অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের প্রথম রাউন্ডে ২০ বছর বয়সী আমেরিকান টিয়েন নাকের রক্তপাতের সমস্যার সত্ত্বেও রাশিয়ান শীর্ষস্থানীয় দানিয়েল মেদভেদেভকে ৬-৪, ৬-০, ৬-৩ স্কোরে পরাজিত করে গ্র্যান্ড স্ল্যামের কোয়ার্টারফাইনালে পৌঁছেছেন। ম্যাচটি মার্গারেট কোর্ট আরেনায় এক ঘণ্টা চুয়ান্ন মিনিটে শেষ হয় এবং টিয়েনের ২৫তম সিডকে তৃতীয় সিডের জার্মান অ্যালেক্সান্ডার জভারেভের সঙ্গে শেষ আটের লড়াইয়ের মুখোমুখি করে।
টিয়েনের এই জয় তাকে ২০১৫ সালে নিক কিরগিয়োসের পর মেলবোর্ন পার্কে সর্বকনিষ্ঠ পুরুষ একক কোয়ার্টারফাইনালিস্ট করে তুলেছে। এছাড়া, ২০০২ সালের ইউএস ওপেনে অ্যান্ডি রডিকের পর সর্বশেষ আমেরিকান পুরুষ খেলোয়াড় হিসেবে টিয়েন স্ল্যামের শেষ আটে প্রবেশ করেছেন।
ম্যাচের শুরুতে টিয়েন দ্রুতই প্রথম গেম জিততে সক্ষম হন, তবে প্রথম সেটের মাঝামাঝি নাকের রক্তপাতের কারণে তাকে চিকিৎসা নিতে হয়। সাত মিনিটের বিরতির পর খেলাটি পুনরায় শুরু হয় এবং টিয়েনই তৎক্ষণাৎ সেটটি জিতে নেয়।
দ্বিতীয় সেটে টিয়েন ধারাবাহিকভাবে গেম জয় করে, মেদভেদেভের প্রতিরোধের কোনো ছাপ না রেখে ৬-০ স্কোরে সেটটি শেষ করেন। তৃতীয় সেটে টিয়েন আরও দশটি গেম ধারাবাহিকভাবে জিতেন, ফলে মেদভেদেভের আত্মবিশ্বাস ভেঙে যায় এবং তিনি শেষ পর্যন্ত ৬-৩ স্কোরে হেরে যান।
মেডভেদেভ, যিনি পূর্বে বিশ্ব নম্বর এক ছিলেন এবং অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে শেষ পাঁচটি ফাইনালের মধ্যে তিনটি ফাইনালে পৌঁছেছেন, এই ম্যাচে তার পূর্বের শীর্ষ ফর্মের তুলনায় অনেকটা দুর্বল দেখিয়েছেন। তিনি গত বছরই টিয়েনের তরুণ কুয়ালিফায়ার হিসেবে প্রথমবারের মতো পরাজিত হয়েছিলেন, তবে এইবারের পরাজয় তার জন্য আরও বেশি দুঃখজনক।
টিয়েনের জয় নিয়ে তিনি প্রকাশ করেছেন, “এটি সত্যিই অবিশ্বাস্য অনুভূতি, বিশেষ করে এখানে।” তিনি আরও যোগ করেন, “প্রতিবার এখানে আসলে দর্শকদের সমর্থন আমাকে অনুপ্রাণিত করে, তাদের উচ্ছ্বাস ও উষ্ণতা আমার জন্য অমূল্য।” এই মন্তব্যগুলো টিয়েনের আত্মবিশ্বাস এবং দর্শকদের সঙ্গে তার সংযোগকে তুলে ধরে।
মেডভেদেভের পূর্বের উল্লেখযোগ্য পারফরম্যান্সের মধ্যে ২০২১ সালে নোভাক জোকারভিচের বিরুদ্ধে ফাইনাল এবং ২০২২ সালে রাফায়েল নাদালের সঙ্গে হৃদয়বিদারক হারের কথা রয়েছে। ২০২৪ সালে তিনি জানিক সিনারের সঙ্গে পাঁচ সেটে হেরে শেষ করেন, যেখানে তিনি দুই সেট আগে ছিলেন।
টিয়েনের এই জয় তাকে এটিপি নেক্সট জেন শিরোপা জয় করার পরের বড় সাফল্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তিনি নভেম্বর মাসে মেটজে তার প্রথম ক্যারিয়ার শিরোপা জিতেছিলেন, যা তার উত্থানকে আরও দৃঢ় করেছে।
পরবর্তী রাউন্ডে টিয়েনকে তৃতীয় সিডের অ্যালেক্সান্ডার জভারেভের সঙ্গে মুখোমুখি হতে হবে, যিনি তার শক্তিশালী সার্ভ এবং আক্রমণাত্মক খেলার জন্য পরিচিত। উভয় খেলোয়াড়ের মধ্যে এই ম্যাচটি অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের বাকি পর্যায়ের জন্য বড় আকর্ষণ তৈরি করবে।
ম্যাচের পরিসংখ্যান দেখায় টিয়েন মোট ১ ঘণ্টা ৪২ মিনিটে তিন সেটে ১৮ গেম জিতেছেন, যেখানে মেদভেদেভ মাত্র ৭ গেমই অর্জন করতে পেরেছেন। টিয়েনের সার্ভের গতি এবং রিটার্নের নির্ভুলতা এই জয়ের মূল কারণ হিসেবে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।
অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের এই রাউন্ডে টিয়েনের পারফরম্যান্সকে টেনিস জগতের বিশ্লেষকরা ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা হিসেবে দেখছেন, বিশেষ করে তার শারীরিক দৃঢ়তা এবং মানসিক স্থিতিশীলতা। নাকের রক্তপাতের মাঝেও তিনি ধারাবাহিকভাবে পয়েন্ট জয় করে ম্যাচটি শেষ করেছেন, যা তার প্রতিযোগিতামূলক মানসিকতা প্রকাশ করে।
টিয়েনের এই সাফল্য আমেরিকান টেনিসের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে, যেখানে তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য নতুন উদাহরণ তৈরি হচ্ছে। অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের কোয়ার্টারফাইনালে তার উপস্থিতি টেনিস প্রেমীদের জন্য একটি উত্তেজনাপূর্ণ মুহূর্ত, এবং পরবর্তী ম্যাচে তিনি কীভাবে জার্মান শীর্ষস্থানীয়কে মোকাবেলা করবেন তা সকলের দৃষ্টির কেন্দ্রে থাকবে।



