28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিনয়াদিল্লিতে শেখ হাসিনার উসকানিমূলক বক্তব্যে বাংলাদেশ সরকার প্রতিবাদ জানায়

নয়াদিল্লিতে শেখ হাসিনার উসকানিমূলক বক্তব্যে বাংলাদেশ সরকার প্রতিবাদ জানায়

বাংলাদেশ সরকার ও জনগণ ২৩ জানুয়ারি নয়াদিল্লিতে মানবতাবিরোধী অপরাধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দোষী সাব্যস্ত শীর্ষ রাজনৈতিক নেত্রী শেখ হাসিনার উসকানিমূলক ভাষণ শোনার অনুমতি দেওয়ার ওপর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। ভারতীয় কর্তৃপক্ষের অনুমোদনে অনুষ্ঠিত এই জনসভায় তিনি বাংলাদেশ সরকারকে অপসারণের আহ্বান জানিয়ে আসন্ন সাধারণ নির্বাচনের শান্তিপূর্ণ পরিচালনাকে ব্যাহত করার ইঙ্গিত দিয়েছেন।

শুক্রবার সন্ধ্যায় ভারতের রাজধানীর একটি হোটেল গৃহে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা উপস্থিত ছিলেন এবং তার বক্তব্যের বিষয়বস্তুকে বাংলাদেশ সরকার ও জনগণ ‘বিস্ময় ও হতবাক’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, তিনি সরাসরি দেশের শাসন কাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করে উসকানিমূলক মন্তব্য করেন, যা দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ভারত দ্বিপাক্ষিক প্রত্যর্পণ চুক্তির অধীনে শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তরের বাধ্যবাধকতা পূরণ না করে, বরং নিজ মাটিতে তাকে উসকানিমূলক বক্তব্যের মঞ্চ প্রদান করেছে। এই পদক্ষেপকে বাংলাদেশ সরকার ‘গণতান্ত্রিক উত্তরণ, শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে এবং আন্তর্জাতিক নীতিমালার পরিপন্থী বলে গণ্য করেছে।

বাংলাদেশ সরকার উল্লেখ করেছে, ভারতের রাজধানীতে এমন একটি অনুষ্ঠানের অনুমতি দেওয়া এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিকে উসকানিমূলক ভাষণে প্রকাশের সুযোগ প্রদান করা আন্তর্জাতিক সম্পর্কের স্বীকৃত নীতিগুলোর বিরোধী। বিশেষ করে সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান, অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং সুপ্রতিবেশীসুলভ আচরণের নীতি লঙ্ঘিত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের এই ‘নির্লজ্জ উসকানি’ আবারও প্রমাণ করে কেন অন্তর্বর্তী সরকার দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ করতে বাধ্য হয়েছিল। নির্বাচনের আগে ও নির্বাচনের দিন সহিংসতা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সংঘটিত হলে তার দায়িত্ব আওয়ামী লীগকেই নিতে হবে, এ কথাও সরকার জোর দিয়ে বলেছে।

ভারতীয় পক্ষ থেকে এখনো কোনো সরকারি মন্তব্য প্রকাশিত হয়নি, তবে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা উল্লেখ করছেন যে এই ধরনের রাজনৈতিক সমাবেশের অনুমোদন দ্বিপাক্ষিক চুক্তির শর্তাবলীর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। দু’দেশের কূটনৈতিক সংলাপের প্রেক্ষাপটে এই ঘটনা ভবিষ্যতে কী ধরনের প্রভাব ফেলবে তা নিয়ে বিশ্লেষণ চলছে।

বাংলাদেশ সরকার ভবিষ্যতে এই ধরনের ‘দস্যু ষড়যন্ত্র’ মোকাবিলার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের ইঙ্গিত দিয়েছে। এতে কূটনৈতিক নোটিশ, দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে স্পষ্ট ব্যাখ্যা চাওয়া এবং আন্তর্জাতিক ফোরামে বিষয়টি উত্থাপন করা অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। সরকার জোর দিয়েছে, দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এই ঘটনার পর দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর চাপ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশ সরকার ইতিমধ্যে ভারতকে দ্বিপাক্ষিক চুক্তির শর্তাবলী মানতে আহ্বান জানিয়েছে, অন্যদিকে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে স্পষ্ট ব্যাখ্যা চাওয়া হচ্ছে। উভয় দেশের পারস্পরিক স্বার্থ ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা রক্ষার জন্য এই বিষয়টি দ্রুত সমাধান করা জরুরি।

সারসংক্ষেপে, নয়াদিল্লিতে শেখ হাসিনার উসকানিমূলক বক্তব্যের অনুমতি দেওয়া বাংলাদেশ সরকারের দৃষ্টিতে আন্তর্জাতিক চুক্তি লঙ্ঘন এবং অভ্যন্তরীণ বিষয়ের হস্তক্ষেপের উদাহরণ। এই ঘটনা দু’দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের জটিলতা বাড়িয়ে তুলতে পারে এবং আসন্ন নির্বাচনের নিরাপত্তা পরিবেশকে প্রভাবিত করতে পারে। ভবিষ্যতে কী ধরনের কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে তা সময়ের সাথে প্রকাশ পাবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments