23 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিইউএস পেন্টাগন নতুন জাতীয় প্রতিরক্ষা কৌশল প্রকাশ, মিত্রদের সহায়তা সীমিত করবে

ইউএস পেন্টাগন নতুন জাতীয় প্রতিরক্ষা কৌশল প্রকাশ, মিত্রদের সহায়তা সীমিত করবে

ইউএস পেন্টাগন শুক্রবার ২০২৬ সালের জাতীয় প্রতিরক্ষা কৌশল (NDS) প্রকাশ করে, যেখানে মার্কিন সামরিক বাহিনী দেশের নিরাপত্তা রক্ষা ও চীনকে নিরুত্সাহিত করার দিকে অগ্রাধিকার দেবে এবং ইউরোপ ও অন্যান্য অঞ্চলে মিত্রদের সহায়তা সীমিত করবে বলে জানানো হয়েছে।

নতুন কৌশলে বলা হয়েছে, মার্কিন বাহিনী ঘরোয়া রক্ষা ও ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করবে, আর মিত্র দেশগুলোকে নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বেশি দায়িত্ব নিতে হবে, যদিও আমেরিকান বাহিনীর সমর্থন এখনও গুরুত্বপূর্ণ থাকবে, তবে তা পূর্বের তুলনায় কম হবে।

কৌশল নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, “মার্কিন বাহিনী ঘরোয়া রক্ষা ও ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে মনোযোগ দিলে, অন্যত্র আমাদের মিত্র ও অংশীদাররা নিজেদের রক্ষার প্রধান দায়িত্ব নেবে, এবং আমেরিকান বাহিনীর সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ হলেও সীমিত থাকবে।” এই বক্তব্য নতুন নীতির মূল দিক নির্দেশ করে।

পূর্বের জাতীয় প্রতিরক্ষা কৌশল, যা জো বাইডেনের শাসনামলে প্রকাশিত হয়েছিল, তাতে চীনকে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল এবং রাশিয়াকে তীব্র হুমকি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল।

নতুন নথিতে চীনের সঙ্গে “সম্মানজনক সম্পর্ক” বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে, তবে তাইওয়ানের কোনো উল্লেখ করা হয়নি, যা চীন দাবি করে। রাশিয়ার হুমকি এখন “ন্যাটোর পূর্বীয় সদস্যদের প্রভাবিত করা একটি স্থায়ী কিন্তু নিয়ন্ত্রণযোগ্য” হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

যদিও উভয় কৌশলই ঘরোয়া রক্ষাকে গুরুত্বপূর্ণ বলে জোর দেয়, তবে হুমকির প্রকৃতি ও তীব্রতা নিয়ে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি উল্লেখযোগ্যভাবে ভিন্ন। জো বাইডেনের নীতিতে চীনকে সর্বোচ্চ চ্যালেঞ্জ এবং রাশিয়াকে তীব্র হুমকি হিসেবে দেখা হয়, আর ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতি এখন চীনের সঙ্গে সম্পর্ককে শীতল না করে সম্মানজনক রাখার দিকে মনোযোগ দেয় এবং রাশিয়ার হুমকিকে নিয়ন্ত্রণযোগ্য বলে চিহ্নিত করে।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের শাসনামলে প্রকাশিত NDS পূর্ববর্তী শাসনের সীমিত সীমানা নিরাপত্তা নীতির সমালোচনা করে, যেখানে সীমান্ত রক্ষা না করার ফলে “অবৈধ অভিবাসীদের বন্যা” এবং মাদক পাচার বাড়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

নতুন কৌশলে সীমান্ত নিরাপত্তাকে “জাতীয় নিরাপত্তা” হিসেবে উল্লেখ করে, এবং মার্কিন সামরিক বাহিনীকে সীমান্ত সিল করা, আক্রমণের রূপ প্রতিহত করা এবং অবৈধ অভিবাসীদের দেশ থেকে বহিষ্কারের অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

আবহাওয়া পরিবর্তনের ঝুঁকি বা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের কোনো উল্লেখ নতুন নথিতে নেই, যা পূর্বের কৌশলে অন্তর্ভুক্ত ছিল না।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলের সঙ্গে সাদৃশ্য রেখে, এই NDS ল্যাটিন আমেরিকাকে যুক্তরাষ্ট্রের অগ্রাধিকার তালিকায় শীর্ষে রাখে এবং এটিকে “মোন্রো ডকট্রিনের ট্রাম্প সংশোধনী” বলে উল্লেখ করে, যা দুই শতাব্দী পুরনো মোন্রো নীতির আধুনিক ব্যাখ্যা।

নতুন কৌশল ন্যাটো এবং ইউরোপীয় মিত্রদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সংকেত বহন করে; সীমিত সমর্থনের ফলে তারা নিজেদের রক্ষা করার ক্ষমতা বাড়াতে হবে, আর যুক্তরাষ্ট্রের ঘরোয়া ও ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় ফোকাসের ফলে সামরিক সম্পদ পুনর্বণ্টন হবে।

বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন, এই নীতি বাস্তবায়ন হলে ন্যাটোর পূর্বীয় সীমানায় রাশিয়ার সঙ্গে সামরিক ব্যয় ও প্রস্তুতি পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে, এবং ইউরোপীয় মিত্রদের যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজেদের প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা শক্তিশালী করতে হবে।

সামগ্রিকভাবে, ইউএস পেন্টাগনের নতুন জাতীয় প্রতিরক্ষা কৌশল ঘরোয়া নিরাপত্তা, ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় কৌশল এবং মিত্রদের উপর বাড়তি দায়িত্বের ওপর জোর দেয়, যা ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক সামরিক অবস্থান ও মিত্র-সংগঠনের গতিবিধিতে প্রভাব ফেলবে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments