27 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিকুরিগ্রাম প্রাইমারি স্কুলে শিক্ষার্থীদের বিএনপি চিহ্নের স্লোগান গাওয়ায় কোড লঙ্ঘনের অভিযোগ

কুরিগ্রাম প্রাইমারি স্কুলে শিক্ষার্থীদের বিএনপি চিহ্নের স্লোগান গাওয়ায় কোড লঙ্ঘনের অভিযোগ

কুরিগ্রাম জেলার ভূরুঙ্গামারী উপজেলা, শিলখুরি ইউনিয়নের পূর্ব ধলদাঙ্গা সরকারী প্রাইমারি স্কুলে শিক্ষার্থীদেরকে বিএনপি’র নির্বাচনী প্রতীক ‘ধানের গুঁড়ি’ সমর্থনে স্লোগান গাওয়ানোর ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার ফলে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে।

প্রায় পঁয়তাল্লিশ সেকেন্ডের এই ভিডিওতে তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা স্কুলের প্রাঙ্গণে সারিবদ্ধ হয়ে দলবদ্ধভাবে স্লোগান উচ্চারণ করতে দেখা যায়। শিক্ষক ও কিছু প্রাপ্তবয়স্কের উপস্থিতি সত্ত্বেও শিশুরা নির্দিষ্ট রাজনৈতিক প্রতীককে সমর্থন জানাতে বাধ্য হয়।

ভিডিওতে শিশুরা “যদি বড় হই, তবে ধানের গুঁড়ি ভোট দেব” এবং “যদি ভোটার হই, তবে ধানের গুঁড়ি ভোট দেব” বলে একাধিকবার পুনরাবৃত্তি করে। এই বাক্যগুলোতে স্পষ্টভাবে বিএনপি’র নির্বাচনী প্রতীককে সমর্থন জানানো হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, ভিডিওটি বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বিকেল প্রায় ৩:৩০ টায় রেকর্ড করা হয় এবং পরের দিন শুক্রবার ফেসবুকে আপলোড হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত শেয়ার হতে থাকে। সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার বাড়ার ফলে বিষয়টি দ্রুত জনসাধারণের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

ভূরুঙ্গামারী উপজেলার নিকটবর্তী নির্বাচনী অফিসের সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহাদত হোসেন বিষয়টি জানার পর ভিডিওটি ডাউনলোড করে নির্বাচনী তদন্ত কমিটিতে পাঠানোর কথা জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, প্রমাণ যাচাইয়ের পর প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পূর্ব ধলদাঙ্গা সরকারী প্রাইমারি স্কুলের প্রধান শিক্ষক সন্তোষ কুমার জানান, বৃহস্পতিবার বিকেল ৩:৩০ টার দিকে ভূরুঙ্গামারী উপজেলার ছাত্র দলীয় উপ-সমন্বয়ক মাশরাফি বিন মোকাদ্দেসের নেতৃত্বে একটি দল স্কুলে এসে শিক্ষার্থীদেরকে রাজনৈতিক স্লোগান গাওয়াতে বাধ্য করে। তিনি বলেন, তিনি তাৎক্ষণিকভাবে বিরোধিতা করলেও দলের চাপ সামলাতে পারেননি।

মাশরাফি বিন মোকাদ্দেস ঘটনাটিকে অনিচ্ছাকৃত বলে দাবি করে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। তিনি বলেন, ভিডিওটি ফেসবুক থেকে মুছে ফেলা হয়েছে, তবে কেউ ডাউনলোড করে পুনরায় শেয়ার করেছে কিনা তা নিশ্চিত নয়।

ভূরুঙ্গামারী উপজেলার ছাত্র দলীয় সমন্বয়ক মিজানুর রহমান জানান, ঘটনাটির পর জেলা ছাত্র দলের সভাপতি সঙ্গে পরামর্শ করে অভিযুক্তকে শো-কজ নোটিশ জারি করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, নোটিশের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট নেতার কাছ থেকে ব্যাখ্যা চাওয়া হবে এবং প্রয়োজনীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নির্বাহী কর্মকর্তারা বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের তদন্ত কমিটিতে পাঠিয়ে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। যদি প্রমাণে দেখা যায় যে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘিত হয়েছে, তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি শাস্তি এবং নির্বাচনী যোগ্যতা বাতিলের মতো ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

এই ধরনের ঘটনা স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক দলগুলোর কার্যক্রমের স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে। বিশেষত শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক কাজে ব্যবহার করা নির্বাচন আইন অনুযায়ী নিষিদ্ধ, তাই ভবিষ্যতে এধরনের লঙ্ঘন রোধে কঠোর নজরদারি ও শাস্তিমূলক পদক্ষেপের দাবি বাড়বে।

বিএনপি’র নির্বাচনী প্রতীককে সমর্থন জানাতে শিশুরা বাধ্য করা হলে তা শুধু আইনগত লঙ্ঘন নয়, শিক্ষার পরিবেশের নৈতিকতা ও স্বতন্ত্রতা ক্ষুণ্ণ করার ঝুঁকি বহন করে। তাই সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের দ্রুত ও ন্যায়সঙ্গত পদক্ষেপের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করা জরুরি।

বিষয়টি এখন নির্বাচনী তদন্ত কমিটির হাতে, যেখানে প্রমাণের ভিত্তিতে আইনি প্রক্রিয়া চালু হবে এবং ভবিষ্যতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ রোধে কঠোর নিয়মাবলী প্রয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments