বাংলাদেশ ব্যাংক জানুয়ারির প্রথম ২৪ দিনে প্রবাসী রেমিট্যান্সের মোট পরিমাণ প্রকাশ করেছে। এই সময়ে দেশ বিদেশ থেকে প্রাপ্ত রেমিট্যান্সের মূল্য ২৪৭ কোটি ৭০ লাখ ডলার রেকর্ড হয়েছে। ডলারের গড় রূপান্তর হার ১২২.৩০ টাকা ধরা হলে, এটি প্রায় ৩০,২৯৩ কোটি ৯০ লাখ টাকার সমান।
এই পরিসংখ্যান গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪৯ শতাংশ কম দেখায়। ২০২৪ সালের জানুয়ারির ২৪ দিনে রেমিট্যান্সের পরিমাণ ১৬৬ কোটি ৭০ লাখ ডলারের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। অতএব, এই হ্রাস দেশের বৈদেশিক মুদ্রা প্রবাহে স্বল্পমেয়াদী চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
অতীতের ডেটা অনুসারে, ২০২৩ সালের জানুয়ারির ২৫ দিনে মোট রেমিট্যান্সের পরিমাণ ১৬৬ কোটি ৭০ লাখ ডলার ছিল। এই সংখ্যা বর্তমান বছরের ২৪ দিনের পরিমাণের তুলনায় প্রায় ৮০ কোটি ডলার বেশি। তাই, মাসিক প্রবণতা বিশ্লেষণ করলে রেমিট্যান্সের ঊর্ধ্বমুখী গতি সাময়িকভাবে থেমে গেছে বলে ধারণা করা যায়।
অর্থবছর ২০২৫-২৬-এ জুলাই থেকে ২৪ জানুয়ারি পর্যন্ত রেমিট্যান্সের মোট পরিমাণ ১,৮৭৪ কোটি ২০ লাখ ডলার হয়েছে। এই সময়ে রেমিট্যান্সের পরিমাণ পূর্ববর্তী অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২১.৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। পূর্ববর্তী অর্থবছরে একই সময়ে রেমিট্যান্সের পরিমাণ ১,৫৪৩ কোটি ৯০ হাজার ডলার ছিল।
বৃহৎ পরিমাণ রেমিট্যান্সের প্রবাহ দেশের বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভে সরাসরি অবদান রাখে। রিজার্ভের বৃদ্ধি মুদ্রা স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং আন্তর্জাতিক ঋণ পরিশোধে সহায়তা করে। এছাড়া, রেমিট্যান্সের প্রবাহ বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে এবং বর্তমান হিসাবের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
বৃহত্তর রেমিট্যান্সের ফলে দেশীয় মুদ্রা সরবরাহ বাড়ে, যা ব্যাংকিং সিস্টেমে তরলতা বৃদ্ধি করে। এই অতিরিক্ত তরলতা আমদানি পণ্য ও মূলধন পণ্যের ক্রয় ক্ষমতা বাড়ায়। তবে, অতিরিক্ত মুদ্রা সরবরাহ মুদ্রাস্ফীতি চাপ বাড়াতে পারে, তাই কেন্দ্রীয় ব্যাংককে মনিটারি নীতি সমন্বয় করতে হবে।
প্রবাসী রেমিট্যান্সের মূল চালিকাশক্তি হল বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের আয়। গুলফ, সিঙ্গাপুর, সৌদি আরব এবং যুক্তরাষ্ট্রের মতো প্রধান রেমিট্যান্স গন্তব্য দেশগুলোতে কর্মসংস্থানের অবস্থা সরাসরি প্রবাহকে প্রভাবিত করে। তাছাড়া, ডলার-টাকার রূপান্তর হার রেমিট্যান্সের প্রকৃত মূল্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ভবিষ্যতে রেমিট্যান্সের প্রবাহের দিকনির্দেশনা বহুমুখী কারণের ওপর নির্ভরশীল। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা, তেল মূল্যের ওঠানামা এবং মুদ্রা বাজারের অস্থিরতা রেমিট্যান্সের পরিমাণকে প্রভাবিত করতে পারে। একই সঙ্গে, ডিজিটাল পেমেন্ট প্ল্যাটফর্মের বিস্তার এবং রেমিট্যান্স খরচের হ্রাস প্রবাহকে ত্বরান্বিত করার সম্ভাবনা রয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংককে রেমিট্যান্সের প্রবাহকে সঠিকভাবে ব্যবহার করে মুদ্রা স্থিতিশীলতা ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়াতে হবে। রেমিট্যান্সের মাধ্যমে প্রাপ্ত অতিরিক্ত মুদ্রা রিজার্ভে যুক্ত করে মুদ্রা হস্তক্ষেপের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। তদুপরি, রেমিট্যান্সের ব্যবহার বাড়াতে ঋণদাতাদের জন্য বিশেষ পণ্য ও সেবা উন্নয়ন করা দরকার।
সংক্ষেপে, জানুয়ারির প্রথম ২৪ দিনে রেমিট্যান্সের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হলেও, তা গত বছরের তুলনায় হ্রাস পেয়েছে।



