শফিকুর রহমান, জামায়াত-এ-ইসলামি দলের অ্যামির, রোববার ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে এক জনসভার মাধ্যমে নারীর নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সান্ধ্য বাস সেবা চালুর প্রতিশ্রুতি জানালেন। তিনি উল্লেখ করেন, কর্মজীবী নারীরা চলাচলে যে বাধার সম্মুখীন হন, তা দূর করা সরকার গঠন করলে সম্ভব হবে।
বক্তা বলেন, বর্তমানে নারীর জন্য দু’টি মৌলিক চাহিদা পূরণ হয়নি – নিরাপত্তা এবং সম্মান। ঘরে, কর্মস্থলে ও চলাচলের সময় এই দুই দিককে অগ্রাধিকার দিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন। বিশেষ করে পিক আওয়ারের সময় বড় শহরগুলোতে, রাজধানীসহ, শুধুমাত্র নারীদের জন্য ইভনিং বাস চালু করা হবে।
শফিকুর রহমানের মতে, পুরুষরা হাঁটা, সাইকেল চালানো, বাইক চালানো ও পাবলিক ট্রান্সপোর্টে স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচল করতে পারে, তবে নারীর মর্যাদা জীবনের চেয়ে বেশি মূল্যবান। তিনি জোর দিয়ে বলেন, কোনো নারীকে আর ‘ইভটিজিং’ বা হেনস্থা সহ্য করতে হবে না; নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত হওয়া পর্যন্ত এই ধরনের ঘটনা আর ঘটবে না।
অধিকন্তু, তিনি ডাবল ডেকার বাসের নিচের তলা নারীদের জন্য সংরক্ষণ করা হবে বলে জানিয়ে দেন। বর্তমানের ডাবল ডেকার বাসে উপরের তলায় চড়তে নারীদের কষ্ট হয়, তাই নিচের তলা বিশেষভাবে তাদের জন্য রাখা হবে। এতে করে নারীরা নিরাপদে ও স্বাচ্ছন্দ্যে যাতায়াত করতে পারবে।
শফিকুরের বক্তব্যের সময় তিনি উল্লেখ করেন, নারীর কাজের স্থান বাড়াতে হলে প্রথমে তাদের চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা দরকার। তিনি বলেন, “পুরুষরা যেকোনো সময় চলাচল করতে পারে, কিন্তু আমাদের মায়ের মর্যাদা আমাদের জীবনের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।” এই নীতির ভিত্তিতে তিনি নারীর জন্য বিশেষ বাস সেবা চালু করার পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
বক্তা আরও বলেন, সমাজ ও দেশের গঠন দুই লিঙ্গের সমন্বয়ে হয়; একপাশে নারীর অবহেলা করলে অন্যপাশে অগ্রগতি সম্ভব নয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, নারীর কর্মসংস্থান বাড়াতে হলে তাদের নিরাপদ পরিবহন ব্যবস্থা অপরিহার্য।
শফিকুরের এই প্রতিশ্রুতি নির্বাচনী প্রচারের অংশ হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে। দুই দিন আগে তিনি নির্বাচনী সফর শেষ করে ঢাকায় ফিরে এসে এই জনসভার মাধ্যমে ভোটারদের কাছে তার পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন। তিনি উল্লেখ করেন, “মায়েরা ঘরের বাইরে কাজ করবেন, তা আমাদের সমাজের অগ্রগতির জন্য অপরিহার্য।”
এদিকে, অন্যান্য রাজনৈতিক দল থেকে এখনো কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন, নারীর নিরাপত্তা ও চলাচল সংক্রান্ত এই প্রতিশ্রুতি নারীর ভোটার গোষ্ঠীর মধ্যে শফিকুরের জনপ্রিয়তা বাড়াতে পারে।
শফিকুরের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় বাজেট ও নীতিগত কাঠামো গঠন করা হবে বলে তিনি জানান। তিনি বলেন, “ইনশাআল্লাহ, সরকার গঠন হলে আমরা দ্রুত এই ব্যবস্থা কার্যকর করব।” ভবিষ্যতে এই সেবা কীভাবে কার্যকর হবে, তা পর্যবেক্ষণ করা হবে।
প্রস্তাবিত সান্ধ্য বাস সেবা শুধুমাত্র ঢাকা নয়, বরং দেশের অন্যান্য বড় শহরেও সম্প্রসারিত হবে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন। এতে করে নারীরা পিক আওয়ারের সময় নিরাপদে কাজের দিকে ফিরে যেতে পারবে।
শফিকুরের বক্তব্যের শেষাংশে তিনি ধর্মীয় বিশ্বাসের সঙ্গে নারীর মর্যাদার গুরুত্ব যুক্ত করেন। তিনি বলেন, “আমরা গভীরভাবে বিশ্বাস করি, আমাদের মায়ের ইজ্জত আমাদের জীবনের চেয়ে বেশি মূল্যবান।” এই দৃষ্টিকোণ থেকে তিনি নারীর নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষার জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
এই ঘোষণার পর, জনসাধারণের মধ্যে নারীর নিরাপত্তা ও চলাচল সংক্রান্ত আলোচনার তীব্রতা বাড়ছে। শফিকুরের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হলে, তা দেশের নারীর সামাজিক অবস্থান ও কর্মসংস্থান সুযোগে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ভবিষ্যতে সরকার গঠন হলে এই পরিকল্পনা কীভাবে রূপ নেবে, তা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের নজরে থাকবে।



