দক্ষিণ কোরিয়ার মূলভূমিতে জন্ম নেওয়া ভিডিও‑এসেই স্টাইলিস্ট কোগোনাদা, যিনি একক নামেই পরিচিত, তার সর্বশেষ কাজ ‘জি’ স্যান্ডেন্সের NEXT বিভাগে প্রদর্শিত হয়েছে। চলচ্চিত্রটি ১ ঘণ্টা ৩৯ মিনিটের দৈর্ঘ্যের, এবং এতে মিশেল মাও, হ্যালি লু রিচার্ডসন ও জিন হা প্রধান ভূমিকায় উপস্থিত।
কোগোনাদা ২০১৭ সালে ‘কলম্বাস’ শিরোনামের ভিডিও‑এসেই দিয়ে চলচ্চিত্র জগতের নজরে আসেন, যেখানে শারীরিক ও মানসিক স্থাপত্যের সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ তার স্বতন্ত্র শৈলীর সূচনা চিহ্নিত করে। এই কাজের পর তিনি ‘আফটার ইয়াং’ দিয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজের অবস্থান দৃঢ় করেন, যেখানে পরিচয় ও সংযোগের বিষয়বস্তু পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মানব জীবনে সম্ভাব্য ইতিবাচক প্রভাবকে আলোকিত করা হয়েছে।
‘আফটার ইয়াং’ এর সাফল্য কোগোনাদাকে টেলিভিশন সিরিজের দিকেও নিয়ে যায়; তিনি ‘পাচিনকো’ ও ‘দ্য অ্যাকোলাইট’ এর কিছু পর্বের পরিচালনা করেন, যেখানে তার দৃশ্যমান বর্ণনা শৈলী ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ পায়। তবে বড় স্কেলের স্টুডিও প্রকল্পে তিনি ২০২২ সালে ‘এ বিগ বোল্ড বিউটিফুল জার্নি’ নামে রোমান্টিক অভিযানের চেষ্টা করেন, যা বাণিজ্যিক ও সমালোচনামূলকভাবে প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়।
বড় বাজেটের এই ব্যর্থতা কোগোনাদাকে তার সৃজনশীল দিক পুনর্বিবেচনা করতে প্ররোচিত করে। তিনি স্বল্প ব্যয়ের, স্বতঃস্ফূর্ত প্রকল্পে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, যাতে কোনো কঠোর কাঠামো বা জটিল লজিস্টিক্সের বাধা না থাকে। এভাবেই ‘জি’ এর ধারণা জন্ম নেয়, যেখানে তিনি ছয়জন ঘনিষ্ঠ বন্ধু—অভিনেত্রী মিশেল মাও, হ্যালি লু রিচার্ডসন, জিন হা, চিত্রগ্রাহক বেঞ্জামিন লোয়েব, এবং প্রযোজক চুং আন ও ক্রিস্টোফার র্যাডক্লিফ—কে একত্রিত করে হংকং-এ স্ব-অর্থায়নে শ্যুটিং শুরু করেন।
প্রযোজনার সময় কোনো বিশদ স্ক্রিপ্ট না থাকলেও, কোগোনাদা একটি সংক্ষিপ্ত রূপরেখা তৈরি করে দলকে তৎক্ষণাৎ ক্যামেরার সামনে রাখেন। শ্যুটিং প্রক্রিয়া দ্রুতগতিতে চলে, যেখানে হংকংয়ের ব্যস্ত শহুরে দৃশ্য ও নীরব গলিগুলোকে স্বাভাবিক আলো ও হাতে ধরা শটের মাধ্যমে ধারণ করা হয়। চিত্রগ্রাহক লোয়েবের ক্যামেরা কাজ শহরের রঙিন রঙকে মৃদু স্বপ্নময় টোনে রূপান্তরিত করে, যা চলচ্চিত্রের সামগ্রিক মুডকে সমর্থন করে।
