28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধকক্সবাজারের রামুতে ১০ বছর ধরে ঘাটে থাকা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বোমা উদ্ধার

কক্সবাজারের রামুতে ১০ বছর ধরে ঘাটে থাকা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বোমা উদ্ধার

কক্সবাজারের রামু উপজেলায় রামুর কাউয়ারখোপ ইউনিয়নের আট নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত একটি পুকুর থেকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অবিস্ফোরিত বোমা উদ্ধার করা হয়েছে। বোমাটি দশ বছর ধরে ঘাটে রেখে স্থানীয় বাসিন্দারা সেখানে কাপড় ধোয়ার কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন। এই ঘটনাটি স্থানীয় একজন নাগরিকের তথ্যের ভিত্তিতে বাংলাদেশ পুলিশ জানায়।

বোমাটি লট উখিয়াখোনা তচ্ছাখালী এলাকায় পাওয়া যায়। পুকুরের তলায় বসে থাকা বোমাটি জাপানি বাহিনীর তৈরি বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্যবহার করা হতো। বোমার ধাতব গঠন ও আকার থেকে এই অনুমান করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় দশ বছর আগে কেউ পুকুর থেকে বোমাটি তুলে নিয়ে ঘাটে রাখে। এরপর থেকে গ্রামবাসীরা বোমার পাশে কাপড় ধোয়ার কাজ চালিয়ে যায়। বোমার অস্তিত্ব সম্পর্কে কোনো সতর্কতা বা বিপদজনক দিকের ধারণা ছিল না, ফলে এটি সাধারণ ধোয়ার জায়গা হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

সম্প্রতি এক সচেতন বাসিন্দা বোমার উপস্থিতি সম্পর্কে বাংলাদেশ পুলিশকে জানায়। তথ্য পাওয়ার পর পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই পুরো এলাকা ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়।

রামু থানার ওয়ানডি অফিসার মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, বোমা উদ্ধার হওয়ার পর এলাকাটি সম্পূর্ণভাবে সুরক্ষিত করা হয়েছে এবং আশেপাশের মানুষদের নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, বোমা নিষ্ক্রিয় করার কাজের জন্য প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

বোমার সম্ভাব্য বিস্ফোরণ ঝুঁকি মোকাবিলার জন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে অবহিত করা হয়েছে। সেনাবাহিনীর বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে বোমা নিষ্ক্রিয় করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। নিষ্ক্রিয়করণ প্রক্রিয়ায় উচ্চ প্রযুক্তির সরঞ্জাম ও নিরাপত্তা প্রোটোকল ব্যবহার করা হবে।

স্থানীয় প্রশাসনও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করেছে। প্রশাসনিক কর্মকর্তারা বোমা নিষ্ক্রিয়করণে অংশগ্রহণকারী বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি নিরাপদ পরিকল্পনা তৈরি করেছে। এছাড়া, ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনা রোধে জনসচেতনতা বাড়ানোর জন্য কর্মসূচি চালু করার কথা বলা হয়েছে।

বোমাটিকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ঐতিহাসিক স্মৃতি হিসেবে সংরক্ষণ করার প্রস্তাবও উঠে এসেছে। কিছু বিশেষজ্ঞের মতে, বোমা যদি নিরাপদে নিষ্ক্রিয় করা যায়, তবে তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ঐতিহাসিক নিদর্শন হিসেবে রাখা যেতে পারে। তবে এই প্রস্তাবের বাস্তবায়ন এখনও আলোচনা পর্যায়ে রয়েছে।

বোমা নিষ্ক্রিয়করণ কাজ চলাকালীন এলাকায় কোনো ধরণের অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদেরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তারা নির্ধারিত নিরাপত্তা দূরত্বের বাইরে থেকে কাজ চালিয়ে যাবে। এছাড়া, জরুরি সেবার জন্য প্রয়োজনীয় রাস্তাগুলো পরিষ্কার রাখা হয়েছে।

বোমা নিষ্ক্রিয়করণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বাকি এলাকার স্বাভাবিক কার্যক্রম পুনরায় শুরু করার পরিকল্পনা করেছে। বাসিন্দাদেরকে ভবিষ্যতে অনিরাপদ বস্তু সম্পর্কে সতর্ক থাকতে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে জানাতে আহ্বান জানানো হয়েছে।

এই ঘটনা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অবিস্ফোরিত যুদ্ধবস্তু সংক্রান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্বিবেচনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে সময়মতো পর্যবেক্ষণ ও নিষ্ক্রিয়করণ কাজ সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় সম্পদ ও প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: Banglastream
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments