২০২৬ সালের সান্ডান্স চলচ্চিত্র উৎসবের শেষ সপ্তাহে পার্ক সিটিতে বেশ কিছু চলচ্চিত্রের পর্দা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দর্শকরা উল্লাসে উঠে দাঁড়িয়ে প্রশংসা জানালেন। শনিবার বিকেলে অনুষ্ঠিত স্ক্রিনিংগুলোতে বিশেষ করে তিনটি ছবির জন্য দুবারের বেশি স্ট্যান্ডিং ওভেশন দেখা গিয়েছে। এই প্রবণতা ইউরোপীয় উৎসবের ঐতিহ্যকে আমেরিকায় নিয়ে এসে নতুন মাত্রা পেয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মন্তব্য করছেন।
ফ্যান্টাসি নাটক “Wicker”-এ অলিভিয়া কলম্যানের অভিনয়কে কেন্দ্র করে গল্পটি শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দর্শকরা তৎক্ষণাৎ উঠে দাঁড়ালেন। ক্রেডিট চলাকালেও তারা আবারও সিট ছেড়ে দাঁড়িয়ে চলচ্চিত্রের স্রষ্টা ও অভিনেতা দলের স্বাগত জানালেন। অনুষ্ঠানের সমাপ্তিতে প্রোগ্রামিং পরিচালক কিম ইউতানি মঞ্চে এসে দলকে স্বাগত জানিয়ে এই উল্লাসকে আরও উজ্জ্বল করে তুলেছিলেন।
এরপর একই সন্ধ্যায় অলিভিয়া ওয়াইল্ড পরিচালিত ড্রামেডি “The Invite”-এর স্ক্রিনিংয়ে একই রকম প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছিল। চলচ্চিত্রের শেষের পর দর্শকরা আবারও চেয়ার ছেড়ে উঠে তালি দিলেন, আর ওয়াইল্ড মঞ্চে গিয়ে চোখের জল মুছে নেয়ার দৃশ্যটি উপস্থিতদের হৃদয়কে স্পর্শ করেছিল। এই মুহূর্তটি উৎসবের আবহাওয়াকে আরও উষ্ণ করে তুলেছিল।
সকাল ৯ টায় অনুষ্ঠিত অস্ট্রেলিয়ান শিশুদের জন্য তৈরি চলচ্চিত্র “Fing!”-এর স্ক্রিনিংয়ের পরেও দর্শকরা তৎক্ষণাৎ দাঁড়িয়ে প্রশংসা জানালেন। শিশুরা ও বড়দের মিশ্রণযুক্ত এই প্রোগ্রামটি উভয় বয়সের দর্শকের মন জয় করতে সক্ষম হয়েছিল। মঞ্চে উঠে তালি দিয়ে দর্শকরা চলচ্চিত্রের সৃজনশীলতা ও বার্তাকে স্বীকৃতি দিয়েছেন।
শুক্রবারের প্রিমিয়ার পর চ্যানিং টাটাম ও গেমা চ্যানের অভিনীত নাটক “Josephine”-এর জন্যও একই রকম উল্লাসের দৃশ্য দেখা গিয়েছিল। পরিচালক বেথ দে আরাউজো এই প্রতিক্রিয়ায় চোখে জল নিয়ে মঞ্চে উঠে দর্শকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এই দৃশ্যটি চলচ্চিত্রের আবেগময় গভীরতা ও অভিনয়ের উৎকর্ষতাকে তুলে ধরেছিল।
ঐতিহ্যগতভাবে শীতের তীব্র ঠাণ্ডা, পার্কা, স্কার্ফ এবং গ্লাভসের মতো গরম পোশাকের কারণে সান্ডান্সের দর্শকরা বেশিরভাগ সময় বসে থাকতেন। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে স্ট্যান্ডিং ওভেশনের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের উৎসবে “My Old Ass”, জেসি আইজেনবার্গের “A Real Pain” এবং ডকুমেন্টারি “Will & Harper” সহ বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্রে একই রকম উল্লাস দেখা গিয়েছিল।
অনুষ্ঠান আয়োজকরা উল্লেখ করেন যে পার্ক সিটির উচ্চতা, শেষ উৎসবের নস্টালজিয়া এবং চলচ্চিত্রের আবেগময় বিষয়বস্তু এই উল্লাসের পেছনের সম্ভাব্য কারণ হতে পারে। তবে সঠিক কারণ নির্ধারণ করা কঠিন, কারণ প্রতিটি দর্শকের অভিজ্ঞতা আলাদা। তবুও এই প্রবণতা উৎসবের পরিবেশকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলছে।
দর্শক ও নির্মাতাদের মধ্যে এই সমবেত উত্তেজনা সান্ডান্সকে শুধুমাত্র একটি স্বাধীন চলচ্চিত্রের মঞ্চ নয়, বরং একটি সাংস্কৃতিক সমাবেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সহায়তা করছে। উল্লাসের মাধ্যমে চলচ্চিত্রের বার্তা ও শিল্পীসত্তা সরাসরি দর্শকের হৃদয়ে পৌঁছায়, যা উৎসবের মর্যাদা ও প্রভাবকে বাড়িয়ে দেয়।
২০২৬ সালের সান্ডান্স ফেস্টিভ্যালে আরও অনেক স্ক্রিনিংয়ে একই রকম উল্লাসের সম্ভাবনা রয়েছে, এবং এই ধারা আগামী বছরগুলোতে উৎসবের একটি স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য হয়ে উঠতে পারে। দর্শকরা যখন আবারও চেয়ার ছেড়ে উঠে তালি দেয়, তখন তা শুধু চলচ্চিত্রের প্রশংসা নয়, বরং সমগ্র শিল্পের প্রতি সম্মান ও ভালোবাসার প্রকাশ।



