বাগেরহাটের বেসিএল নেতা জুয়েল হাসান সাদাম, যিনি যশোর সেন্ট্রাল জেলে আটক আছেন, তার স্ত্রী ও শিশুর মৃতদেহ দেখার পর পারোলের বিষয়টি নিয়ে জনমত গরমে গরম হয়ে ওঠে। গৃহ মন্ত্রণালয় আজ একটি বিবৃতি প্রকাশ করে এই বিষয়ের স্পষ্টতা দেয়।
সাদামকে গত বছর গ্রেফতার করা হয় এবং তিনি যশোর জেলের ভিতরে শাস্তি পাচ্ছেন। তার পরিবারকে দুঃখের মধ্যে রেখে, স্ত্রী ও শিশুর মৃত্যু ঘটার পর পারোলের আবেদন করা হবে বলে অনুমান করা হয়। তবে এই অনুমানকে মন্ত্রণালয় স্পষ্টভাবে খারিজ করেছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সাদামের পরিবার কোনো লিখিত আবেদন জশোর উপজেলা দপ্তর, জেলা মেজিস্ট্রেট বা জেল প্রশাসনের কাছে জমা দেয়নি। পারোলের জন্য প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ না করা পর্যন্ত মুক্তি দেওয়া সম্ভব নয়।
মন্ত্রণালয় আরও জানায়, পরিবারের মুখে কথ্য ইচ্ছা প্রকাশের ভিত্তিতে সাদামের কাছে তার স্ত্রীর ও শিশুর দেহ দেখানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই সিদ্ধান্তটি জশোর জেল গেটের সামনে বাস্তবায়িত হয়, যেখানে পরিবারকে দেহ দেখার সুযোগ দেওয়া হয়।
দেখানোর কাজটি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে করা হয়েছে বলে মন্ত্রণালয় জশোর জেলা প্রশাসন ও জেল কর্তৃপক্ষের সর্বোচ্চ সহযোগিতা উল্লেখ করেছে। দেহ দেখার সময় নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রণালয় একই সঙ্গে বিভিন্ন মিডিয়া ও সামাজিক নেটওয়ার্কে ছড়িয়ে পড়া তথ্যকে ভুল বলে খণ্ডন করেছে। কিছু সূত্রে বলা হয়েছিল যে পারোলের আবেদন দাখিল করা হয়েছে, তবে মন্ত্রণালয়ের মতে তা সম্পূর্ণ অশুদ্ধ।
এই বিবৃতি প্রকাশের পর সামাজিক মাধ্যমে বিভিন্ন মতামত প্রকাশ পায়, তবে সরকারী দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি এখনো পরিষ্কার করা হয়েছে। পারোলের আবেদন না থাকায় সাদামের মুক্তি এখনো সম্ভব নয়।
আইনি দিক থেকে সাদামের মামলা চলমান রয়েছে। সংশ্লিষ্ট আদালত ও তদন্ত সংস্থার মাধ্যমে প্রমাণ সংগ্রহ ও বিচার প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। ভবিষ্যতে কোনো নতুন আবেদন বা মানবিক অনুরোধ উপস্থাপিত হলে তা যথাযথভাবে বিবেচনা করা হবে।
সারসংক্ষেপে, গৃহ মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি স্পষ্ট করে যে সাদামের পরিবার পারোলের জন্য কোনো আনুষ্ঠানিক আবেদন করেনি, এবং মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেহ দেখানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। পারোলের বিষয়ে কোনো ভুল তথ্য ছড়িয়ে পড়া থেকে রোধ করার জন্য মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট মিডিয়াকে সংশোধন করতে আহ্বান জানিয়েছে।



