গতকাল শনিবার রাত, বরগুনা জেলার পাথরঘাটার কাটাখালী এলাকায় অনুষ্ঠিত বরগুনা‑২ আসনের জামায়াত-এ-ইসলামি প্রার্থীর নির্বাচনী জনসভায় জামায়াত-এ-ইসলামি সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মো. শামীম আহসান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)কে মাদকের ও যৌন অপরাধের কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করে মন্তব্য করেন। তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচনের পর ডাকসুতে যে অবৈধ কার্যকলাপের গন্ধ ছিল, তা এখন পরিবর্তিত হয়েছে।
মো. শামীম আহসান বলেন, “ডাকসুতে মাদকের আড্ডা ও যৌন দুর্ব্যবহার ছিল, কিন্তু এখন ইসলামি ছাত্রশিবিরের হস্তক্ষেপে তা বদলে গেছে।” তিনি যুক্তি দেন, জামায়াত-এ-ইসলামি এই পরিবর্তনকে স্বীকৃতি দিয়ে দেশের সব ধরনের দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি নির্মূলের সক্ষমতা দাবি করছেন।
আহসান আরও উল্লেখ করেন, “আমাদের লক্ষ্য হল বাংলাদেশে সব রকমের অন্যায় ও দুর্নীতি দূর করা, এবং এ জন্য জামায়াত-এ-ইসলামি প্রস্তুত।” তিনি দাবি করেন, ধর্মীয় নীতি অনুসরণ করে রাজনৈতিক কার্যক্রম চালিয়ে পার্টি দেশের নৈতিক পরিবেশকে উন্নত করতে পারে।
রাজনীতির উদ্দেশ্য সম্পর্কে আহসান বলেন, “আমরা আল্লাহর সন্তুষ্টি ও পরকালের নাজাতের জন্যই রাজনীতি করি।” তিনি ভোটারদের আহ্বান জানান, ধর্মীয় নীতি মেনে চলা এবং পার্টির আদর্শের প্রতি অটল থাকা উচিত, যাতে ভোটকেন্দ্রে অশান্তি না ঘটে।
একই সময়ে তিনি ঐক্যের গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে, “সিসা ঢালা প্রাচীরের মতো একত্রে দাঁড়াতে হবে” বলে এক রূপক ব্যবহার করেন। এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি সমর্থকদের মধ্যে সংহতি বজায় রাখার আহ্বান জানান।
প্রশ্ন করা হলে, ডাকসুতে “বেশ্যাখানা” ছিল কিনা তা নিয়ে আহসান সংযোগ কেটে দেন এবং বলেন, “আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্যাগুলো উল্লেখ করেছি, ইসলামি ছাত্রশিবিরই তা সমাধান করেছে।” তিনি অতিরিক্ত ব্যাখ্যা না দিয়ে কথোপকথন শেষ করেন।
জনসভায় উপস্থিত ছিলেন জামায়াত-এ-ইসলামির বরগুনা-২ আসনের প্রার্থী সুলতান আহমেদ, যিনি এই মন্তব্যের মাধ্যমে পার্টির স্বচ্ছতা ও নৈতিকতা তুলে ধরতে চেয়েছেন। আহসান তার বক্তব্যকে সুলতান আহমেদের নির্বাচনী প্রচারের অংশ হিসেবে উপস্থাপন করেন।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, এই ধরনের মন্তব্য নির্বাচনের আগে পার্টির ইমেজ গড়ে তোলার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা যেতে পারে। জামায়াত-এ-ইসলামি যদি এই রকম নৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখে, তবে ভোটারদের মধ্যে পার্টির প্রতি আস্থা বাড়তে পারে। তবে বিরোধী দলগুলো এই মন্তব্যকে অতিরিক্ত রাজনৈতিক রেটোরিক হিসেবে চিহ্নিত করতে পারে।
সারসংক্ষেপে, মো. শামীম আহসানের মন্তব্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের অতীত সমস্যাকে তুলে ধরে, জামায়াত-এ-ইসলামির নৈতিক ও ধর্মীয় ভিত্তিক রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করে এবং নির্বাচনী সময়ে পার্টির অবস্থান শক্তিশালী করার লক্ষ্যে করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এই ধরনের বক্তব্যের প্রভাব ভোটের ফলাফলে কীভাবে পড়বে, তা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের নজরে থাকবে।



