28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধযুক্তরাজ্যে ইমরান খান ঘনিষ্ঠদের ওপর হামলার ষড়যন্ত্রে তিন ব্রিটিশকে রিমান্ডে পাঠানো

যুক্তরাজ্যে ইমরান খান ঘনিষ্ঠদের ওপর হামলার ষড়যন্ত্রে তিন ব্রিটিশকে রিমান্ডে পাঠানো

লন্ডনের ওয়েস্টমিনস্টার ম্যাজিস্ট্রেটস আদালত গত শনিবার তিন ব্রিটিশ নাগরিককে রিমান্ডে পাঠিয়ে, ১৩ ফেব্রুয়ারি ওল্ড বেইলি আদালতে পুনরায় হাজির করার নির্দেশ দেয়। অভিযুক্তরা পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের ঘনিষ্ঠদের লক্ষ্য করে হিংসাত্মক পরিকল্পনা গড়ে তোলার অভিযোগে গ্রেফতার হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছর ২৪ ডিসেম্বর, ক্রিসমাসের প্রাক্কালে, এই তিনজন প্রায় একই সময়ে দু’টি পৃথক বাড়িতে প্রবেশের চেষ্টা করে। প্রথমটি ছিল ক্যামব্রিজের মধ্য ইংল্যান্ডে, যেখানে সাবেক উপদেষ্টা শেহজাদ আকবর তার বাড়িতে একাধিক আঘাতের শিকার হন। মুখোশ পরা এক ব্যক্তি নাম ধরে ডাক দিয়ে দরজা খুলে, আকবরকে শারীরিকভাবে আঘাত করে।

একই সময়ে, লন্ডনের উত্তরপশ্চিমের চেশাম এলাকায়, আরেকটি বাড়িতে ইউটিউবার ও সামরিক কর্মকর্তা রায়ের পূর্বের সহকর্মী আদিল রাজার বাড়ির বাইরে দুই ব্যক্তি তার নাম ধরে ডাকে এবং প্রবেশের চেষ্টা করে। রাজার বাড়িতে সেই সময়ে কেউ উপস্থিত না থাকলেও, প্রবেশের প্রচেষ্টা রেকর্ড হয়।

আকবরের বাড়িতে ঘটনার পর, একই সপ্তাহে দুই অপরিচিত ব্যক্তি জানালায় আঘাত হানা এবং জ্বলন্ত কাপড়ের টুকরা ঢুকিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। যদিও কোনো উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়নি, সন্দেহ করা হচ্ছে যে এক ব্যক্তির হাতে আগ্নেয়াস্ত্র ছিল।

সন্ত্রাসবিরোধী কার্যালয় ঘটনাটিকে “উদ্দেশ্যমূলক হামলার” ধরনে শ্রেণিবদ্ধ করে তদন্ত শুরু করে। তদন্তের অংশ হিসেবে, পুলিশ আরও তিনজন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করে, তবে তাদের মধ্যে কেউই এখনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগের মুখে পড়েনি; কিছুকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

অভিযুক্তদের মধ্যে ৪০ বছর বয়সী কার্ল ব্ল্যাকবার্ডের বিরুদ্ধে দুটি অভিযোগ, ৩৯ বছর বয়সী ক্রিস ম্যাকঅলের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ এবং ২১ বছর বয়সী ডোনেটো ব্রামারের বিরুদ্ধে আগ্নেয়াস্ত্র রাখা ও অগ্নিসংযোগের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে।

ব্রিটিশ আদালত রিমান্ডে পাঠানোর পাশাপাশি, অভিযুক্তদের ১৩ ফেব্রুয়ারি ওল্ড বেইলি আদালতে উপস্থিত হতে হবে বলে নির্দেশ দেয়। রিম্যান্ডের সময়কাল ও শর্তাবলী আদালত নির্ধারণ করবে, যা পরবর্তী বিচার প্রক্রিয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ দিক।

ইমরান খানকে অনলাইনে সমর্থন দেখানোর ফলে সন্ত্রাসবাদ সংক্রান্ত মামলায় তার এক সহকর্মী, যিনি পূর্বে সামরিক কর্মকর্তা এবং বর্তমানে ইউটিউবার, পাকিস্তানের আদালতে কারাদণ্ড পেয়েছিলেন। এই প্রেক্ষাপটেও যুক্তরাজ্যের তদন্তের গুরুত্ব বাড়ে।

পুলিশের মতে, হামলার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় একাধিক ধাপ ছিল, যার মধ্যে নাম ধরে ডাক দিয়ে দরজা খুলে প্রবেশের চেষ্টা, শারীরিক আক্রমণ এবং আগ্নেয়াস্ত্রের সম্ভাব্য ব্যবহার অন্তর্ভুক্ত। এসব কাজের মাধ্যমে লক্ষ্যবস্তুদের ভয় দেখানোর উদ্দেশ্য স্পষ্ট।

সন্ত্রাসবিরোধী অফিসের তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্তদের মধ্যে কিছু ব্যক্তি পূর্বে উগ্র গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং ইমরান খান ও তার ঘনিষ্ঠদের প্রতি শত্রুতা প্রকাশ করতেন। তবে এই সংযোগের বিস্তারিত এখনো প্রকাশিত হয়নি।

ব্রিটিশ আইন অনুযায়ী, সন্ত্রাসবিরোধী অপরাধে অভিযুক্তদের রিমান্ডে পাঠানো মানে তারা বিচার পর্যন্ত জেলখানায় রাখা হবে না, তবে পুলিশ তাদের তত্ত্বাবধানে রাখবে। রিম্যান্ডের শর্তে যোগাযোগের সীমাবদ্ধতা, ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা এবং নিয়মিত চেক-ইন অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।

পরবর্তী আদালত শোনার তারিখে, বিচারক রিম্যান্ডের শর্তাবলী নির্ধারণের পাশাপাশি, অভিযোগের গুরত্ব ও প্রমাণের ভিত্তিতে প্রাথমিক শাস্তি নির্ধারণের সম্ভাবনা রয়েছে। যদি অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তবে অভিযুক্তদের জন্য দীর্ঘমেয়াদী কারাদণ্ডের সম্ভাবনা রয়েছে।

এই মামলায় যুক্তরাজ্য ও পাকিস্তানের নিরাপত্তা সংস্থার সমন্বিত নজরদারি স্পষ্ট, যা আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবিরোধী সহযোগিতার উদাহরণ দেয়। ভবিষ্যতে সমজাতীয় হুমকি রোধে উভয় দেশের আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সমন্বিত পদক্ষেপের প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

৮৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডিনিউজ২৪
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments