আজ প্রকাশিত তালিকায় জামাতের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের অধীনে নির্বাচনের জন্য নিবন্ধিত ২২৪ প্রার্থীর মধ্যে ২০১ জনকে উচ্চশিক্ষিত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এদের অধিকাংশই স্নাতক বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রি ধারণ করে, আর ১০ জনের পিএইচডি ডিগ্রি রয়েছে।
উচ্চশিক্ষিত প্রার্থীদের মধ্যে পিএইচডি ডিগ্রিধারী দশজনের নাম প্রকাশিত হয়েছে। পটুয়াখালী-২ আসনের শফিকুল ইসলাম মাসুদ, ঝালকাঠি-১ আসনের ফয়জুল হক, ঢাকা-৬ আসনের আব্দুল মান্নান, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের ইকবাল হোসাইন ভূঁইয়া, জামালপুর-২ আসনের ছামিউল হক, কুমিল্লা-৫ আসনের মোবারক হোসাইন, কুমিল্লা-৯ আসনের ছৈয়দ এ কে এম সরওয়ার উদ্দীন ছিদ্দিকি এবং লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের রেজাউল করিম এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত।
শিক্ষাগত যোগ্যতার নিম্ন স্তরে থাকা প্রার্থীর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম। তালিকায় সাতজন প্রার্থীকে এইচএসসি পাস হিসেবে, পাঁচজনকে এসএসসি পাস হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া এক প্রার্থী মাধ্যমিকের নিচে কোনো আনুষ্ঠানিক যোগ্যতা না থাকলেও তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
দুইজন প্রার্থী নিজেদের স্বশিক্ষিত ও সাক্ষর জ্ঞানসম্পন্ন বলে হলফনামায় উল্লেখ করেছেন। তারা কোনো আনুষ্ঠানিক ডিগ্রি না থাকলেও স্বশিক্ষার মাধ্যমে জ্ঞান অর্জনের দাবি করেছেন।
শিক্ষাগত তথ্যের স্পষ্টতা না থাকা আটজন প্রার্থীর ক্ষেত্রে হলফনামায় তথ্য অস্পষ্ট রয়ে গেছে, ফলে তাদের শিক্ষাগত স্তর নির্ধারণ করা কঠিন।
পেশাগত দিক থেকে তালিকায় ৭৫ জন প্রার্থীকে শিক্ষকতা তাদের পেশা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এদের মধ্যে বর্তমান শিক্ষক বা পূর্বে শিক্ষকতা করা ব্যক্তিরা অন্তর্ভুক্ত, তবে একাধিক পেশা উল্লেখ করা প্রার্থীরাও রয়েছে; প্রথমে উল্লেখিত পেশা মূল পেশা হিসেবে ধরা হয়েছে।
ব্যবসা ক্ষেত্রের প্রতিনিধিত্বও উল্লেখযোগ্য; ৬৯ জন প্রার্থী তাদের পেশা হিসেবে ব্যবসা উল্লেখ করেছেন। কিছু প্রার্থী একাধিক পেশা উল্লেখ করলেও, তালিকায় প্রথমে উল্লেখিত পেশা প্রধান হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
অন্যান্য পেশা থেকে আইনজীবী, চিকিৎসক, কৃষক, চাকরিজীবী এবং রাজনীতিবিদদের সংখ্যা যথাক্রমে ২৬, ১৬, ১৪, ১১ এবং ৩ জন। এই গোষ্ঠীর মধ্যে একাধিক পেশা উল্লেখ করা প্রার্থীরাও রয়েছে, তবে একই নীতিতে প্রথম উল্লেখিত পেশা মূল হিসেবে গণ্য হয়েছে।
অতিরিক্তভাবে সাতজন প্রার্থীকে অন্যান্য পেশা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যার মধ্যে শিল্প, কৃষি সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রের কাজ অন্তর্ভুক্ত।
প্রার্থীর হলফনামায় পেশা সম্পর্কিত তথ্য না থাকা অথবা অস্পষ্ট থাকা তিনজনের ক্ষেত্রে পেশাগত ব্যাকগ্রাউন্ড নির্ধারণ করা যায়নি।
এই তথ্যগুলো জামাতের প্রার্থী তালিকায় শিক্ষাগত ও পেশাগত বৈচিত্র্যকে তুলে ধরে, যা পার্টির মানবসম্পদ গঠনে একটি নির্দিষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করে। তালিকায় উচ্চশিক্ষিত ও পেশাগতভাবে অভিজ্ঞ প্রার্থীর উচ্চ অনুপাত পার্টির নির্বাচনী কৌশল ও জনমত গঠনে কীভাবে প্রভাব ফেলবে, তা পরবর্তী পর্যায়ে বিশ্লেষণ করা হবে।



