টোকিওর উএনো চিড়িয়াখানায় রবিবার শেষবারের মতো লেই লেই ও শাও শাও নামে দুইটি পাণ্ডা দর্শকদের সামনে বিদায় নিল। উভয় প্রাণী চীনের “পাণ্ডা কূটনীতি” প্রকল্পের অংশ হিসেবে জাপানে ধার করা হয়েছিল এবং আগামী মঙ্গলবার চীনে ফিরে যাবে। এই প্রত্যাবর্তন জাপানকে অর্ধশতাব্দীর পর প্রথমবারের মতো দেশের একমাত্র পাণ্ডা থেকে বঞ্চিত করে দেবে।
১৯৭২ সালে জাপান ও চীন কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পর থেকে পাণ্ডা দুই দেশের বন্ধুত্বের প্রতীক হিসেবে কাজ করেছে। উএনো চিড়িয়াখানায় ১৯৯৪ সালে প্রথম পাণ্ডা আসার পর থেকে লেই লেই ও শাও শাও দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যটকদের আকর্ষণীয় কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।
চিড়িয়াখানার ঘাসে বসে থাকা দর্শকরা পাণ্ডাদের বাঁশ খাওয়া দেখার সময় চোখে অশ্রু নিয়ে গিয়েছিলেন। চার বছর বয়সী জোড়া পাণ্ডা শান্তভাবে বাঁশ চিবিয়ে চলার দৃশ্যকে বহু পরিবার স্মরণীয় মুহূর্ত হিসেবে বর্ণনা করেছে।
একজন টোকিও বাসিন্দা, ৩৯ বছর বয়সী গেন তাখাহাশি, তার স্ত্রী ও দুই বছর বয়সী মেয়ের সঙ্গে চিড়িয়াখানা পরিদর্শন করে মন্তব্য করেন, “পাণ্ডা দেখা চীনের সঙ্গে সংযোগ গড়তে সাহায্য করে, তাই আমি চাই তারা আবার জাপানে ফিরে আসুক। শিশুরা পাণ্ডা পছন্দ করে, তাই যদি আমাদের দেশে দেখা যায়, অবশ্যই আবার আসব।” এই অনুভূতি বহু পরিবারে শেয়ার করা হয়েছে।
অন্যদিকে, আইচি অঞ্চলের মায়ুকো সুমিদা, লটারিতে না জেতেও কয়েক ঘণ্টা ভ্রমণ করে পাণ্ডা দেখার জন্য অপেক্ষা করেন। তিনি পাণ্ডার চলাচলকে “বড় হলেও মজার, কখনো কখনো মানুষের মতো আচরণ করে” বলে বর্ণনা করেন এবং যোগ করেন, “জাপানে পাণ্ডা না থাকলে কিছুটা দুঃখের অনুভূতি হয়।”
পাণ্ডাদের চীনে প্রত্যাবর্তনের সিদ্ধান্তটি শেষ মাসে প্রকাশিত হয়, যখন জাপানের রক্ষণশীল প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি তাইওয়ানের ওপর সম্ভাব্য সামরিক হস্তক্ষেপের ইঙ্গিত দেন। এই মন্তব্য চীনের তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে, কারণ চীন দ্বীপটিকে নিজের ভূখণ্ড হিসেবে গণ্য করে। কূটনৈতিক উত্তেজনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পাণ্ডা ফেরত দেওয়ার পরিকল্পনা ত্বরান্বিত হয়।
উএনো চিড়িয়াখানায় মোট ৪,৪০০ লটারির বিজয়ী পাণ্ডা দেখার সুযোগ পেয়েছেন, অন্য দর্শকরা পাণ্ডা-থিমযুক্ত শার্ট, ব্যাগ ও পুতুল পরিধান করে সমাবেশ করেছেন। এই জনসাধারণের উচ্ছ্বাস পাণ্ডার প্রতি দেশের গভীর স্নেহকে প্রকাশ করে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, পাণ্ডার প্রত্যাবর্তন সরাসরি রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নাও হতে পারে, তবে ভবিষ্যতে পাণ্ডা আবার জাপানে ফিরে এলে তা দুই দেশের সম্পর্কের উষ্ণতা নির্দেশ করবে। এমন প্রতীকী পদক্ষেপ কূটনৈতিক সম্পর্কের সূচক হিসেবে কাজ করতে পারে।
লেই লেই ও শাও শাওয়ের চীনে প্রস্থান জাপানকে অর্ধশতাব্দীর পর প্রথমবারের মতো পাণ্ডা-মুক্ত করে দেবে, যা দেশের প্রাণী সংরক্ষণ ও কূটনৈতিক ঐতিহ্যের ওপর নতুন আলো ফেলবে। ভবিষ্যতে সম্পর্কের উন্নতি হলে পাণ্ডা পুনরায় জাপানে ফিরে আসতে পারে, যা উভয় দেশের জনগণের জন্য আনন্দের বিষয় হবে।



