বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্য ২৪ জানুয়ারি শনিবার শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিবকে একটি চিঠি প্রেরণ করে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের জন্য ঘোষিত তিনদিনের ছুটি একদিনে সীমাবদ্ধ করার আবেদন জানায়। চিঠি সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সেলিম রহমানের স্বাক্ষরে রচিত এবং ছুটির প্রভাব সম্পর্কে বিশদ ব্যাখ্যা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন ও ভোটের দিন সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে, পাশাপাশি শিল্প এলাকার শ্রমিকদের জন্য ১০ ফেব্রুয়ারি অতিরিক্ত একদিন ছুটি প্রদান করা হয়েছে, ফলে মোট ছুটির সংখ্যা তিনদিনে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই ছুটিগুলো নির্বাচনের পাশাপাশি শব-ই-বরাত ও শহীদ দিবসের সঙ্গে সাপ্তাহিক ছুটিরও সমন্বয় ঘটায়।
বিজিএমইএ উল্লেখ করে যে, টানা তিনদিনের ছুটি রপ্তানি ও উৎপাদনে গুরুতর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। গার্মেন্টস সেক্টরের উৎপাদনশীলতা হ্রাস পেলে আন্তর্জাতিক অর্ডার পূরণে বিলম্ব এবং রপ্তানি আয় কমে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়বে।
পূর্বে সরকার শুধুমাত্র নির্বাচনের দিনকে ছুটি হিসেবে ঘোষণা করত, তবে এই বছর অতিরিক্ত দুই দিন যোগ হওয়ায় শিল্পখাতে কাজের দিন কমে যাবে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। ফেব্রুয়ারি মাসে শব-ই-বরাত, শহীদ দিবস এবং সাপ্তাহিক ছুটির পরে কর্মদিবসের সংখ্যা স্বাভাবিকভাবে ২২ দিন থাকে।
বিজিএমইএ গণনা করে দেখায় যে, যদি অতিরিক্ত তিনদিনের ছুটি বজায় থাকে, তবে কর্মদিবস ১৯ দিনে নেমে যাবে, যা উৎপাদন ক্ষমতা ও রপ্তানি পরিকল্পনাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করবে। কম কর্মদিবসের ফলে উৎপাদন লাইন বন্ধ হওয়ার সম্ভাবনা এবং শ্রমিকদের বেতন ও বোনাস প্রদানে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হবে।
গার্মেন্টস শিল্পে অর্ডার ও বাজারমূল্য সাম্প্রতিক মাসে ধারাবাহিকভাবে হ্রাস পেয়েছে, ফলে বহু কারখানা বন্ধের মুখে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ঈদুল ফিতরের পূর্বে শ্রমিকদের বোনাস ও ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন প্রদান করা মালিকপক্ষের জন্য আর্থিকভাবে কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে বিজিএমইএ দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষার জন্য তিনদিনের ছুটির পরিবর্তে শুধুমাত্র ভোটের দিন, অর্থাৎ ১২ ফেব্রুয়ারি ছুটি রাখার অনুরোধ জানায়। তারা জোর দিয়ে বলে যে, একদিনের ছুটি উৎপাদনশীলতা বজায় রাখতে সহায়তা করবে এবং রপ্তানি চাহিদা পূরণে বাধা সৃষ্টি করবে না।
যদি সরকার তিনদিনের ছুটি বজায় রাখতে চায়, তবে বিজিএমইএ প্রস্তাব করে যে বাকি দুই দিন, অর্থাৎ ১০ ও ১১ ফেব্রুয়ারি, শ্রমিকদের সাপ্তাহিক বা বার্ষিক ছুটির সঙ্গে নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে সমন্বয় করা হোক। এভাবে কর্মদিবসের সংখ্যা অপরিবর্তিত রেখে ছুটির সুবিধা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
চিঠির একটি অনুলিপি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবকেও প্রেরণ করা হয়েছে, যাতে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোও বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে। এই পদক্ষেপটি ছুটির নীতি সমন্বয়ে সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।
শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা আবদুল মালেক চিঠির বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান যে, এখনো এই বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়নি। তিনি উল্লেখ করেন যে, সরকার সকল প্রাসঙ্গিক দিক বিবেচনা করে যথাযথ সময়ে সিদ্ধান্ত নেবে।
বিজিএমইএর এই আবেদন দেশের রপ্তানি ভিত্তিক গার্মেন্টস শিল্পের ধারাবাহিকতা রক্ষার পাশাপাশি শ্রমিকদের আয় ও কর্মসংস্থান সুরক্ষিত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। সরকার যদি ছুটির সংখ্যা কমিয়ে দেয়, তবে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পাবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা বজায় থাকবে।
অন্যদিকে, যদি ছুটির সংখ্যা অপরিবর্তিত থাকে, তবে বিজিএমইএর প্রস্তাবিত সমন্বয় ব্যবস্থা শ্রমিকদের অধিকার রক্ষা করে উৎপাদন লাইন চালু রাখতে সহায়তা করবে। উভয় দিকই দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও গার্মেন্টস সেক্টরের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।



