27 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধইসলামাবাদে মানবাধিকার কর্মী ও স্বামীকে দশ বছর কারাদণ্ড

ইসলামাবাদে মানবাধিকার কর্মী ও স্বামীকে দশ বছর কারাদণ্ড

ইসলামাবাদে একটি আদালত শনিবার মানবাধিকার কর্মী ইমান মাজারি এবং তার স্বামী হাদি আলি চাট্টাকে সামাজিক মাধ্যমে “রাষ্ট্রবিরোধী” পোস্টের জন্য দশ বছর জেলখানা প্রদান করেছে। ৩২ বছর বয়সী ইমান মাজারি, যিনি সামরিক বাহিনীর নীতির কঠোর সমালোচক, তার এক্স (X) অ্যাকাউন্টে আপত্তিকর বিষয়বস্তু প্রচার করার অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছেন। আদালতের রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে যে উভয়ই সাইবার সন্ত্রাসবাদ এবং মিথ্যা তথ্য প্রচারের মতো তিনটি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়েছে এবং শাস্তি একসাথে কার্যকর হবে।

শাস্তি দেওয়ার এক দিন আগে, পুলিশ দুজনকে আবার গ্রেফতার করে যখন তারা রাজধানীর আদালতে উপস্থিত হতে যাচ্ছিল। গ্রেফতারের সময় উভয়কে ইসলামাবাদ হাই কোর্টের প্রাঙ্গণে আটক রাখা হয়। ইমান মাজারি এবং হাদি আলি উভয়ই আইনজীবী; মাজারি বিশেষ করে সংবেদনশীল মামলায় প্রো বোনো কাজ করেন, যেমন বালুচি জনগণের নিখোঁজ হওয়া, বালুচি কর্মী মেহরং বালুচের রক্ষা, ধর্মদ্রোহী অভিযোগে অভিযুক্তদের প্রতিরক্ষা এবং আফগান শরণার্থীদের অধিকার রক্ষা।

মাজারি শিরীন মাজারির কন্যা, যিনি পূর্বে মানবাধিকার মন্ত্রী ছিলেন, এবং তার পিতামহ দক্ষিণ এশিয়ার শীর্ষ শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ছিলেন। তার পেশাগত পটভূমি ও পারিবারিক পরিচয় তাকে দেশের মানবাধিকার আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুখ করে তুলেছে।

সেনেটের বিরোধী নেতা আল্লামা রাজা নাসির আব্বাস রায়ে উল্লেখ করেন যে উভয় আইনজীবীকে শুধুমাত্র সামাজিক মাধ্যমে রাষ্ট্রের অপব্যবহার সমালোচনা ও হাসিয়া গোষ্ঠীর পক্ষে কথা বলার জন্য দোষারোপ করা হয়েছে। তিনি এক্সে পোস্ট করে লিখেছেন, “এই রায় শান্তিপূর্ণ সমালোচনা ও অধিকার রক্ষার পথে ভয় দেখাবে।”

ইসলামাবাদ হাই কোর্ট বার সমিতির সভাপতি সাইয়দ ওয়াজিদ আলি শাহ গিল্লানি ভিডিওতে জানান যে গ্রেফতারের আগে পুলিশ দুজনকে জোরপূর্বক ধরেছে এবং শারীরিকভাবে হেনস্থা করেছে। ইমান মাজারি এএফপি-কে জানিয়ে বলেন যে তারা অজানা পুলিশ মামলায় গ্রেফতার হওয়ার ভয়ে ছিলেন এবং এটি “গুরুতর অন্যায়” হবে।

দুজনের শাস্তি তিনটি অপরাধের জন্য একসাথে কার্যকর হবে, যার মধ্যে সাইবার সন্ত্রাসবাদ, মিথ্যা তথ্যের ইচ্ছাকৃত প্রচার এবং অন্য এক অপরাধ অন্তর্ভুক্ত। আদালত রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে যে উভয়কে একই সময়ে দশ বছর কারাদণ্ডে পাঠানো হবে।

এই রায়ের পর, মানবাধিকার সংস্থা ও আইনজীবী গোষ্ঠী শাসনের ওপর সমালোচনা বাড়িয়ে তুলেছে, বিশেষ করে স্বাধীন মত প্রকাশের অধিকার ও সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা এই রায়কে দেশের আইনি ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন।

অধিকন্তু, আদালতের রায়ের পরবর্তী পর্যায়ে আপিলের সম্ভাবনা রয়েছে। উভয়ই তাদের শাস্তি চ্যালেঞ্জ করতে পারে এবং উচ্চতর আদালতে রায়ের বৈধতা পরীক্ষা করতে পারে। আইনজীবী গোষ্ঠী ইতিমধ্যে আপিলের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার সহায়তা চাওয়া হয়েছে।

এই ঘটনায় দেশের রাজনৈতিক পরিবেশের তীব্রতা ও মানবাধিকার রক্ষার জন্য আইনজীবীদের মুখোমুখি ঝুঁকি স্পষ্ট হয়েছে। ইমান মাজারি ও হাদি আলি চাট্টার শাস্তি দেশের আইনি ব্যবস্থার স্বাধীনতা ও মানবাধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত মতামত ও সমালোচনার ওপর কঠোর শাস্তি আরোপের ফলে দেশের নাগরিক সমাজের স্বেচ্ছাসেবী কাজ ও সমালোচনামূলক আলোচনা সীমিত হতে পারে। এই রায়ের পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া দেশের আইনি সংস্কার ও মানবাধিকার নীতির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments