ঢাকার অন্যতম বৃহৎ আর্থিক প্রতিষ্ঠান ওয়ান ব্যাংক, মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য কোটিপতি সঞ্চয় পরিকল্পনা চালু করেছে। এই স্কিমের মাধ্যমে নির্দিষ্ট প্রাথমিক জমা ও মাসিক কিস্তি পরিশোধের মাধ্যমে সর্বোচ্চ পনেরো বছরের মধ্যে এক কোটি টাকা সঞ্চয় করা সম্ভব। পরিকল্পনা দেশের বিভিন্ন ব্যাংকের সঞ্চয় পণ্যের মধ্যে নতুন দৃষ্টিকোণ এনে দিচ্ছে, যেখানে উচ্চ সম্পদের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপান্তরিত করার লক্ষ্য রয়েছে।
প্রাথমিক জমার পরিমাণ চারটি স্তরে নির্ধারিত: দুই, পাঁচ, সাত এবং দশ লাখ টাকা। সর্বোচ্চ দশ লাখ টাকা প্রাথমিক জমা দিলে, পনেরো বছরের মেয়াদে কোটিপতি হতে চাইলে মাসিক কিস্তি ১১,২৮৩ টাকা পরিশোধ করতে হবে। এই ক্ষেত্রে সুদের হার বার্ষিক একাদশ শতাংশ নির্ধারিত, যা প্রাথমিক জমা সহ স্কিমে দশ থেকে একাদশ শতাংশের মধ্যে পরিবর্তিত হয়।
সর্বনিম্ন দুই লাখ টাকা প্রাথমিক জমা দিয়ে, যদি পাঁচ বছরের মেয়াদে এক কোটি টাকা লক্ষ্য করা হয়, তবে মাসিক কিস্তি ১,২৫,৫৭৫ টাকা হতে হবে। একইভাবে, প্রাথমিক জমা না রেখে সর্বোচ্চ পনেরো বছরের মেয়াদে কোটিপতি হতে চাইলে মাসিক কিস্তি ২২,৪৯৪ টাকা এবং পাঁচ বছরের মেয়াদে ১,২৯,৮০৪ টাকা নির্ধারিত। এই সংখ্যা গুলো স্কিমের নমনীয়তা ও বিভিন্ন আর্থিক সক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ার ইঙ্গিত দেয়।
বাজারে বিভিন্ন ব্যাংক সঞ্চয় পণ্য প্রচার করে, তবে ওয়ান ব্যাংকের এই স্কিমের মূল বৈশিষ্ট্য হল দীর্ঘমেয়াদী সম্পদ গঠনকে সহজ করা। তবে সঞ্চয় বা বিনিয়োগের আগে ব্যাংকের আর্থিক স্থিতিশীলতা, গ্রাহক সেবা এবং পণ্যের শর্তাবলী বিশদভাবে পর্যালোচনা করা জরুরি। দুর্বল আর্থিক প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করলে গ্রাহককে আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকি বাড়তে পারে।
সঞ্চয়ের মৌলিক নীতি হল ব্যয় করার আগে নির্ধারিত পরিমাণ সঞ্চয় করা, অর্থাৎ আয়ের একটি অংশকে আগে থেকেই সঞ্চয়ের জন্য আলাদা করে রাখা। এই পদ্ধতি দীর্ঘমেয়াদে সঞ্চয়ের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সহায়তা করে এবং স্কিমের মাসিক কিস্তি সময়মতো পরিশোধের ভিত্তি তৈরি করে। আয় বাড়াতে না পারলে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমিয়ে সঞ্চয়ের পরিমাণ বাড়ানো উচিত।
ওয়ান ব্যাংকের কোটিপতি স্কিমের বাজারগত প্রভাব বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এটি মধ্যবিত্তের সম্পদ সঞ্চয়ের নতুন পথ খুলে দিচ্ছে। উচ্চ সম্পদের স্বপ্নকে বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক শৃঙ্খলা ও পরিকল্পনা এখন সহজলভ্য হচ্ছে। তবে সুদের হার ১০-১১ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকায় মুদ্রাস্ফীতি ও বাজারের পরিবর্তন স্কিমের রিটার্নকে প্রভাবিত করতে পারে। তাই গ্রাহকদের উচিত স্কিমের শর্তাবলী ও ভবিষ্যৎ আর্থিক প্রবণতা সম্পর্কে সচেতন থাকা।
দীর্ঘমেয়াদে কোটিপতি স্কিমের সফলতা নির্ভর করবে গ্রাহকের নিয়মিত কিস্তি পরিশোধের সক্ষমতা এবং ব্যাংকের আর্থিক স্বাস্থ্যের ওপর। যদি ব্যাংক সুদ প্রদান এবং মূলধন রক্ষার ক্ষেত্রে ধারাবাহিকতা বজায় রাখে, তবে স্কিমটি মধ্যবিত্তের সম্পদ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। অন্যদিকে, সুদের হার বৃদ্ধি বা ব্যাংকের আর্থিক সংকট স্কিমের আকর্ষণ কমিয়ে দিতে পারে।
সারসংক্ষেপে, ওয়ান ব্যাংকের কোটিপতি স্কিম প্রাথমিক জমা ও মাসিক কিস্তির বিভিন্ন বিকল্প প্রদান করে, যা বিভিন্ন আর্থিক সক্ষমতার গ্রাহকের জন্য উপযোগী। স্কিমের সফল বাস্তবায়নের জন্য ব্যাংকের স্বচ্ছতা, গ্রাহকের আর্থিক পরিকল্পনা এবং বাজারের সুদ প্রবণতা পর্যবেক্ষণ অপরিহার্য। ভবিষ্যতে যদি মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং ব্যাংকের আর্থিক অবস্থা শক্তিশালী থাকে, তবে এই ধরনের দীর্ঘমেয়াদী সঞ্চয় পণ্য দেশের সম্পদ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি হয়ে উঠতে পারে।



