23 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeব্যবসাবেনাপোল ল্যান্ড পোর্টে ১২৫ টন বিস্ফোরক ভারত থেকে আমদানি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা তীব্র

বেনাপোল ল্যান্ড পোর্টে ১২৫ টন বিস্ফোরক ভারত থেকে আমদানি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা তীব্র

বেনাপোল ল্যান্ড পোর্টে গত রাতেই ১২৫ মেট্রিক টন বিস্ফোরক ভারত থেকে পৌঁছেছে, যা মধ্যাপাড়া গ্রানাইট মাইনিং প্রকল্পে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে আনা হয়েছে। এই শিপমেন্ট আটটি ভারতীয় ট্রাকের মাধ্যমে ৩১তম ট্রান্সশিপমেন্ট ইয়ার্ডে পৌঁছায়। পোর্ট কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সংস্থাগুলি তাৎক্ষণিকভাবে সতর্কতা বৃদ্ধি করেছে।

বিন্যাস অনুযায়ী, বিস্ফোরকগুলো ৩১তম ট্রান্সশিপমেন্ট ইয়ার্ডে রাতের বেলা স্থানান্তরিত হয় এবং সেখানেই সংরক্ষিত হয়। মোট আটটি ট্রাকের লোডিং ও আনলোডিং প্রক্রিয়া কঠোর তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন হয়। এই বৃহৎ পরিমাণের বিস্ফোরক একটি ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকায় সংরক্ষিত হওয়ায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

বিস্ফোরকের গন্তব্য মধ্যাপাড়া গ্রানাইট মাইনিং প্রকল্প, যা দিনাজপুর জেলার মধ্যাপাড়া এলাকায় অবস্থিত। এই প্রকল্পের জন্য মধ্যাপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানি লিমিটেড আমদানিকৃত বিস্ফোরক ব্যবহার করবে। রপ্তানিকারক হিসেবে ভারতের সুপার শিব শক্তি কেমিক্যাল প্রাইভেট লিমিটেড নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা বিস্ফোরকের বৃহৎ পরিমাণ সংরক্ষণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে, কারণ এই এলাকা ইতিমধ্যে বাণিজ্যিক গতি ও জনসাধারণের চলাচলে ব্যস্ত। তবে পোর্ট কর্তৃপক্ষ আশ্বাস দিয়েছে যে বিস্ফোরকের নিরাপদ সংরক্ষণে আন্তর্জাতিক মানের নিরাপত্তা প্রোটোকল অনুসরণ করা হবে।

বেনাপোল ল্যান্ড পোর্টের পরিচালক শামীম হোসেন জানান, শিপমেন্টের আগমনের পর থেকে কাস্টমস, পোর্ট সিকিউরিটি, পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ এবং অগ্নি সেবা সহ সকল সংশ্লিষ্ট সংস্থা উচ্চ সতর্কতায় কাজ করছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ক্রমাগত পর্যবেক্ষণ এবং সমন্বিত সমন্বয় ব্যবস্থা গৃহীত হয়েছে।

এই ধরনের বিস্ফোরকের বড় পরিমাণের আমদানি গ্রানাইট খনির চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সরবরাহ শৃঙ্খলে নতুন দিক উন্মোচন করে। মধ্যাপাড়া প্রকল্পের জন্য উচ্চ ক্ষমতার বিস্ফোরক প্রয়োজন, যা খনির উৎপাদনশীলতা ও দক্ষতা বৃদ্ধি করতে সহায়তা করবে। ফলে স্থানীয় নির্মাণ ও অবকাঠামো খাতে সরবরাহকারী সংস্থাগুলোর জন্য নতুন ব্যবসায়িক সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।

অন্যদিকে, বিস্ফোরকের নিরাপদ ব্যবহার ও সংরক্ষণে নিয়ন্ত্রক কাঠামোর কঠোরতা বাড়বে বলে আশা করা যায়। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশসহ নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর তীব্র নজরদারি সম্ভাব্য দুর্ঘটনা রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এই প্রেক্ষাপটে, সংশ্লিষ্ট শিল্পের জন্য নিরাপত্তা মানদণ্ডের পুনর্বিবেচনা ও উন্নয়ন প্রয়োজন হতে পারে।

বাজার বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, বৃহৎ পরিমাণে বিস্ফোরকের আমদানি দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে, তবে একই সঙ্গে সরবরাহ শৃঙ্খলের ওপর চাপ বাড়তে পারে। যদি চাহিদা ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পায়, তবে স্থানীয় উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য রপ্তানি-ভিত্তিক ব্যবসা সম্প্রসারণের সম্ভাবনা দেখা দিতে পারে।

নিয়ন্ত্রক দৃষ্টিকোণ থেকে, বিস্ফোরকের নিরাপদ হ্যান্ডলিং ও সংরক্ষণে অতিরিক্ত প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করা জরুরি। অগ্নি সেবা ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে সমন্বিত প্রশিক্ষণ সেশন চালিয়ে যেতে হবে, যাতে জরুরি অবস্থায় দ্রুত ও সঠিক পদক্ষেপ নেওয়া যায়।

ভবিষ্যতে, মধ্যাপাড়া গ্রানাইট মাইনিং প্রকল্পের মতো বড় মাপের খনির কাজের জন্য বিস্ফোরকের চাহিদা বাড়তে পারে, যা আমদানি ও স্থানীয় উৎপাদনের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার প্রয়োজনীয়তা তৈরি করবে। সরকার ও শিল্প সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে নিরাপত্তা নীতি ও পরিবেশগত মানদণ্ডের কঠোর পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করা উচিত।

সারসংক্ষেপে, ১২৫ টন বিস্ফোরকের এই আমদানি দেশের খনন শিল্পের সম্প্রসারণে সহায়ক হলেও, নিরাপত্তা, নিয়ন্ত্রক মানদণ্ড এবং সরবরাহ শৃঙ্খলের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সমন্বিত পদক্ষেপের প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থার তীব্র সতর্কতা ও সমন্বিত কাজই সম্ভাব্য ঝুঁকি কমিয়ে শিল্পের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করবে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments