ঢাকা‑১০ নির্বাচনী এলাকার ভোটারদের মধ্যে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হিসেবে উঠে এসেছে। এই ধারা বিশেষ করে দানমন্ডি ও কালাবাগান এলাকায় ঘন ঘন ঘটমান চোরাচালান ও হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে গঠিত। নির্বাচনের তারিখ ঘোষিত হওয়ায় প্রার্থী অনুসন্ধান শুরু করেছে বহু বাসিন্দা, যার মধ্যে রয়েছে এলিফ্যান্ট রোডের বাসিন্দা তানিমা মাহজাবিন।
তানিমা গত কয়েক বছর ধরে দানমন্ডি ও কালাবাগানে কমপক্ষে পাঁচবার চোরাচালানের শিকার হয়েছেন। সর্বশেষ ঘটনার পর তার মোবাইল ফোন হারিয়ে যাওয়ায় তিনি রাজনৈতিক অপরাধের অবসান না হওয়া পর্যন্ত এই ধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয় বলে মনে করছেন।
গত তিনটি জাতীয় নির্বাচনে তিনি ভোট না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, তবে এখন আসন্ন ভোটে অংশগ্রহণের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ভোটের সময় পার্টি বা প্রতীক নির্বিশেষে যোগ্য প্রার্থীকে সমর্থন করা উচিত এবং নারী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সক্ষম প্রার্থীকে ভোট দেবেন।
ঢাকা‑১০ নির্বাচনী এলাকা ঢাকা সাউথ সিটি কর্পোরেশনের ১৪, ১৫, ১৬, ১৭, ১৮, ২২ ও ৫৫ নম্বর ওয়ার্ডগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করে এবং শহরের অন্যতম ‘এলিট’ এলাকায় গণ্য হয়। এই এলাকায় দানমন্ডি লেক, নিউ মার্কেট, জিগাটোলা, ট্যানারি মোড়, সাত মসজিদ রোড, গ্রিন রোড, আবাহনী গ্রাউন্ড, স্কোয়ার হাসপাতাল, শুকরাবাদ, সোবনবাগ, ঢাকা সিটি কলেজ ও ঢাকা কলেজের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থান রয়েছে।
আধুনিক রোড ও উচ্চবিল্ডিংয়ের উপস্থিতি সত্ত্বেও দানমন্ডি ও কালাবাগানে চোরাচালান ও জবরদস্তি ঘটতে থাকে। অপরদিকে হাজারিবাগ, জিগাটোলা ও কামরাঙ্গীরচর মত ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় দীর্ঘস্থায়ী পানিরাবদ্ধতা, গ্যাসের ঘাটতি এবং খেলাধুলার মাঠের অভাবের সমস্যাগুলো বিদ্যমান।
প্রায় ত্রিশ বছর ধরে দানমন্ডির বিভিন্ন স্থানে চা স্টল চালাচ্ছেন মোহাম্মদ কবির, যাকে বারবার রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও স্থানচ্যুতি করা হয়েছে। জীবিকার জন্য তিনি আবার নতুন করে স্টল স্থাপন করেছেন এবং এখন তিনি ঢাকা‑১০ এলাকার ভোটার।
কবিরের মতে দেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা বেকারত্ব, যা অপরাধ, চুরি, চোরাচালান ও মাদকদ্রব্যের ব্যবহারকে ত্বরান্বিত করে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, নতুন সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হওয়া উচিত বেকারত্বের মোকাবেলা, যাতে নিরাপত্তা ও সামাজিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা যায়।
বেকারত্ব, অপরাধ ও অবকাঠামোগত সমস্যার সমন্বয় ভোটারদের জন্য নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার মূল চাবিকাঠি হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই উদ্বেগগুলোই ভোটারদের প্রার্থী নির্বাচনে প্রভাব ফেলবে, বিশেষ করে যারা নারী ও শিশুদের সুরক্ষার বিষয়ে স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।
নির্বাচন কমিশনের সূচি প্রকাশের পর থেকে ঢাকা‑১০ এলাকার বাসিন্দারা প্রার্থী তালিকা বিশ্লেষণ করছেন এবং তাদের নীতি ও কর্মপরিকল্পনা তুলনা করছেন। ভোটাররা আশা করছেন, নতুন সরকার গৃহস্থালী সমস্যাগুলো, যেমন পানিরাবদ্ধতা ও গ্যাসের ঘাটতি, সমাধানে পদক্ষেপ নেবে।
এই প্রেক্ষাপটে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা ভোটারদের জন্য অগ্রাধিকার হয়ে দাঁড়িয়েছে, এবং প্রার্থীদের জন্যও এই বিষয়গুলোকে কেন্দ্র করে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি গঠন করা জরুরি। ভোটের ফলাফল শহরের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিবেশ ও সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।
আসন্ন নির্বাচনের ফলাফল ঢাকা‑১০ এলাকার ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করবে, বিশেষ করে নিরাপত্তা, বেকারত্ব ও অবকাঠামো সংক্রান্ত সমস্যার সমাধানে সরকার কতটা কার্যকরী হবে তা নির্ণয় করবে। ভোটারদের প্রত্যাশা স্পষ্ট: একটি শক্তিশালী, নিরাপদ ও সমৃদ্ধ ঢাকা‑১০।