অভিনেত্রী মিশেল মাও, হ্যালি লু রিচার্ডসন ও জিন হা প্রত্যেকেই নিজেদের স্বতন্ত্র চরিত্রে আত্মসমর্পণ করেন; তাদের পারস্পরিক সংলাপ ও নীরব মুহূর্তগুলো চলচ্চিত্রের বায়ুমণ্ডলকে গঠন করে। যদিও গল্পের কাঠামো সরল, তবে চরিত্রগুলোর সূক্ষ্ম অভিব্যক্তি ও অঙ্গভঙ্গি দর্শকের মধ্যে অন্তর্দৃষ্টির সঞ্চার করে। প্রযোজক দল স্বয়ংসম্পূর্ণভাবে ভ্রমণ, খাবার ও সরঞ্জামের খরচ বহন করে, ফলে প্রকল্পের আর্থিক চাপ কমে এবং সৃজনশীল স্বাধীনতা বৃদ্ধি পায়।
‘জি’ স্যান্ডেন্সের NEXT প্রোগ্রামে প্রদর্শিত হওয়ার পর দর্শক ও সমালোচকদের প্রতিক্রিয়া মিশ্রিত রূপে প্রকাশ পায়। কিছু দর্শক চলচ্চিত্রের হালকা, স্বপ্নময় পরিবেশকে প্রশংসা করেন, যা শহরের গুঞ্জনকে একধরনের সুরে রূপান্তরিত করে। অন্যদিকে, সমালোচকরা উল্লেখ করেন যে চলচ্চিত্রের বর্ণনা যথেষ্ট গভীরতা ও নাটকীয়তা থেকে বঞ্চিত, ফলে তা দীর্ঘ সময়ের জন্য দর্শকের মনোযোগ ধরে রাখতে পারে না।
সামগ্রিকভাবে ‘জি’ একটি সাহসী পরীক্ষামূলক কাজ, যেখানে কোগোনাদা তার স্বতন্ত্র ভিজ্যুয়াল ভাষা বজায় রেখে নতুন সীমা অন্বেষণ করেন। তবে চলচ্চিত্রের হালকা স্বভাব ও সীমিত কাহিনীর গঠন কিছু দর্শকের জন্য সন্তোষজনক নাও হতে পারে। তবু, মুড‑ড্রিভেন সিনেমা পছন্দ করেন এমন দর্শকদের জন্য এটি একটি আকর্ষণীয় অভিজ্ঞতা প্রদান করতে পারে।
চলচ্চিত্রের শেষ অংশে হংকংয়ের রাতের আলো ও স্রোতমান গলির দৃশ্যগুলো পুনরায় দেখা যায়, যা কোগোনাদার শৈলীর স্বাতন্ত্র্যপূর্ণ দৃষ্টিকোণকে পুনরায় জোর দেয়। যদিও ‘জি’ বড় বাণিজ্যিক সাফল্য অর্জন করতে পারেনি, তবে এটি কোগোনাদার সৃজনশীল পুনর্নবীকরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
‘জি’ এর মাধ্যমে কোগোনাদা প্রমাণ করেন যে সীমিত সম্পদেও অনন্য ভিজ্যুয়াল অভিজ্ঞতা তৈরি করা সম্ভব, যদি সঠিক সঙ্গী ও স্বচ্ছ ধারণা থাকে। ভবিষ্যতে তিনি কী ধরনের প্রকল্পে হাত দেবেন, তা এখনো অনিশ্চিত, তবে এই কাজটি তার শিল্পী আত্মার দৃঢ়তা ও পরীক্ষার ইচ্ছা প্রকাশ করে।
যারা স্বতন্ত্র ভিজ্যুয়াল স্টাইল এবং মুড‑কেন্দ্রিক গল্পে আগ্রহী, তাদের জন্য ‘জি’ একটি মূল্যবান দেখার সুযোগ হতে পারে। তবে শক্তিশালী প্লট ও চরিত্র বিকাশের প্রত্যাশা রাখলে এই চলচ্চিত্রটি কিছুটা কম সন্তোষজনক হতে পারে। স্যান্ডেন্সে তার উপস্থিতি কোগোনাদার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি বজায় রাখতে সহায়তা করবে, এবং ভবিষ্যতে তার পরবর্তী কাজের জন্য একটি নতুন দিক উন্মোচন করবে।



