ঢাকা, ২৪ জানুয়ারি ২০২৬ – জামাতের বর্তমান আমির তার ফেসবুক পেজে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জামাতের সম্পর্ককে “বিপজ্জনক অশনিসংকেত” হিসেবে চিহ্নিত করে সতর্কতা প্রকাশ করেছেন। এই মন্তব্যের সঙ্গে সঙ্গে তিনি আরাফাত রহমান কোকোর ১১তম মৃত্যুবার্ষিকি পালন করে শোক প্রকাশের পাশাপাশি দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে উত্থাপিত নতুন প্রশ্নের ইঙ্গিত দিয়েছেন।
জামাতের আমিরের প্রকাশনা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের নীতি ও কর্মকাণ্ড জামাতের স্বার্থের সঙ্গে সরাসরি বিরোধপূর্ণ এবং এই বিরোধের ফলে দেশের নিরাপত্তা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা হুমকির মুখে পড়তে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, “আমরা কারো লাল চোখকে ভয় করি না” এবং যুক্তরাষ্ট্রের কোনো চাপের সামনে মাথা নত করব না। এই বক্তব্যটি জামাতের সামাজিক মিডিয়া পেজে প্রকাশের পর দ্রুত শেয়ার ও মন্তব্যের স্রোত তৈরি করে।
একই দিনে, জামাতের আমির আরাফাত রহমান কোকোর ১১তম মৃত্যুবার্ষিকি স্মরণে শোকস্মরণে অংশগ্রহণ করেন। তিনি কোকোর সমাধিস্থলে গিয়ে শোক প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে কোকোর ত্যাগের মূল্যকে জোর দিয়ে বলেন, “জীবন যাবে, কিন্তু অন্যায়ের সামনে মাথা নত করব না”। এই শোকস্মরণে উপস্থিত ছিলেন জামাতের বিভিন্ন স্তরের নেতা ও সমর্থকগণ, যারা কোকোর রাজনৈতিক ও ধর্মীয় অবদানের প্রশংসা করেন।
শোকস্মরণে উপস্থিতদের সঙ্গে আলাপের সময়, জামাতের আমির শাবান ১৪৪৭ (মাঘ ১৪৩২) তার সামাজিক মিডিয়া পেজে একটি সিরিজ পোস্ট করেন, যেখানে তিনি দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক বিষয়ের ওপর তার মতামত প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, “শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করা আমাদের জন্য গর্বের বিষয়” এবং দেশের কৃষি শিল্পকে উন্নত করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। এছাড়া তিনি ফেক ফ্যামিলি কার্ডের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দেন, “ফেক কার্ড ব্যবহার করলে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করা হবে” বলে সতর্কতা জানান।
জামাতের আমিরের এই প্রকাশনা দেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জামাতের সম্পর্কের ওপর এই ধরনের তীব্র মন্তব্য দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়াতে পারে, বিশেষ করে আসন্ন নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে। যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারক ও কূটনৈতিক দপ্তর এই মন্তব্যের প্রতি কীভাবে সাড়া দেবে তা এখনো স্পষ্ট নয়, তবে পূর্বে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু কর্মকর্তার সঙ্গে জামাতের নেতাদের বৈঠক ও আলোচনার রেকর্ড রয়েছে।
অধিকন্তু, জামাতের আমিরের প্রকাশনা দেশের বিদেশি ভ্রমণ সংক্রান্ত সতর্কতাও অন্তর্ভুক্ত করে। তিনি যুক্তরাজ্যের নির্বাচনের আগে বাংলাদেশী নাগরিকদের সতর্ক করেন, “যুক্তরাজ্যের নির্বাচনের সময় ভ্রমণ করলে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়তে পারে”। এই সতর্কতা তার ফেসবুক পোস্টে উল্লেখিত হয়েছে এবং সামাজিক মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে।
জামাতের আমিরের এই ধারাবাহিক প্রকাশনা দেশের নিরাপত্তা সংস্থা ও কূটনৈতিক মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। নিরাপত্তা সংস্থা ইতিমধ্যে এই ধরনের প্রকাশনা পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের সম্ভাবনা প্রকাশ করেছে। কূটনৈতিক মন্ত্রণালয়ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ওপর প্রভাব মূল্যায়নের জন্য একটি অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনা চালু করেছে।
এই ঘটনাগুলোর পরিপ্রেক্ষিতে, জামাতের সমর্থকগণ এবং বিরোধী গোষ্ঠীর মধ্যে মতবিরোধ তীব্রতর হয়েছে। সমর্থকরা জামাতের আমিরের বক্তব্যকে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় বলে প্রশংসা করেন, আর বিরোধীরা এটিকে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ানোর প্রচেষ্টা হিসেবে সমালোচনা করেন। উভয় পক্ষই সামাজিক মিডিয়ায় সক্রিয়ভাবে তাদের মতামত প্রকাশ করে চলেছে।
সংক্ষেপে, জামাতের আমিরের যুক্তরাষ্ট্র-জামাত সম্পর্কের ওপর সতর্কতা, আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যুবার্ষিকি শোকস্মরণ এবং বিদেশি ভ্রমণ সংক্রান্ত সতর্কতা একসঙ্গে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন আলোচনার সূচনা করেছে। এই বিষয়গুলো ভবিষ্যতে কীভাবে বিকশিত হবে এবং দেশের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক নীতিনির্ধারণে কী প্রভাব ফেলবে, তা সময়ই প্রকাশ করবে।



