চট্টগ্রামের রেডিসন ব্লু বিচ ভিউ হোটেলে আজ সকালে অনুষ্ঠিত “দ্য প্ল্যান: ইউথ পলিসি টক উইথ তারেক রহমান” শিরোনামের ইন্টারেক্টিভ সেশনে বিএনপি চেয়ারপার্সন তারেক রহমান ছাত্র ঋণ ও তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ ক্রেডিটের পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন। তিনি বিদেশে উচ্চশিক্ষা নিতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের ভিসা ফি ও সংশ্লিষ্ট খরচ মেটাতে ব্যাংক ঋণ সহজ করার প্রতিশ্রুতি জানান।
প্রোগ্রামে চট্টগ্রামের সরকারি ও বেসরকারি কলেজ‑বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৩৪০ জন ছাত্র‑ছাত্রী অংশগ্রহণ করেন। উপস্থিতির মধ্যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ বর্ষের ম্যানেজমেন্ট শিক্ষার্থী তাসনুয়া তাসরিনও ছিলেন, যিনি সেশনের সময় সরাসরি প্রশ্ন করে তরুণ উদ্যোক্তাদের ঋণ প্রাপ্তিতে মুখ্য বাধা কী তা তুলে ধরেন।
তারেক রহমান উল্লেখ করেন, বিদেশে পড়াশোনা করতে ইচ্ছুক ছাত্রদের জন্য ভিসা ফি, টিউশন ও জীবিকা ব্যয় প্রায়শই আর্থিক সীমাবদ্ধতার মুখে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। একই সঙ্গে, ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তারা জটিল ব্যাংক প্রক্রিয়া ও জামানত‑সাপেক্ষ শর্তের কারণে প্রয়োজনীয় তহবিল পেতে সমস্যার সম্মুখীন হন।
একজন ছাত্রের প্রশ্নের জবাবে তিনি স্বীকার করেন, “সব আইন একসাথে পরিবর্তন করা সম্ভব নাও হতে পারে, তবে প্রাসঙ্গিক বিধানগুলোতে প্রয়োজনীয় সংশোধন করা আমাদের লক্ষ্য।” এ ধরনের আইনগত সংস্কারকে তিনি তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য জামানত‑মুক্ত ঋণ সহজ করার মূল উপায় হিসেবে উল্লেখ করেন।
তারেক রহমান আরও জানান, যদি ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত সংসদীয় নির্বাচনে বিএনপি শাসন গ্রহণ করে, তবে বিদেশে উচ্চশিক্ষা নিতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ছাত্র ঋণ স্কিম চালু করা হবে। এই স্কিমের মাধ্যমে ভিসা ফি, টিউশন ফি এবং অন্যান্য শিক্ষাসংক্রান্ত খরচের জন্য সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণ প্রদান করা হবে।
সেশনের মাঝামাঝি তাসরিন “সার” বলে তাকে সম্বোধন করলে, তারেক রহমান তৎক্ষণাৎ থামিয়ে বললেন, “আপনারা আমাকে ‘ভাই’ বা ‘কাকা’ বলে ডাকার অনুমতি দিন; বয়সের পার্থক্য বিবেচনা করে ‘ভাই’ বেশি পছন্দ করি।” এই অনুরোধের পর দর্শকবৃন্দের কাছ থেকে তালি ও উল্লাসের স্রোত বয়ে যায়।
এক ঘণ্টার আলোচনায় শিক্ষার্থীরা স্বাস্থ্যসেবা, যুব কর্মসংস্থান, কৃষি, নগর জলের বন্যা, পরিবেশ দূষণ এবং খাবারের নকলজাত পণ্যসহ নানা বিষয় উত্থাপন করে। প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর দিতে তারেক রহমান বিএনপি’র সংশ্লিষ্ট নীতি ও পরিকল্পনা সংক্ষেপে উপস্থাপন করেন, যার মধ্যে যুবস্বাস্থ্যের উন্নতি, কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য প্রশিক্ষণ প্রকল্প এবং কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর জন্য আধুনিক প্রযুক্তি গ্রহণের পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত।
একজন অংশগ্রহণকারী যখন ব্যবসায়িক ঘুষের সমস্যার কথা তুলে ধরেন, তখন তারেক রহমান জোর দিয়ে বলেন, “আইন ও শৃঙ্খলা পুনঃস্থাপন এবং দুর্নীতি মোকাবেলা আমাদের সরকার গঠনের শীর্ষ অগ্রাধিকার হবে।” তিনি আরও যোগ করেন, “অনেক পরিকল্পনা আলোচনা করা যায়, তবে আইন ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত না হলে কোনো নীতি সফল হবে না।”
সেশনের শেষের দিকে তিনি উল্লেখ করেন, “যদি আমরা শাসন গ্রহণ করি, তবে যুবকদের জন্য আর্থিক সহায়তা, শিক্ষা ও কর্মসংস্থান সংক্রান্ত নীতি দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে।” এভাবে তিনি ভবিষ্যৎ নির্বাচনের ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে পরিকল্পিত নীতিগুলোর বাস্তবায়ন সম্ভাবনা তুলে ধরেন এবং উপস্থিত ছাত্র‑ছাত্রীদের সক্রিয় অংশগ্রহণের জন্য ধন্যবাদ জানান।



