উচ্চ আদালত আজ চিফ ইলেকশন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিনের বিরুদ্ধে অবমাননা রুল জারি করেছে। রুলে সিইসি-কে চার সপ্তাহের মধ্যে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে কেন তিনি আদালতের আদেশ লঙ্ঘন করে কৃষক শ্রমিক পার্টির নিবন্ধন আবেদন নিষ্পত্তি না করে। এই পদক্ষেপের পেছনে পার্টি নিবন্ধন সংক্রান্ত পূর্বের নির্দেশনা মানা না হওয়া মূল কারণ।
সিইসি নাসির উদ্দিনের বিরুদ্ধে রুল জারির পটভূমি হল সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবী মো. ইউনুস আলি আকন্দের দায়ের করা অবমাননা পিটিশন। আকন্দের পিটিশনে উল্লেখ করা হয় যে, উচ্চ আদালত ২৭ আগস্ট ২০২৫ তারিখে সিইসি-কে কৃষক শ্রমিক পার্টির নিবন্ধন আবেদন নিষ্পত্তি করার নির্দেশ দিয়েছিল। তবে সিইসি সেই আদেশ মেনে না চলায় অবমাননা রুলের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়।
২৭ আগস্ট ২০২৫ তারিখে উচ্চ আদালত স্পষ্টভাবে সিইসি-কে নির্দেশ দেয় যে, কৃষক শ্রমিক পার্টির নিবন্ধন আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তি করতে হবে। আবেদনটি পার্টির রাজনৈতিক স্বীকৃতি পেতে গুরুত্বপূর্ণ ছিল এবং আদালত সেই প্রক্রিয়ার দ্রুততা নিশ্চিত করতে চেয়েছিল। তবে সিইসি এই আদেশের কোনো বাস্তবায়ন দেখাতে পারেনি, ফলে আদালতকে অবমাননা রুল জারি করতে বাধ্য হতে হয়।
সিইসি নাসির উদ্দিনের অবমাননা রুলে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তিনি উচ্চ আদালতের আদেশের প্রতি অবহেলা করেছেন এবং তা অবমাননা হিসেবে গণ্য হবে। রুলে সিইসি-কে চার সপ্তাহের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে কেন তিনি আদেশ মেনে না চলেছেন এবং অবমাননা রুলের ভিত্তি কী। এই ব্যাখ্যা না দিলে আদালত অবমাননা মামলা চালিয়ে যাবে।
রুলটি বিচারক ফাহমিদা কাদের ও বিচারক মো. আশিফ হাসান সমন্বিত বেঞ্চ জারি করেছে। দুইজন বিচারকই রুলে সিইসি-কে স্পষ্ট নির্দেশ দেন যে, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে ব্যাখ্যা না দিলে অবমাননা প্রক্রিয়া শুরু হবে এবং প্রয়োজনীয় শাস্তি আরোপ করা হবে। বেঞ্চের এই সিদ্ধান্ত অবমাননা রুলের কার্যকারিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।
সিইসি-কে চার সপ্তাহের মধ্যে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে, যার মধ্যে তিনি আদালতের আদেশের অমান্য করার কারণ ও পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করবেন। ব্যাখ্যা না দিলে উচ্চ আদালত অবমাননা মামলা চালিয়ে শাস্তি নির্ধারণের অধিকার রাখবে। এই প্রক্রিয়া সিইসি-কে আদালতের আদেশের প্রতি সম্মান বজায় রাখতে বাধ্য করবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন যে, এই রুলের ফলে কৃষক শ্রমিক পার্টির নিবন্ধন প্রক্রিয়া আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে এবং সিইসি-র সিদ্ধান্তে রাজনৈতিক চাপ বাড়তে পারে। অবমাননা রুলের প্রয়োগ সিইসি-র স্বায়ত্তশাসন ও রাজনৈতিক দলগুলোর নিবন্ধন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে।
পরবর্তী ধাপে সিইসি-র ব্যাখ্যা প্রত্যাশা করা হবে এবং উচ্চ আদালত তা পর্যালোচনা করে অবমাননা মামলা চালিয়ে যাবে কিনা তা নির্ধারণ করবে। যদি সিইসি ব্যাখ্যা প্রদান না করে বা তা অগ্রহণযোগ্য হয়, তবে আদালত শাস্তি আরোপের সম্ভাবনা প্রকাশ করেছে, যা সিইসি-র কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে। এই রুলের মাধ্যমে উচ্চ আদালত তার আদেশের কার্যকরিতা নিশ্চিত করতে চায় এবং রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের প্রক্রিয়ায় আইনগত শৃঙ্খলা বজায় রাখতে চায়।



