বিএনপি চেয়ারপার্সন তারেক রহমান আজ বিকেলে চট্টগ্রামের পোলো গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী র্যালিতে জানিয়েছেন, যদি দল শাসনে আসতে পারে তবে দুর্নীতি নির্মূল ও আইনশৃঙ্খলা কঠোরভাবে বজায় রাখবে। তিনি উপস্থিত ভিড়ের সামনে এই প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে দেশের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারকে অগ্রাধিকার দিতে চান।
র্যালিতে তারেক রহমান স্পষ্ট করে বললেন, “যে কেউ আইন ভঙ্গ করবে বা দুর্নীতির মাধ্যমে বাধা সৃষ্টি করবে, তাকে কোনো রকম অব্যাহতি দেওয়া হবে না”। তিনি উল্লেখ করেন, শাসনকালে কোনো রাজনৈতিক পার্থক্য না রেখে অপরাধীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই বক্তব্যের পর উপস্থিত ভক্তদের তালি ও উল্লাসে পরিবেশ গরম হয়ে ওঠে।
তারেকের মতে, বিএনপি দুটি মূল লক্ষ্য সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে পারে: প্রথমটি হল জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, যাতে তারা স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচল, কাজ ও জীবিকা অর্জন করতে পারে। দ্বিতীয়টি হল দুর্নীতি নির্মূল, যা তিনি দেশের উন্নয়নের জন্য সবচেয়ে বড় বাধা হিসেবে চিহ্নিত করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “যদি আমরা এই দুইটি বিষয় নিয়ন্ত্রণে না রাখি, তবে আমাদের অন্য সব পরিকল্পনা ব্যর্থ হবে”।
বিএনপি অতীতের শাসনকালকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে, ১৯৯৬ থেকে ২০০১ পর্যন্ত সরকারের সময় দুর্নীতি হ্রাসের উল্লেখ করেন। বিশেষ করে ২০০১ সালে খালেদা জিয়া সরকারে আসার পর দেশকে ধীরে ধীরে দুর্নীতির গ্রিপ থেকে বের করে আনা হয়েছে, এ কথাটি তিনি পুনরায় উল্লেখ করেন। এই ঐতিহাসিক রেকর্ডকে ভিত্তি করে তিনি বর্তমানের ভোটারদের কাছে বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়াতে চান।
তারেক further emphasized that the law applies equally to everyone, irrespective of party affiliation. “অপরাধীর সনাক্তকরণ হবে অপরাধের ভিত্তিতে, দলীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে নয়,” তিনি যোগ করেন, এবং জানান যে যেকোনো ব্যক্তি দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়লে কঠোর শাস্তি পাবেন।
চট্টগ্রামের সমতল ও পাহাড়ি জনগণকে একসাথে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বললেন, “এই শহরে সমতল ও পাহাড়ের মানুষ একসাথে বসবাস করে, আমরা সবাই মিলে দেশ গড়ে তুলতে চাই”। এই ঐক্যের বার্তা র্যালির মূল সুরে যুক্ত হয়েছে।
বিএনপি ভোটারদের আহ্বান জানিয়ে তিনি দলের শস্যের গাঁথা (শেফ অফ প্যাডি) প্রতীককে বিশ্বাসের চিহ্ন হিসেবে তুলে ধরলেন। “আপনারা যদি আমাদের শেফের উপর বিশ্বাস রাখেন, তবে আমরা দেশের উন্নয়নের পথে অগ্রসর হবো” তিনি উল্লেখ করেন।
র্যালিতে উপস্থিত ভিড়ের সংখ্যা কয়েক হাজারেরও বেশি ছিল, এবং নিরাপত্তা বাহিনীর তদারকি নিশ্চিত করা হয়েছিল। স্থানীয় প্রশাসন র্যালির শৃঙ্খলা বজায় রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ ও রাইডার মোতায়েন করেছে, যা কোনো অশান্তি ছাড়াই অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন করতে সহায়তা করেছে।
বিএনপি বিরোধী দল, বিশেষ করে বর্তমান সরকার, র্যালির পর প্রকাশ্যে বলেছে যে দুর্নীতি ও আইনশৃঙ্খলার বিষয়টি শুধুমাত্র নির্বাচনী র্যালির রেটোরিক নয়, বাস্তবায়নযোগ্য নীতি হওয়া দরকার। তারা অতীতের শাসনকালের রেকর্ডের ওপর প্রশ্ন তুলেছে এবং ভোটারদের সতর্ক করেছে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, এই র্যালি এবং তারেকের প্রতিশ্রুতি আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের আগে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক প্রভাব ফেলতে পারে। যদি বিএনপি এই বার্তাকে কার্যকরভাবে প্রচার করতে পারে, তবে ভোটারদের মধ্যে পার্টির প্রতি আস্থা বাড়তে পারে, যা শাসন পরিবর্তনের সম্ভাবনা বাড়িয়ে তুলবে।



