট দেন।
মিটিংয়ে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয় যে, মেয়র ও পিএসিসি-দের পার্লামেন্টারি বাই‑ইলেকশনে অংশগ্রহণের বিরুদ্ধে কঠোর নিয়ম বজায় রাখা প্রয়োজন। এই নিয়মের পক্ষে অধিকাংশ সদস্যের সমর্থন পাওয়া যায়।
অগ্রসর হওয়া গোরটন‑ডেন্টন বাই‑ইলেকশন এখনো অনিশ্চিত পরিবেশে রয়েছে। শ্রম দলকে অভ্যন্তরীণ বিরোধ মোকাবেলা করতে হবে এবং স্থানীয় সদস্যদের চাহিদা পূরণে নিয়মের সম্ভাব্য পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা করতে হতে পারে।
সামগ্রিকভাবে, NEC-র এই সিদ্ধান্ত শ্রম দলের অভ্যন্তরে তীব্র বিতর্কের সূচনা করেছে এবং পার্লামেন্টারি নির্বাচনের ফলাফলকে প্রভাবিত করার সম্ভাবনা রয়েছে। দলটি কীভাবে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করবে, তা আগামী সপ্তাহে স্পষ্ট হবে।



