28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeব্যবসাআন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবস ২০২৬ সোমবার ২৬ জানুয়ারি উদযাপন

আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবস ২০২৬ সোমবার ২৬ জানুয়ারি উদযাপন

আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবস ২০২৬ আগামীকাল, অর্থাৎ সোমবার ২৬ জানুয়ারি পালিত হবে। বিশ্বব্যাপী কাস্টমসের গুরুত্ব তুলে ধরতে এই দিনটি নির্ধারিত এবং ওয়ার্ল্ড কাস্টমস অর্গানাইজেশন (ডব্লিউসিও) এর থিম “কাস্টমস প্রোটেক্টিং সোসাইটি থ্রু ভিজিল্যান্স অ্যান্ড কমিটমেন্ট”। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) রবিবার ২৫ জানুয়ারি একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি জারি করে এই তথ্য জানায়।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বৈশ্বিক বাণিজ্যের ধরণ পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে কাস্টমসের কাজের পরিধিও বিস্তৃত হয়েছে। এখন কাস্টমসের দায়িত্ব শুধুমাত্র রাজস্ব সংগ্রহে সীমাবদ্ধ নয়; বাণিজ্য সহজীকরণ, জাতীয় নিরাপত্তা, পরিবেশ সুরক্ষা, মেধাসত্ত্ব রক্ষা এবং চোরাচালান ও মানি লন্ডারিং প্রতিরোধের মতো ক্ষেত্রগুলোতে এর ভূমিকা বাড়ছে।

বাংলাদেশ ডব্লিউসিওর সদস্য দেশ হিসেবে আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবসকে যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে পালন করবে। ২৬ জানুয়ারি কেন্দ্রীয়ভাবে একটি সেমিনার আয়োজনের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন কাস্টমস হাউস ও স্টেশনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এই অনুষ্ঠানগুলোতে কাস্টমসের বর্তমান চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিশদ আলোচনা হবে।

সীমান্তে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ কাস্টমস পুলিশ, বাংলাদেশ গার্ড, গোয়েন্দা সংস্থা ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখে। আন্তর্জাতিক মাত্রায়ও ডব্লিউসিও-টিএফএ, ডব্লিউসিও-আরকেসি এবং সিএমএএ চুক্তির আওতায় তুরস্ক, সৌদি আরব, জাপান এবং সার্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার করা হয়েছে। চোরাচালান রোধে ডব্লিউসিওর আরআইএলও এবং কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট নেটওয়ার্ক (সিইএন) প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মোট রাজস্বের প্রায় ২৭ শতাংশ কাস্টমস থেকে এসেছে। এই অবদান দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। দেশীয় শিল্প সুরক্ষা, রপ্তানি বাণিজ্য বৃদ্ধি এবং শুল্ক হার যৌক্তিকীকরণের জন্য বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধা প্রদান করা হচ্ছে।

বাণিজ্য সহজীকরণে কাস্টমস আধুনিক ডিজিটাল প্রযুক্তি গ্রহণে অগ্রসর হয়েছে। এএসওয়াইসিইউডিএ ওয়ার্ল্ড, আইবিএস ইন্টিগ্রেশন, বাংলাদেশ সিঙ্গেল উইন্ডো (বিএসডব্লিউ) এবং অটোমেটেড রিস্ক ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যারের মাধ্যমে পণ্য খালাস প্রক্রিয়া এখন পেপারলেস এবং দ্রুততর হয়েছে।

‘টাইম রিলিজ স্টাডি’ অনুযায়ী, বর্তমানে ৯০ শতাংশ পণ্য নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মুক্তি পেয়েছে, যা কাস্টমসের কার্যকরী ডিজিটালাইজেশন ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থার ফলাফল। এই উন্নতি বাণিজ্যিক লেনদেনের গতি বাড়িয়ে দেশের অর্থনৈতিক প্রবাহকে ত্বরান্বিত করছে।

ডব্লিউসিও কর্তৃক নির্ধারিত থিমের আলোকে, কাস্টমসের নজরদারি ও প্রতিশ্রুতি বাড়াতে প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে কাস্টমসের ভূমিকা আরও বিস্তৃত হবে, বিশেষ করে পরিবেশ সুরক্ষা, ডিজিটাল বাণিজ্য এবং সাইবার নিরাপত্তা ক্ষেত্রে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের মতে, কাস্টমসের কার্যকরী ভূমিকা বজায় রাখতে অবকাঠামো উন্নয়ন, মানবসম্পদ প্রশিক্ষণ এবং প্রযুক্তিগত আপডেটের প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য। এধরনের পদক্ষেপগুলো দেশের বাণিজ্যিক প্রতিযোগিতা ক্ষমতা বাড়াবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করবে।

সারসংক্ষেপে, আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবসের উপলক্ষে বাংলাদেশ কাস্টমসের বিস্তৃত দায়িত্ব, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং ডিজিটাল রূপান্তরের মাধ্যমে দেশের বাণিজ্যিক পরিবেশকে আরও স্বচ্ছ ও নিরাপদ করতে কাজ করছে। এই উদ্যোগগুলো দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা যায়।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: Banglastream
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments