23 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeস্বাস্থ্যবাংলাদেশে বয়সবৃদ্ধি প্রবণতা ও নীতি চ্যালেঞ্জ

বাংলাদেশে বয়সবৃদ্ধি প্রবণতা ও নীতি চ্যালেঞ্জ

বাংলাদেশের জনসংখ্যা গঠন এখন গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের মুখে। গত তিন দশকে তরুণ জনসংখ্যা, কমে যাওয়া জন্মহার এবং কর্মশক্তির বৃদ্ধি দেশকে অর্থনৈতিক উত্থানের সুযোগ দিয়েছে। তবে এই সুযোগের সময়সীমা দ্রুত সংকুচিত হচ্ছে, এবং বয়সবৃদ্ধি নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে উদয় হয়েছে।

তিন দশক ধরে বাংলাদেশকে ‘জনসংখ্যা ডিভিডেন্ড’ নামে পরিচিত সুবিধা অর্জন করতে দেখা গিয়েছে। কম জন্মহার এবং বৃহৎ কর্মক্ষম বয়সের জনগোষ্ঠী উৎপাদনশীলতা বাড়িয়ে দেশের জিডিপি বৃদ্ধি করেছে। এই সুবিধা মূলত তরুণ শ্রমিকদের অধিকাংশের উপস্থিতি থেকে এসেছে।

কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই ডিভিডেন্ডের সময়সীমা সংকুচিত হয়েছে। কর্মক্ষম বয়সের জনগোষ্ঠীর অনুপাত ধীরে ধীরে হ্রাস পাচ্ছে, ফলে অর্থনৈতিক বৃদ্ধির গতি ধীর হতে পারে। বিশেষত, পরবর্তী দশকে এই প্রবণতা তীব্রতর হবে বলে অনুমান করা হচ্ছে।

বয়সবৃদ্ধির হার দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশের তুলনায় দ্রুত। উন্নত দেশগুলোর তুলনায়ও বাংলাদেশে ৬০ বছর ও তদূর্ধ্ব বয়সের মানুষের শতাংশ দ্রুত বাড়ছে। এই প্রবণতা সামাজিক ও অর্থনৈতিক নীতিতে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি দাবি করে।

২০২৪ সালের আনুমানিক তথ্য অনুযায়ী, দেশের ৬০ বছর ও তদূর্ধ্ব বয়সের প্রায় ১.৬ কোটি মানুষ রয়েছে, যা মোট জনসংখ্যার প্রায় দশ শতাংশ গঠন করে। এই সংখ্যা ইতিমধ্যে দেশের স্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে।

পরবর্তী কয়েক দশকে এই সংখ্যা দ্বিগুণের বেশি হবে বলে পূর্বাভাস। ২০৫০ সালের মধ্যে ৬০ বছর ও তদূর্ধ্ব বয়সের মানুষ প্রায় ৪ কোটি, অর্থাৎ মোট জনসংখ্যার প্রায় উনিশ শতাংশে পৌঁছাবে। এভাবে বয়স্ক জনগোষ্ঠীর আকার দ্রুত বাড়বে।

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেক মানুষ ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে। বয়স্কদের অবদানকে উপেক্ষা করা এবং তরুণদের অগ্রাধিকার দেওয়া সামাজিক সমতা নষ্ট করতে পারে। তবে বয়স্ক নাগরিকদের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান সমাজের জন্য মূল্যবান সম্পদ।

এজন্য তরুণ ও বয়স্ক উভয় গোষ্ঠীর চাহিদা সমন্বিতভাবে বিবেচনা করা জরুরি। কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্যসেবা এবং সামাজিক নিরাপত্তা নীতিগুলোকে সমন্বিতভাবে গঠন করলে উভয় প্রজন্মের মঙ্গলের জন্য সহায়ক হবে।

ডিভিডেন্ডের সময়সীমা এখনো শেষ নয়, তবে অবশিষ্ট সময় প্রায় এক দশক বলে অনুমান করা হচ্ছে। এই সময়ের মধ্যে নীতি নির্ধারকদের উচিত বয়সবৃদ্ধির প্রভাবকে পূর্বাভাসে অন্তর্ভুক্ত করা এবং প্রস্তুতি নেওয়া।

বয়সবৃদ্ধি দ্রুত হলে আর্থিক সম্পদ, পেনশন কভারেজ এবং স্বাস্থ্যসেবার প্রস্তুতি অপর্যাপ্ত হতে পারে। সীমিত সম্পদে বয়স্কদের জন্য যথাযথ পেনশন ও চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা বাড়তে পারে।

বয়স্ক-নির্ভরতা অনুপাত, অর্থাৎ প্রতি ১০০ কর্মক্ষম বয়সের মানুষের ওপর বয়স্কের সংখ্যা, দ্রুত বাড়ছে। এই অনুপাতের বৃদ্ধি কর্মশক্তির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করবে এবং উৎপাদনশীলতা হ্রাসের ঝুঁকি বাড়াবে।

বয়সবৃদ্ধি শুধুমাত্র স্বাস্থ্য বা সামাজিক বিষয় নয়, এটি অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জও। বয়স্কদের জন্য উপযুক্ত কর্মসংস্থান, পেনশন ব্যবস্থা এবং স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত না করলে দেশের মোট উৎপাদনশীলতা হ্রাস পেতে পারে।

বর্তমানে বাংলাদেশের শ্রমবাজারে নারী অংশগ্রহণের হার কম, যা ইতিমধ্যে শ্রমশক্তির ঘাটতি বাড়িয়ে তুলেছে। বয়সবৃদ্ধি ও লিঙ্গ বৈষম্য একসঙ্গে মোকাবেলা না করলে কর্মশক্তির ঘাটতি আরও তীব্র হবে।

অতএব, সরকারকে বয়স্ক নাগরিকদের জন্য

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
স্বাস্থ্য প্রতিবেদক
স্বাস্থ্য প্রতিবেদক
AI-powered স্বাস্থ্য content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments