23 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeস্বাস্থ্যসিলেট লেপ্রোসি হাসপাতালের কাঠামোগত অবনতি ও কর্মী ঘাটতি রোগী সেবাকে বিপন্ন করেছে

সিলেট লেপ্রোসি হাসপাতালের কাঠামোগত অবনতি ও কর্মী ঘাটতি রোগী সেবাকে বিপন্ন করেছে

বিশ্ব লেপ্রোসি দিবসের উপলক্ষে ২৫ জানুয়ারি সিলেটের লেপ্রোসি হাসপাতালকে ঘিরে চলমান সমস্যাগুলো আবারও নজরে এসেছে। দেশের বৃহত্তম লেপ্রোসি রোগী চিকিৎসা কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত এই হাসপাতালটি বর্তমানে কর্মী ঘাটতি এবং পুরনো ভবনের নিরাপত্তা ঝুঁকির সম্মুখীন, যা রোগীর সেবা প্রদানকে কঠিন করে তুলছে।

সিলেট লেপ্রোসি হাসপাতাল ১৮৯০ সালে ৪.৭২ একর জমিতে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং তিন তলা পুরনো ভবনে পরিচালিত হয়। তিনটি সরকারী লেপ্রোসি হাসপাতালের মধ্যে এটি সর্ববৃহৎ, তবে বয়সের প্রভাবের ফলে কাঠামোটি ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়েছে।

সম্প্রতি হাসপাতালের ভেতরে পরিদর্শনের সময় দেয়ালে ফাটল, ছাদে লিক এবং সিলিং থেকে প্লাস্টার ঝরে পড়া দেখা যায়। বৃষ্টির পর ছাদের পানির প্রবাহ বাড়ে, যা ভবনের স্থায়িত্বের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে এবং যে কোনো সময় ধসে পড়ার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়।

হাসপাতালের অনুমোদিত শয্যা সংখ্যা ৮০ হলেও বর্তমানে মাত্র ৪৮টি শয্যা ব্যবহারযোগ্য। তিনটি ওয়ার্ডে বর্তমানে ১৯ জন রোগী ভর্তি রয়েছে, আর আউটপেশেন্ট বিভাগে প্রতিদিন প্রায় ১৫ থেকে ২০ জন রোগী সেবা গ্রহণ করে।

রোগীর মৌলিক সুবিধার অবস্থা তেমনই উদ্বেগজনক। তিনটি শৌচাগারে দরজা ভাঙা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাব এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ লক্ষ্য করা গেছে। রোগীর বিনোদনের জন্য সরবরাহ করা টেলিভিশনগুলোও কাজ করছে না, যা রোগীর মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

সিলেট বিভাগের লেপ্রোসি রোগীর সংখ্যা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে, যার বেশিরভাগই চা বাগানের শ্রমিক পরিবারের সদস্য। এই জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালের উপর চাপ বাড়ছে, বিশেষ করে ডাক্তার ও সহায়ক কর্মীর ঘাটতি রোগীর সেবা মানকে প্রভাবিত করছে।

হাসপাতালের রেকর্ড অনুযায়ী, ২০২০ সালে ২০টি, ২০২১ সালে ৩৭টি, ২০২২ সালে ৩৫টি, ২০২৩ সালে ৭৯টি, ২০২৪ সালে ৫৯টি এবং ২০২৫ সালে ৫৮টি লেপ্রোসি রোগ নির্ণয় করা হয়েছে। এই সংখ্যা রোগের প্রবণতা এবং সেবা চাহিদার পরিবর্তনকে স্পষ্টভাবে প্রকাশ করে।

কর্মী ঘাটতি এবং অবনতি হওয়া কাঠামোর সমাধান না হলে রোগীর নিরাপত্তা ও চিকিৎসার গুণগত মান হ্রাস পাবে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে অবকাঠামো মেরামত, শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধি এবং চিকিৎসা কর্মী নিয়োগে অগ্রাধিকার দিতে আহ্বান জানানো হচ্ছে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
স্বাস্থ্য প্রতিবেদক
স্বাস্থ্য প্রতিবেদক
AI-powered স্বাস্থ্য content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments