22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিজগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রীড়া মাঠে জামায়াত-এ-ইসলামি সমাবেশের কারণে আন্তঃবিভাগ ফুটবল ম্যাচ স্থগিত

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রীড়া মাঠে জামায়াত-এ-ইসলামি সমাবেশের কারণে আন্তঃবিভাগ ফুটবল ম্যাচ স্থগিত

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ক্রীড়া মাঠ ধূপখোলায় চলমান আন্তঃবিভাগ ফুটবল প্রতিযোগিতা, জামায়াত-এ-ইসলামি নেতৃত্বাধীন দশ দলীয় জোটের নির্বাচনী সমাবেশের পরিকল্পনা প্রকাশের পর রোববারের সব ম্যাচ স্থগিতের সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে। সিদ্ধান্তটি শনিবার রাতেই নেওয়া হয়, যখন ছাত্রদের মধ্যে সমাবেশের অনুমোদন নিয়ে তীব্র বিতর্ক গড়ে ওঠে।

সমাবেশের তারিখ ও সময় নির্ধারিত হয়েছিল আগামীকাল দুপুর ২টায়, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রীড়া কমিটির অনুমোদন ছাড়া মাঠে অনুষ্ঠিত হতে চায়। একই সময়ে আন্তঃবিভাগীয় ফুটবল টুর্নামেন্টের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে ছাত্রদের দাবি ছিল যে ক্রীড়া ও রাজনৈতিক কার্যক্রম একসাথে করা উচিত নয়।

বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (জকসু) ক্রীড়া সম্পাদক মোহাম্মদ জর্জিস আনোয়ার নাঈম ফেসবুকে সমাবেশের পোস্ট শেয়ার করার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। পোস্টে তিনি “আগামীকাল দুপুর ২টায়, ইনশাআল্লাহ” লিখে সমাবেশের সময়সূচি জানিয়েছিলেন, যা ছাত্র সমাজে অসন্তোষের সঞ্চার করে।

বিভিন্ন বিভাগীয় ছাত্ররা সমাবেশের অনুমোদনকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রীড়া নীতি লঙ্ঘন হিসেবে চিহ্নিত করে। ইতিহাস বিভাগের রায়হান হাসান রাব্বি ফেসবুকে লিখে উল্লেখ করেন, ক্রীড়া কমিটি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পদ্ধতিকে অযৌক্তিক বলে সমালোচনা করেন এবং কোনো লিখিত অনুমতি ছাড়া মাঠে সমাবেশের প্রচেষ্টা ক্ষমতা প্রদর্শনের চেষ্টা বলে ব্যাখ্যা করেন।

অন্যদিকে, লোকপ্রশাসন বিভাগের আল শাহরিয়ার শাওন একই প্ল্যাটফর্মে উল্লেখ করেন, যে একই মাঠে আগামীকাল আন্তঃবিভাগীয় ফুটবল ম্যাচের পাশাপাশি জামায়াত-এ-ইসলামি সমাবেশের স্টেজ গঠন করা হচ্ছে, যা মাঠের অবস্থা ও খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা উপেক্ষা করে।

জকসু ক্রীড়া সম্পাদক জর্জিস আনোয়ার নাঈম মিডিয়াকে জানান, তার পোস্টের ফলে ছাত্রদের মধ্যে অস্বস্তি সৃষ্টি হয়েছে এবং তিনি ছাত্রদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, যদিও এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি, তবে এক দিনের বেশি ম্যাচ স্থগিত না রাখার জন্য সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রীড়া কমিটির সূচি অনুযায়ী রোববারের ম্যাচগুলোতে দর্শন ও মনোবিজ্ঞান, আইন ও ভূমি প্রশাসন বনাম রসায়ন, এবং লোকপ্রশাসন বনাম পরিসংখ্যান বিভাগের দলগুলো মুখোমুখি হওয়ার কথা ছিল। তবে সমাবেশের সম্ভাব্যতা ও ছাত্রদের প্রতিবাদ বিবেচনা করে এই সব ম্যাচ স্থগিত করা হয়েছে।

ছাত্র সমাজের এই প্রতিবাদে দেখা যায় যে ক্রীড়া ও রাজনৈতিক কার্যক্রমের সমন্বয় নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতি ও পরিচালনা পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। ছাত্রদের মতে, একাডেমিক ও ক্রীড়া কার্যক্রমের স্বতন্ত্রতা বজায় রাখা উচিত, যাতে শিক্ষার পরিবেশে কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ না হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এখনো সমাবেশের অনুমোদন বা বাতিলের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রকাশ করেনি, তবে ক্রীড়া কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রোববারের সব ম্যাচ স্থগিত রাখা হয়েছে। ভবিষ্যতে সমাবেশের সময়সূচি ও ক্রীড়া কার্যক্রমের সমন্বয় কীভাবে করা হবে, তা নিয়ে আলোচনা অব্যাহত থাকবে।

এই ঘটনাটি দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রীড়া ও রাজনৈতিক কার্যক্রমের সমন্বয় নিয়ে আলোচনার দিকেও প্রভাব ফেলতে পারে। যদি সমাবেশের অনুমোদন না হয়, তবে আন্তঃবিভাগীয় ফুটবল টুর্নামেন্ট পুনরায় শুরু হতে পারে এবং ছাত্রদের দাবির স্বীকৃতি পাওয়া যাবে। অন্যদিকে, সমাবেশ অনুমোদিত হলে ক্রীড়া কমিটির সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে হতে পারে।

সারসংক্ষেপে, জামায়াত-এ-ইসলামি সমাবেশের পরিকল্পনা এবং ছাত্রদের তীব্র প্রতিবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রীড়া কমিটিকে রোববারের সব ম্যাচ স্থগিতের দিকে ধাবিত করেছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে ক্রীড়া ও রাজনৈতিক কার্যক্রমের সমন্বয় নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতি পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন হবে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments