বাংলাদেশ ফেব্রুয়ারি পার্লামেন্টারি নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে; এই সময়ে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পরিস্থিতি ঐতিহাসিক বিরোধ, ভিন্নমতপূর্ণ বর্ণনা এবং বিচ্ছিন্ন পরিচয়ের প্রভাবের অধীনে গঠিত হচ্ছে।
ঐতিহাসিক বিরোধ ও প্রতিদ্বন্দ্বী বর্ণনা জাতীয় সংহতি ও বেনেডিক্ট অ্যান্ডারসনের “কল্পিত সম্প্রদায়” তত্ত্বের ওপর গভীর প্রভাব ফেলছে, যা দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা কাঠামোকে জটিল করে তুলছে।
এছাড়া, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক কৌশলগত পরিবেশ সাম্প্রতিক সময়ে অধিক সামরিকীকরণ, টুকরো টুকরো হয়ে যাওয়া এবং অনিশ্চয়তার দিকে অগ্রসর হয়েছে।
ফেব্রুয়ারি নির্বাচন শুধুমাত্র রাজনৈতিক পরিবর্তন নয়; এটি এমন একটি কৌশলগত মুহূর্ত যা পরবর্তী দশকের নিরাপত্তা দিকনির্দেশকে নির্ধারণ করবে।
নতুন সরকারকে এমন একটি নিরাপত্তা পরিবেশে কাজ করতে হবে, যেখানে দক্ষিণ এশিয়ার সামরিকীকরণ দ্রুত বাড়ছে, সীমান্তে অনিরসিত সংঘাত রয়ে গেছে এবং যুদ্ধের রূপ ধীরে ধীরে অ-শারীরিক ক্ষেত্রে ছড়িয়ে পড়ছে।
আধুনিক নিরাপত্তা আর কেবল সৈন্যসংখ্যা বা ভূখণ্ড রক্ষা দিয়ে সীমাবদ্ধ নয়; এতে দৃশ্যমান পরিসরের বাইরে বিমান আধিপত্য, স্তরভিত্তিক বিমান প্রতিরক্ষা, সামুদ্রিক নিয়ন্ত্রণ, মানসিক স্থিতিস্থাপকতা এবং কূটনৈতিক নমনীয়তা বজায় রেখে জবরদস্তি প্রতিহত করার সক্ষমতা অন্তর্ভুক্ত।
বাংলাদেশের জন্য চ্যালেঞ্জ হল এমন একটি বিশ্বাসযোগ্য নিরুৎসাহন গঠন করা, যা অতিরিক্ত উত্তেজনা না বাড়িয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করে এবং একই সঙ্গে উন্নয়নমূলক অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ রূপে প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আধুনিকায়ন করা।
দক্ষিণ এশিয়া বিশ্বে সবচেয়ে সামরিকীকৃত অঞ্চলগুলোর একটি, যেখানে শক্তির অসমতা, অনিরসিত বিরোধ এবং পারমাণবিক নিরুৎসাহনের জটিলতা বিদ্যমান।
ভারত এ দ্রুত সামরিক আধুনিকীকরণে অগ্রসর, পাকিস্তান কৌশলগত নিরুৎসাহনে জোর দিচ্ছে এবং মিয়ানমার রাষ্ট্রের টিকে থাকার উপায় হিসেবে সামরিক শক্তির ব্যবহার বাড়াচ্ছে; এসব উপাদান একসাথে বাংলাদেশকে একটি জটিল কৌশলগত পরিবেশে স্থাপন করেছে।
বিস্তৃত সামরিক ভারসাম্য বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বাংলাদেশ মধ্যম স্তরের অবস্থানে রয়েছে এবং তার ক্ষমতা সীমিত, ফলে বৃহৎ পরিসরের শক্তি প্রক্ষেপণে সক্ষমতা কম।
এই অবস্থানকে বিবেচনা করে, নিরাপত্তা নীতি গঠন করতে হবে এমনভাবে যাতে প্রতিরক্ষা উন্নয়নকে অর্থনৈতিক অগ্রগতির সঙ্গে সমন্বয় করা যায় এবং অপ্রয়োজনীয় অস্ত্র প্রতিযোগিতা এড়ানো যায়।
প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে বিমান ও সামুদ্রিক নজরদারি শক্তিশালীকরণ, স্তরভিত্তিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গঠন, সাইবার ও মানসিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং কূটনৈতিক সংলাপ বজায় রাখা।
নিরাপত্তা নীতির দিকনির্দেশ দেশের জাতীয় সংহতি, পরিচয় গঠন এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতায় সরাসরি প্রভাব ফেলবে; তাই নির্বাচন পরবর্তী সরকারকে এই বিষয়গুলোকে সমন্বিতভাবে বিবেচনা করতে হবে।
সারসংক্ষেপে, ফেব্রুয়ারি নির্বাচন বাংলাদেশ সরকারের জন্য নিরাপত্তা কৌশল নির্ধারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়, যা পরবর্তী দশকের জন্য দেশকে নিরাপদ ও উন্নয়নমুখী পথে পরিচালিত করার ভিত্তি গড়ে তুলবে।



