একটি বেসরকারি সংস্থা হাই কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিট আবেদন দাখিল করে একই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বার্ষিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের পরবর্তী শ্রেণিতে পুনঃভর্তি নামে কোনো ফি আদায় বন্ধের নির্দেশনা চেয়েছে। আবেদনটি সংস্থার নির্বাহী পরিচালক আলী আসগর ইমন হাই কোর্টে উপস্থাপন করেছেন এবং তিনি উল্লেখ করেন যে এই প্রথা বহু বছর ধরে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় গোপন শোষণের রূপে বিদ্যমান।
ইমন বলেন, একই স্কুলে ধারাবাহিকভাবে পড়াশোনা করা শিক্ষার্থীরা বার্ষিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে এক শ্রেণি থেকে অন্য শ্রেণিতে যাওয়ার সময় নতুন ভর্তি হিসেবে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন যে এই প্রক্রিয়ায় শিক্ষা পণ্য রূপে রূপান্তরিত হয়েছে এবং অভিভাবকরা আর্থিকভাবে চাপের মুখে পড়েছেন। মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য সন্তানদের শিক্ষার খরচ ইতিমধ্যে বড় অংশ গঠন করে; অতিরিক্ত পুনঃভর্তি ফি তাদের আর্থিক সংকটকে তীব্র করে তুলছে।
সরকারি নীতি অনুযায়ী, শিক্ষা মন্ত্রণালয় নভেম্বর মাসে বেসরকারি স্কুল, কলেজ এবং নিম্নমাধ্যমিক স্তরের জন্য একটি ভর্তি নীতিমালা জারি করে। এই নীতিমালায় বলা হয়েছে যে একই প্রতিষ্ঠানে বার্ষিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে পরবর্তী শ্রেণিতে ভর্তি হলে প্রতি সেশনে সেশন চার্জ নেওয়া যাবে, তবে পুনঃভর্তি ফি নেওয়া নিষিদ্ধ। ইমন উল্লেখ করেন, এই নির্দেশনা সর্বোচ্চ প্রশাসনিক স্তর থেকে স্পষ্টভাবে প্রকাশিত হলেও বাস্তবায়ন পর্যায়ে যথেষ্ট ঘাটতি রয়েছে।
সংস্থা দাবি করে যে দেশের বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এই নীতিমালা লঙ্ঘন করে অবৈধভাবে পুনঃভর্তি ফি সংগ্রহ করছে। যদিও শিক্ষা বোর্ড, জেলা প্রশাসন এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর এই ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি, তবু রিট আবেদনকারী সংস্থা এই অবৈধ প্রথা বন্ধের জন্য আদালতের হস্তক্ষেপ চায়। তারা অনুমান করে যে প্রতি বছর দেশের শিক্ষাবাজারে প্রায় দশ হাজার কোটি টাকা অবৈধ ফি হিসেবে প্রবাহিত হচ্ছে।
এই প্রেক্ষাপটে সংস্থা ‘বাংলাদেশ আইন ও অধিকার এইড’ এর সহায়তায় রিট আবেদন দাখিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আবেদনপত্রে পুনঃভর্তি ফি আদায়ের অবৈধতা স্বীকার করে তা অবিলম্বে বন্ধ করার পাশাপাশি ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে ইতিমধ্যে এই ফি প্রদানকারী শিক্ষার্থীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার নির্দেশ চাওয়া হয়েছে। সংস্থা দাবি করে যে এই পদক্ষেপ শিক্ষার ন্যায়সঙ্গত প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করবে এবং আর্থিকভাবে দুর্বল গোষ্ঠীর ওপর চাপ কমাবে।
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে পুনঃভর্তি ফি সংগ্রহের প্রথা দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যমান, তবে সরকারী নীতিমালা স্পষ্টভাবে এটিকে নিষিদ্ধ করেছে। বাস্তবায়নের অভাবে শিক্ষার্থীরা ও তাদের পরিবারগুলো অতিরিক্ত আর্থিক বোঝার সম্মুখীন হচ্ছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা অনুসারে, শুধুমাত্র সেশন চার্জ নেওয়া বৈধ, আর পুনঃভর্তি ফি সংগ্রহ করা অবৈধ বলে স্বীকৃত।
এই রিট আবেদন শিক্ষার ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দায়িত্বশীল নাগরিক সংস্থার উদ্যোগকে তুলে ধরে। আদালতের রায় যদি সংস্থার দাবিকে সমর্থন করে, তবে শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণ রোধে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন হবে। অন্যদিকে, যদি আদালত কোনো সুনির্দিষ্ট নির্দেশ না দেয়, তবে পুনঃভর্তি ফি সংগ্রহের প্রথা অব্যাহত থাকতে পারে এবং শিক্ষার্থীদের আর্থিক ক্ষতি বাড়তে পারে।
শিক্ষা ক্ষেত্রের এই সমস্যার সমাধানে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের জন্য কিছু ব্যবহারিক পরামর্শ দেওয়া যায়। প্রথমত, ভর্তি প্রক্রিয়ার সময় স্কুলের নীতিমালা সম্পর্কে স্পষ্টভাবে জিজ্ঞাসা করা এবং কোনো অতিরিক্ত ফি আদায়ের ক্ষেত্রে লিখিত রসিদ চাওয়া উচিত। দ্বিতীয়ত, যদি কোনো প্রতিষ্ঠান পুনঃভর্তি ফি দাবি করে, তবে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ড বা জেলা প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দাখিল করা যেতে পারে। তৃতীয়ত, শিক্ষার্থীর পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে স্বাভাবিক সেশন চার্জের বাইরে কোনো অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা দরকার। এই পদক্ষেপগুলো শিক্ষার সুষ্ঠু প্রবেশাধিকার রক্ষায় সহায়তা করবে।
সংস্থার রিট আবেদন এখন হাই কোর্টে বিবেচনাাধীন এবং আদালতের রায়ের অপেক্ষায় রয়েছে। যদি রায়ে পুনঃভর্তি ফি আদায় বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়, তবে শিক্ষাব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।



