28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিমন্ত্রিপাড়ায় ৭২টি বিশাল ফ্ল্যাটের নতুন প্রকল্প, ৭৮৬ কোটি টাকার বাজেট

মন্ত্রিপাড়ায় ৭২টি বিশাল ফ্ল্যাটের নতুন প্রকল্প, ৭৮৬ কোটি টাকার বাজেট

বাংলাদেশ সরকার ঢাকা মন্ত্রিপাড়ায় তিনটি নতুন ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা জানিয়েছে। এই ভবনগুলোতে মোট ৭২টি ফ্ল্যাট থাকবে, যার আয়তন ৮,৫০০ থেকে ৯,২৩০ বর্গফুটের মধ্যে হবে এবং প্রকল্পের মোট বাজেট ৭৮৬ কোটি টাকা নির্ধারিত। নতুন আবাসিক ইউনিটগুলো বেইলি রোড ও মিন্টো রোডে গড়ে তোলা হবে, যা মন্ত্রিপাড়া হিসেবে পরিচিত ঐতিহাসিক সড়কগুলো।

নির্মাণকাজের মূল উদ্দেশ্য হল মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী এবং সংবিধানিক সংস্থার প্রধানদের জন্য আধুনিক ও প্রশস্ত বাসস্থান নিশ্চিত করা। সরকার উল্লেখ করেছে যে এই ফ্ল্যাটগুলোতে উচ্চমানের নিরাপত্তা ও সুবিধা থাকবে, যাতে শীর্ষ স্তরের সরকারি কর্মকর্তারা তাদের কাজের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বসবাস করতে পারেন।

বর্তমানে মন্ত্রিপাড়ায় ১৫টি “বাংলো বাড়ি” সরকারীভাবে মন্ত্রীদের জন্য নির্ধারিত রয়েছে। তদুপরি, বেইলি রোডে “মিনিস্টার্স অ্যাপার্টমেন্ট” নামে তিনটি ভবন আছে, প্রতিটিতে দশটি করে ফ্ল্যাট রয়েছে, যার গড় আয়তন প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার বর্গফুট। গুলশান ও ধানমন্ডিতে অতিরিক্ত মন্ত্রীবাসী ইউনিটের ব্যবস্থা করা হয়েছে, ফলে মোট ৭১টি সরকারি আবাসন মন্ত্রী ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের জন্য চিহ্নিত। এই সব ইউনিটই শুধুমাত্র মন্ত্রীদের জন্য সংরক্ষিত, ফলে সরকারী দৃষ্টিতে আবাসনের কোনো ঘাটতি নেই।

এ spite of এই পর্যাপ্ততা, নতুন ৭২টি বিশাল ফ্ল্যাটের প্রকল্প চালু করা হয়েছে। পরিকল্পনা সংক্রান্ত ব্যাখ্যা দিতে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আবদুল মতিন উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বেশ কিছু ফ্ল্যাট খালি ছিল। ঐ সময়ে সংবিধানিক সংস্থার কিছু পদধারী ব্যক্তিরা ঐ ফ্ল্যাটে অবস্থান করছিলেন, যদিও তাদের জন্য আলাদা বাসস্থান ব্যবস্থা রয়েছে। সরকার তাদের মন্ত্রিপাড়ায় থাকা অনুমোদন করেছে, যা নতুন প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।

অধিকন্তু, দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় চার কোটি মানুষ দরিদ্রের সীমার নিচে বসবাস করে। এ পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রিপাড়ার জন্য বিশাল আকারের ফ্ল্যাট নির্মাণকে অপ্রয়োজনীয় ও বেমানান বলে সমালোচকরা উল্লেখ করেন। বিশেষ করে, সর্বোচ্চ আদালতের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শাহদীন মালিকের মতে, নতুন ফ্ল্যাটের মাধ্যমে সরকারি কর্মকর্তারা বৃহত্তর বাসস্থানে স্থানান্তরিত হতে পারবেন, যা সম্পদের অমিলকে বাড়িয়ে তুলবে।

শাহদীন মালিক আরও জানান, সংবিধানিক পদে থাকা ব্যক্তিদের জন্য ইতিমধ্যে আলাদা আবাসন ব্যবস্থা রয়েছে, তবে কিছুই মন্ত্রিপাড়ায় বাস করে। তিনি উল্লেখ করেন, এই ধরনের ব্যবস্থা সরকারী নীতি ও বাজেটের অগ্রাধিকারের পুনর্বিবেচনা প্রয়োজন। তার মন্তব্যে দেখা যায়, নতুন ফ্ল্যাটের নির্মাণে সরকারি কর্মকর্তাদের সুবিধা বাড়বে, তবে তা সামাজিক ন্যায়বিচারকে প্রভাবিত করতে পারে।

প্রকল্পের আর্থিক দিক থেকে, ৭৮৬ কোটি টাকার ব্যয়কে সরকারী বাজেটের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। যদিও সরকার দাবি করে যে এই ব্যয়টি খালি ফ্ল্যাটের ব্যবহারিকতা বাড়াবে এবং উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের জন্য উপযুক্ত বাসস্থান নিশ্চিত করবে, তবে বিরোধীরা এটিকে অগ্রাধিকারের ভুল বণ্টন হিসেবে দেখছেন।

প্রকল্পের বাস্তবায়ন সূচি এখনও প্রকাশিত হয়নি, তবে নির্মাণ কাজ শীঘ্রই শুরু হওয়ার কথা জানানো হয়েছে। ভবনের নকশা, নির্মাণের সময়সূচি এবং সম্পন্ন হওয়ার প্রত্যাশিত সময় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সরকারী সূত্র থেকে এখনো প্রকাশিত হয়নি।

সারসংক্ষেপে, মন্ত্রিপাড়ায় ৭২টি বিশাল ফ্ল্যাটের নতুন প্রকল্প সরকারী আবাসন নীতির অংশ হিসেবে চালু হয়েছে, যার লক্ষ্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের জন্য আধুনিক বাসস্থান সরবরাহ করা। তবে দেশের বৃহৎ দরিদ্র জনসংখ্যা ও সম্পদের ন্যায্য বণ্টন নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে, যা ভবিষ্যতে নীতি সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করে।

৯২/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: প্রথম আলো
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments