বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের একটি কর্মকর্তা শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) জানিয়েছেন যে বোর্ডের ইন্টেগ্রিটি ইউনিট বর্তমান বোর্ড পরিচালক মোহাম্মদ মোখলেশুর রহমানের বিরুদ্ধে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের অভিযোগ নিয়ে তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করতে প্রস্তুত। অভিযোগগুলো দেশের একমাত্র ফ্র্যাঞ্চাইজি ভিত্তিক টি২০ টুর্নামেন্ট বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) সম্পর্কিত এবং তদন্তের লক্ষ্য হল ক্রীড়া ন্যায়বিচার রক্ষা করা।
মোখলেশুরের ফিক্সিং জড়িত থাকার তথ্য প্রথমবার প্রকাশ পায় ইউটিউব চ্যানেল রিয়াসাত আজিমের ভিডিওতে, যেখানে তিনি বৃহস্পতিবার প্রকাশিত একাধিক ফোন রেকর্ড শেয়ার করেন। রেকর্ডগুলোতে দেখা যায় মোখলেশুর এবং নোয়াখালি এক্সপ্রেসের চেয়ারম্যান তৌহিদুল হক তৌহিদের মধ্যে কথোপকথন, যেখানে মোখলেশুর স্পষ্টভাবে ম্যাচের ফলাফল ও খেলার ধরণ নির্ধারণের নির্দেশ দেন। এই ধরনের নির্দেশনা ক্রিকেটের স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচারকে ক্ষুণ্ন করার সম্ভাবনা তৈরি করে।
ইন্টেগ্রিটি ইউনিটের প্রধান অ্যালেক্স মার্শাল ইতিমধ্যে তদন্তের সূচনা করেছেন এবং একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের অডিট কমিটি থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন। মার্শালকে এই পদত্যাগের কারণ হিসেবে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করা হয়। বোর্ডের একটি মুখপাত্র ক্রিকবাজকে নিশ্চিত করেন যে মার্শাল তদন্তের সব দিক তত্ত্বাবধান করবেন।
মোখলেশুরের নির্বাচনী পটভূমি উল্লেখযোগ্য; তিনি গত বছর অক্টোবর ৬ তারিখে রাজশাহী জেলা স্পোর্টস অ্যাসোসিয়েশনের অধীনে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা স্পোর্টস অ্যাসোসিয়েশন থেকে নির্বাচিত হন। এই নির্বাচনের মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের বোর্ড সদস্যের পদে অধিষ্ঠিত হন এবং একই সময়ে বিভিন্ন কমিটিতে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
তদন্তের সময় মোখলেশুর নিজে থেকেই অডিট কমিটি ও অন্যান্য দায়িত্ব থেকে পদত্যাগের কথা জানান। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে তিনি বোর্ডের পরিচালক পদে থাকবেন, তবে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নিজের দায়িত্ব থেকে সরে যাবেন। তার বক্তব্যে তিনি একটি পরিষ্কার ও নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানান, যাতে কোনো পক্ষপাতিত্ব না থাকে।
ইন্টেগ্রিটি ইউনিটের তদন্তের পরিধি ব্যাপক হওয়ার কথা। ফোন কলের রেকর্ড, আর্থিক লেনদেনের ট্রেস এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) এর অ্যান্টি-করাপশন কোডের সম্ভাব্য লঙ্ঘনগুলো বিশ্লেষণ করা হবে। এই প্রক্রিয়ায় কোনো গোপনীয় তথ্য প্রকাশ না করে যথাযথ আইনি পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে।
ক্রিকবাজ পূর্বে নোয়াখালি এক্সপ্রেসের ফিক্সিং অভিযোগ নিয়ে রিপোর্ট প্রকাশ করেছিল, যেখানে একই সময়ে দলটির অভ্যন্তরীণ যোগাযোগের কিছু অংশ উন্মোচিত হয়েছিল। সেই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল যে দলটির কিছু সদস্যের সঙ্গে অনিয়মিত আর্থিক লেনদেনের ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল। বর্তমান তদন্তে সেই পূর্বের তথ্যের সঙ্গে নতুন প্রমাণের তুলনা করা হবে।
বিপিএল এই মুহূর্তে চলমান এবং দেশের ক্রিকেট ভক্তদের মধ্যে উচ্চ প্রত্যাশা রয়েছে। ফিক্সিংয়ের অভিযোগ যদি প্রমাণিত হয়, তবে তা টুর্নামেন্টের সুনাম ও অংশগ্রহণকারী দলের ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের ইন্টেগ্রিটি ইউনিটের দ্রুত ও নির্ভুল কাজের প্রত্যাশা রয়েছে, যাতে ক্রিকেটের স্বচ্ছতা বজায় থাকে এবং ভক্তদের আস্থা পুনরুদ্ধার হয়।
এই তদন্তের ফলাফল ও পরবর্তী পদক্ষেপগুলো সম্পর্কে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের অফিসিয়াল ঘোষণার অপেক্ষা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে আইনগত প্রক্রিয়ার অধীনে কাজ করতে হবে এবং কোনো ধরণের হস্তক্ষেপ না করা নিশ্চিত করতে হবে। ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ রক্ষার জন্য এই ধরনের তদন্তের গুরুত্ব অপরিসীম, এবং সকল স্টেকহোল্ডারকে সহযোগিতা করতে আহ্বান জানানো হয়েছে।



